প্রতীক্ষার প্রহর অবশেষে শেষ হতে চলল ভক্তদের। যে ম্যাচটি দেখবার জন্য এতদিন উন্মুখ হয়ে ছিল তারা, চিরশত্রু রিয়াল মাদ্রিদ আর বার্সেলোনার সেই 'এল ক্লাসিকো' মাঠে গড়াচ্ছে আজ রাতে।

এটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, মর্যাদা আর স্বাধীনতার প্রতীকী লড়াইও বটে। স্পেন আর কাতালুনিয়ার মধ্যে যুগ যুগ ধরে চলা শীতল যুদ্ধের অাঁচ তো পাওয়া যায় এই ম্যাচ দিয়েই।

রাজনৈতিক বিষয়টা না হয় বাদই দেয়া হলো। খেলাটাকে শুধু মাঠে সীমাবদ্ধ রাখলেও সেটা ফুটবলের যে কোনো দ্বৈরথকে হার মানাবে। অতীতেও যেভাবে সেরা ফুটবলাদের বিচরণভূমি ছিল এই দুই ক্লাব, ঠিক তেমনিভাবে এখনও আছে।

সময়ের সেরা দুই ফুটবলার লিওনেল মেসি আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মুখোমুখি লড়াই, জেরার্ড পিকে-সার্জিও রামোসের কথার লড়াই একবিংশ শতাব্দীতে এই দ্বৈরথকে দিয়েছে নতুন মাত্রা।

মেসি-রোনালদোর কারণেই বর্তমানে সবচেয়ে বেশি দর্শক চাহিদা এল ক্লাসিকোর। সবুজ গালিচায় তাদের ফুটবল যুদ্ধ দেখতে মুখিয়ে থাকেন সবাই। স্প্যানিশ লা লিগার সুবাদে এমন সুযোগ বছরের সাধারণত দু'বারই আসে।

ভাগ্য ভালো থাকলে হয়তো আর এক-দুইটা ম্যাচ বেশি দেখার সৌভাগ্য হয় ভক্তদের। মেসি-রোনালদোও চান নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে। এটার জন্য এল ক্লাসিকোর চেয়ে বড় মঞ্চ আর কি হতে পারে?

শুধু যে মাঠে মেসি আর রোনালদো থাকবেন, তা নয়। বার্সা শিবিরে আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকরের সঙ্গে ব্রাজিলিয়ান সেনসেশন নেইমার আর উরুগুইয়ান গোলমেশিন লুইস সুয়ারেজ আছেন।

রিয়াল শিবিরে পর্তুগিজ যুবরাজের সঙ্গী ওয়েলস তারকা গ্যারেথ বেল আর ফরাসি স্ট্রাইকার করিম বেনজেমা। তাদের নিয়ে গড়া 'বিবিসি' ত্রয়ী সঙ্গে বার্সার 'এমএসএন' ত্রিরত্নের লড়াইটাও উত্তাপের আগুনে ঘি ঢালবে।

চলতি মৌসুমে ন্যু ক্যাম্পে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হতে যাচ্ছে রিয়াল-বার্সা। লা লিগায় সর্বশেষ ম্যাচে ওই মাঠেই লুইস এনরিকে বিগ্রেডের বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতেছিল জিনেদিন জিদানের রিয়াল। এবার যে বার্সা প্রতিশোধ নিতে চাইবে, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই মুহূর্তে জয়টা তাদের বড্ড বেশি প্রয়োজন। কারণ শীর্ষ স্থানধারী রিয়ালের থেকে ছয় পয়েন্ট পিছিয়ে এখন তিন নাম্বারে অবস্থান করছে দলটি।

কিন্তু বার্সাকে কি সেই সুযোগ দেবে রিয়াল? সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ খেলছে দলটি, সবশেষ কোপা দেল'রের ম্যাচে গোল উৎসব করেছে মাদ্রিদের আভিজাত্য বহন করা দলটি। ছন্দে রয়েছেন রোনালদোও। মেসিও আছেন ছন্দে, তবে অনেকটাই ছন্দহীন বার্সেলোনা। গত দুই ম্যাচে জয়হীন তারা, শেষ ম্যাচে তো তৃতীয় বিভাগের দলের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ে ড্র করেছেন কাতালান ক্লাবটি।

ছন্দে থাকা রিয়াল আজ সেরা প্রস্তুতি নিয়েই নামবে মাঠে। এই ম্যাচে জয় পয়েন্ট ব্যবধান তো বটেই, শিরোপা জয়ের আত্মবিশ্বাসটাও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে লস বস্নাঙ্কোসদের। জিদানের অর্জনের খাতায় যোগ হবে নতুন কিছু। ১৯৬৫ সালে মিগুয়েল মুনোসের পর রিয়ালের দ্বিতীয় কোচ হিসেবে ন্যু ক্যাম্পে টানা দুই ম্যাচ জয়ের কীর্তি গড়বেন এই ফ্রেঞ্চম্যান।


এমএনজে