চোটের কারণে ঘরের মাঠে ঠিকমতো অনুশীলন করতে পারেননি। এমনকি ২৪ জানুয়ারি দলের সঙ্গে যেতে পারেননি একই বিমানে অস্ট্রেলিয়ায়। দলের সঙ্গে না যেতে পারায় মনটা তাঁর খারাপই ছিল। তার চেয়েও বেশি দুশ্চিন্তা ছিল চোট নিয়ে—ফিট হয়ে সঠিক সময়ে মাঠে ফিরতে পারবেন তো? তামিম ইকবাল ফিরলেন। তবে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে ঠিক ছন্দে পাওয়া গেল না তাঁকে। আর তা নিয়ে কত সমালোচনা!
তামিমের ব্যাট অবশেষে হাসল আজ নেলসনে, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। দারুণভাবে চেনালেন নিজেকে। স্বাভাবিকভাবে তামিম ভাসছেন স্তুতিবন্যায়। খেলাধুলায় একটা কথা বেশ প্রচলিত, ‘দর্শকদের স্মৃতি গোল্ড ফিশের মতো।’ দর্শকের কাছে বর্তমানই মুখ্য, বেমালুম ভুলে বসেন অতীতের সব কীর্তি–অর্জন। বাংলাদেশ ওপেনারের তাই অনুরোধ, কেবল সুসময়ে নয়, দর্শকেরা পাশে থাকুন দুঃসময়েও।
মানুকা ওভালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৯ ও এমসিজিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ‘ডাক’ মেরে ফেরার পর তামিমকে নিয়ে প্রচুর সমালোচনা। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভরে উঠেছিল তামিমকে নিয়ে নানা ব্যঙ্গাত্মক লেখা, ছবি আর মন্তব্যে। দুই ম্যাচে বাজে পারফর্মে ভীষণ চাপেই ছিলেন তামিম। সেটি স্বীকারও করলেন। কিন্তু কীভাবে দুঃসময় কাটিয়ে উঠেছেন? তামিম বললেন, ‘প্রথম দুটো ম্যাচে রান পাইনি। চাপ তো একটু ছিলই। তবে টিম ম্যানেজমেন্ট অনেক ইতিবাচক ছিল আমার ব্যাপারে। মাশরাফি ভাইও অনেক সমর্থন দিয়েছেন আমাকে।’
বিশ্বকাপে এখনো সেঞ্চুরি পাননি কোনো বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান। বিশ্বকাপ মিশনের আগে তামিম জানিয়ে গিয়েছিলেন, এবার সেই সেঞ্চুরি-খরা ঘোচাতে চান। আজ সে লক্ষ্যের কাছাকাছি চলেও গিয়েছিলেন। কিন্তু ৫ রানের আক্ষেপ নিয়ে ফিরতে হয়েছে তামিমকে। এ নিয়ে আফসোস থাকলেও ব্যাটিংয়ে বেশ সন্তুষ্ট ওয়ানডেতে ৪ সেঞ্চুরির মালিক, ‘সেঞ্চুরিটা হলে তো অবশ্যই ভালো লাগত। খানিকটা আফসোস তো আছেই। তবে ব্যাটিং নিয়ে আমি সন্তুষ্ট।’
আজ বিজয়ী দলের অন্যতম নায়ক তিনি। ম্যাচসেরা কি হতে পারতেন না? অবশ্য এটা নিয়েও আফসোস নেই তামিমের, ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ না হতে পারার আফসোস নেই। কারণ, এ ক্ষেত্রে কিছুটা ভাগ্যের সহায়তাও লাগে। সর্বশেষ টেস্ট সিরিজে দুটো সেঞ্চুরি করেছি, কিন্তু একটিতেও ম্যাচসেরা হতে পারিনি। তাই এটা নিয়ে আফসোস নেই। হতে পারলে অবশ্যই ভালো লাগত।’
সাম্প্রতিক সময়ের সমালোচনা প্রসঙ্গে তামিম দর্শকদের অনুরোধ করলেন পাশে থাকতে, ‘সমালোচনা তো হবেই। পেশাদার ক্রিকেটার যেহেতু হয়েছি, কম-বেশি সমালোচনা সহ্য করতেই হবে। তবে একটা অনুরোধ, আপনারা একটু ধৈর্য ধরুন। আমিও চাই সব সময় ভালো খেলতে। খারাপ সময়ে আপনাদের সমর্থন চাই।’
২০০৭ বিশ্বকাপে প্রথম পর্বে ভারতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেলে দর্শকদের তোপের মুখে পড়েছিলেন শচীন টেন্ডুলকার-সৌরভ গাঙ্গুলীরা। অনেকের বাড়িতে ঢিলও পড়েছিল সেবার। এ ঘটনার পর কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় সংবাদ শিরোনাম করেছিল, ‘ফুল দিও না, ঢিলও ছুড়ো না’।
একই কথা তামিমের বেলাতেও কি প্রযোজ্য নয়?
জেআই





