অবস্থাটা এমন দাঁড়িয়ে গিয়েছিল যে ইংলিশ অধিনায়ক এডুইন মরগান পারলে মাঠ ছাড়লেই বাঁচেন। কারণ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিধ্বস্ত হওয়ার পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আরো বিবর্ণ ইংল্যান্ড। বোলিংয়ে টিম সাউদির সাইক্লোনের পর উইলো হাতে ব্রেন্ডন ম্যাককুলাম ঝড়ে রীতিমতো খড়কুটোর মতো উড়ে গেছে ক্রিকেটের গোড়াপত্তনকারীরা। ৫০ ওভারের ম্যাচে ৩৭.৪ ওভার বাকি থাকতেই হার। তাও আবার ৮ উইকেটের ব্যবধানে।

এদিন ম্যাচটা আসলে ইংল্যান্ড বনাম নিউজিল্যান্ড না বলে টিম সাউদি বনাম ইংল্যান্ড কিংবা ব্রেন্ডন ম্যাককুলাম বনাম ইংল্যান্ড বলাই শ্রেয়। কারণ, ১১ জন ইংলিশের বিপক্ষে এই দুই ব্লাক ক্যাপস তারকাই মূল হন্তারক রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। বোলিংয়ে শেন বন্ডকে সরিয়ে কিউইদের পক্ষে সবচেয়ে সেরা বোলিং ফিগার অর্জন করার দিনে ইংলিশদের মাত্র ১২৩ রানেই থামিয়েছেন সাউদি। তার সাত উইকেট শিকারে ইংল্যান্ড ৩৩.২ ওভারে অলআউট।

এরপর লক্ষ্য তাড়ায় ব্যাটিংয়ে নেমে গর্জে ওঠেন ম্যাককুলাম। স্টিফ ফিন ও জেমস অ্যান্ডারসনদের পিটিয়ে ওয়ানেডের দ্রুততম জয় ছিনিয়ে নিতে দলকে সাহায্য করেন ওটাগোর ৩৩ বছর বয়সী প্রতিভা। অবশ্য শেষ অবধি উইকেটে থাকতে পারেননি। কিন্তু ৭ ছক্কা ও ৮ চারে সাজানো তার ২৫ বলের ৭৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংসটি নিউজিল্যান্ডকে বড় জয়ের ভিত গড়ে দেয়।

বাকি কাজটুকু ঠাণ্ডা মাথায় সমাধা করেন কেন উইলিয়ামসন ও রস টেলর। প্রথম জনের ব্যাট থেকে এসেছে ৯ রান। দ্বিতীয় জন করেছেন ৫। যার ফলে ১২.২ ওভারে দুই উইকেট হারিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড। আর বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচেই দুরন্ত জয় ছিনিয়ে নেয়ার কৃতিত্ব দেখায়।

পরিসংখ্যানের জুজু ও ফর্মের জাতাকল নিয়েই বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামতে হয়েছিল ইংল্যান্ডকে। কিন্তু ওয়েলিংটনের ওয়েস্টপ্যাক স্টেডিয়ামে এমন ঝড় বইবে তা খোদ নিউজিল্যান্ড সমর্থকরাও হয়তো দূরতম কল্পনাতে একেছিল কিনা সন্দেহ! হ্যাঁ, এটা নির্মম সত্য যে সর্বশেষ ১৩ ম্যাচে মাত্র দুটিতে হেরেছে ব্লাক ক্যাপসরা। ২০০৬ সালের পর ওয়েলিংটনে মাত্র দুবার মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের। সেই তুলনায় অনেকটা খেই হারানো ইংল্যান্ড। মহাযজ্ঞের হাওয়া জলের সাথে পরিচিত হতে বেশ আগে অস্ট্রেলিয়ায় ঘাঁটি গেড়েও ব্যাটে-বলে ছন্দ দেখাতে পারছে না তারা। তাই বলে এমন হার। বিশ্বকাপে ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজেদের তৃতীয় সর্বনিম্ন রানে অলআউটের পর ৩৭.২ ওভার বাকি থাকতেই হার। অবিশ্বাস্য বটে। সেই সাথে লজ্জারও।

হাসিমুখে দিন শুরু করেছিল মরগান। টস জিতে ফ্লাট উইকেট বিবেচনায় প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। কিন্তু উইকেটের কাছে প্রথমেই ধোকা খান তিনি। পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে ইয়ান বেলকে (৮) হারানোর পর দলীয় ৩৬ রানে ফেরেন মঈন আলি (২০)। দু'জনেই সাউদির শিকার হন। তৃতীয় উইকেটের পতন হয় গ্যারি ব্যালান্সের বিদায়ে। ১৩.১ ওভারে ট্রেন্ট বোল্টের শিকার হন জিম্বাবুয়েতে জন্মগ্রহণ করা ২৫ বছর বয়সী ক্রিকেটার। চতুর্থ উইকেটে জো রুট ও এডুইন মরগানের অবস্থান কিছুটা আশার আলো দেখাতে থাকে। কিন্তু ৪৭ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন তারা।

এরপর আর খেলায় ফিরতে পারেনি ইংল্যান্ড। মরগান দলীয় ১০৪ রানের মাথায় দলের চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে ভেট্টোরির শিকার হলে পরে মাত্র ১৯ রানের ব্যবধানে ছয় উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। ৯ ওভার বল করে ৩৩ রানের বিনিময়ে ৭ উইকেট নেন সাউদি।

জেআই