৮ বছর পর হকির চ্যাম্পিয়ন আবাহনী ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনী লিমিটেড। সর্বশেষ ২০০৮ সালে ক্লাব কাপ হকির শিরোপা জিতে তারা। শিরোপা প্রত্যাশী হয়েও শেষ দুবারই ফাইনালে হারতে হয়েছিল তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ঊষা ক্রীড়া চক্রের কাছে। তাই তৃতীয়বারের প্রচেষ্টায় ঊষাকে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ আবাহনীর।

সোমবার মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে ক্লাব কাপ হকির ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ঢাকা আবাহনী এবং ঊষা ক্রীড়া চক্র। উত্তেজনাকর ফাইনালে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করে চ্যাম্পিয়ন হলো ঢাকা আবাহনী লিমিটেড।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণ করতে থাকে উভয় পক্ষ। ৭ মিনিটেই প্রথম গোল দিয়ে এগিয়ে যায় ঊষা ক্রীড়া চক্র। ইসমাইল বিন আবুর বাড়ানো বলে ফায়জাল বিন সারি স্টিকে টোকা লাগালে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ঊষা। গোল খেয়েই যেন ম্যাচে ফিরে আসার চেষ্টা চালাতে থাকে আবাহনী।

৮ মিনিটে পাকিস্তানি খেলোয়াড় শাফকাত রসুলের শট গোলবারের বাইরে চলে যায়। ১০ মিনিটে ম্যাচের প্রথম পেনাল্টি কর্ণার পায় আবাহনী; কিন্তু সুবিধা করতে পারেননি কাসিফ আলী। পরবর্তী মিনিটে আবারো পেনাল্টি কর্ণার থেকে কাসিফ আলী শট নিলে বাইরে চলে যায়।

১৫ মিনিটে আবারো পেনাল্টি কর্ণার আদায় করে নেয় আবাহনী। শাফকাত রসুলের ক্রস থেকে রুম্মান সরকার স্টপ এবং তৌসিফের দুর্দান্ত হিটে গোল করে আবাহনীকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন তৌশিক এরশাদ। ১৮ মিনিটে আবারো এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় আবাহনী। বিপ্লবের ক্রস থেকে ইরফান হিট করলেও ঊষার গোলরক্ষক সেটা রুখে দেন। ২৫ মিনিটে পরিকল্পিত একটি আক্রমণ থেকে ঊষার ফাইজাল বিন সারি গোলরক্ষককে কাটালেও শেষ পর্যন্ত সেটাকে গোলে পরিণত করতে পারলেন না।

২৭ মিনিটে নিজেদের চতুর্থ পেনাল্টি কর্ণার পেলেও সেটি থেকে গোল আদায় করে নিতে ব্যর্থ হয় আবাহনী। ২৮ মিনিটে প্রথমবারের মত ম্যাচে এগিয়ে যায় ধানমণ্ডির দলটি। রুম্মানের ক্রসে জটলা থেকে স্টিকের অসাধারণ কারুকাজে গোল করেন মোহাম্মদ ইরফান। প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে শাকিল আনসারির শট গোলবারের বাইরে চলে গেলে ২-১ এ এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে আবাহনী।

এক গোলে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করে ঊষা; কিন্তু ম্যাচে সমতায় ফেরার বদলে আরো এক গোল খেয়ে বসে তারা। ৪১ মিনিটে শাফকাত রসুলের ক্রসে শাকিল আনসারি গোল করে আবাহনীকে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। ৪৪ মিনিটে ম্যাচের প্রথম পেনাল্টি কর্ণার পায় ঊষা; কিন্তু সেটি থেকে সুবিধা আদায় করতে ব্যর্থ হয় তারা।

৩ গোল খেয়ে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে পরে ঊষা। তাদের ডিফেন্সের ভুলের সুযোগ নিয়ে পাকিস্তানি কাসিফ আলির স্কুপে গোলকিপারকে একা পেয়েই গোল করে আবাহনী ৪-১ গোলে এগিয়ে দেন শাফকাত রসুল। ৫২ মিনিটে আবারো পেনাল্টি কর্ণার পায় ঊষা। শফিক বিন চোলানের শট অসীম গোপে অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দিলে গোলবঞ্চিত থাকতে হয় আবাহনীকে।

৫৬ মিনিটে পেনাল্টি কর্ণার থেকে আবারও ম্যাচে এগিয়ে যায় আবাহনী। শাফকাত রসুলের ক্রসে, রুম্মনের স্টপে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তৌশিক এরশাদ। ৫৭ মিনিটে আবারো আক্রমণ করে পেনাল্টি কর্ণার আদায় করে নেয় তারা।

কাসিফ আলি পেনাল্টি কর্ণার থেকে শট নিলেও সেটি অসাধারণ ভঙ্গিমায় রুখে দেন ঊষার গোলকিপার নিপ্পন। শেষের দিকে ঊষা অনেকগুলো সুযোগ সৃষ্টি করলেও গোলে দেখা পায়নি ঊষা। সব নাটকীয়তা শেষে ৫-১ গোলের বিশাল জয়ে তৃতীয় শিরোপা জেতে ঢাকা আবাহনী।

এমআইএস