বিশ্বকাপের মূল ম্যাচের নির্ধারিত ১০০ ওভারেও খেলা শেষ না হওয়ায় ম্যাচটি নেয়া হয় সুপার ওভারে। আগে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ডের করা ২৪১ রানের জবাবে, নিজেদের ৫০ ওভার শেষে ইংল্যান্ডের সংগ্রহও দাঁড়ায় ঠিক ২৪১ রানই।  

লর্ডস যে নিঃসন্দেহে একটা ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে শেষ হাসি হাসল ইংল্যান্ড।

সুপার ওভারে নিউজিল্যান্ডের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৬ রান। জবাবে নিউজিল্যান্ড করেছে ১৫ রান। আবার ম্যাচটি টাই হয়। কিন্তু বাউন্ডারি ব্যবধানে ইংল্যান্ড জিতে যায় ম্যাচটি। অবিশ্বাস্য নাটকীয়তার পর বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল ইংল্যান্ড। বেশি বাউন্ডারি মেরে প্রথমবার শিরোপার উল্লাস করে তারা।

তবে ম্যাচের নায়ক বেন স্টোকস ৮৪ রানে অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে খাদের কিনরা থেকে তুলে আনেন তিনি। যে কারণে ম্যাচটি টাই হয়।

বাংলাদেশ সময় রোববার (১৪ জুলাই) ঐতিহাসিক লর্ডসে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। এই ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে ১৫ মিনিট পরে টস অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে বিকেল পৌনে ৪টায় ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচটি শুরু হয়।

জয়ের জন্য শেষ ১০ বলে প্রয়োজন ছিল ২২ রান। এমন অবস্থায় জেমি নিশাসের ৪৯তম ওভারের চতুর্থ বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ট্রেন্ট বোল্টের ক্যাচে পরিণত হন। কিন্তু ক্যাচ তালুবন্দি করে ব্যালেন্স রাখতে পারেননি বোল্ট। তার পা বাউন্ডারি রশি স্পর্শ করলে আম্পায়ার ছক্কার নির্দেশ দেন। তখন বেন স্টোকস আউট হলে ম্যাচের ভাগ্য অন্যরকম হতে পারত।

তারপরও খেলায় ছিল নিউজিল্যান্ড। শেষ ওভারে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। প্রথম দুই বল ডট দেন ট্রেন্ট বোল্ট। ঠিক পরের বলে ছক্কা হাঁকান বেন স্টোক। তার পরের বলে ডাবল রান নেয়ার চেষ্টা করেন বেন স্টোকস ও আদিল রশিদ। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডার সঠিক জায়গায় বল থ্রো না করায় অতিরিক্ত আরও চার রান পেয়ে যায় ইংল্যান্ড।

শেষ দুই বলে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ৩ রান। পঞ্চম বলে রান আউট হন আদিল রশিদ। শেষ বলে প্রয়োজন ছিল মাত্র ২ রান। বেন স্টোকস ও মার্ক উড দৌড়ে সেই রান নিতে গিয়ে রান আউট হন বেন স্টোকস।

প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২৪১ রান করে নিউজিল্যান্ড। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৫ রান করেন হেনরি নিকোলস। এছাড়া ৪৭ রান করেন টম লাথাম।

টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৮৬ রানে জেসন রয়, জো রুট, জনি বেয়ারস্টো ও অধিনায়ক ইয়ন মরগানের উইকেট হারিয়ে চাপের মধ্যে পড়ে যায় ইংল্যান্ড।

এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে দলকে খেলায় ফেরান বেন স্টোকস ও জস বাটলার। পঞ্চম উইকেটে তারা ১১০ রানের জুটি গড়েন। এরপর ৭ রানের ব্যবধানে বাটলার ও নতুন ব্যাটসম্যান ক্রিস ওকসের উইকেট হারিয়ে ফের চাপের মধ্যে পড়ে যায় ইংল্যান্ড। তবে অনবদ্য ব্যাটিং করে যান বেন স্টোকস।

এর আগে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৯ রানে ওপেনার মার্টিন গাপটিলের উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। গত বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান করে যাওয়া কিউই এ ওপেনার এবারের আসরে চরম ব্যর্থ। ১০ ম্যাচ খেলে মাত্র ১৮৬ রান করেন।

এরপর ওয়ান ডাউনে নামা কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে ৭৪ রানের জুটি গড়েন হেনরি নিকোলস। বিশ্বকাপে ধারাবাহিক রান করে যাওয়া নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক ৫৩ বলে ৩০ রান করে ফেরেন।

ইনিংসের শুরু থেকে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে যাওয়া হেনরি নিকোলস লিয়াম প্ল্যাঙ্কেটের গতির বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন। তার আগে ৭৭ বলে চারটি চারের সাহায্যে ৫৫ রান করেন তিনি।

এরপর ২৩ রানের ব্যবধানে ফেরেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক রস টেইলর। বিশ্বকাপে কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান করে যাওয়া টেইলর এদিন সুবিধা করতে পারেননি। ৩১ বলে ১৫ রানে ফেরেন তিনি।

ব্যাটিংয়ে নেমে ভালোই খেলছিলেন জেমস নিশাম। ২৫ বলে ১৯ রান করেন প্ল্যাঙ্কেটের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফেরেন তিনি। ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিলে ব্যতিক্রম ছিলেন টম লাথাম। তার ৫৬ বলের ৪৭ রানের সুবাদে ২৪১ রান তুলতে সক্ষম হয় নিউজিল্যান্ড।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ফল: সুপার ওভারে জয়ী ইংল্যান্ড।

নিউজিল্যান্ড ইনিংস: ২৪১/৮ (৫০ ওভার)

(মার্টিন গাপটিল ১৯, হেনরি নিকোলস ৫৫, কেন উইলিয়ামসন ৩০, রস টেইলর ১৫, টম লাথাম ৪৭, জেমস নিশাম ১৯, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ১৬, মিচেল স্যান্টনার ৫*, ম্যাট হেনরি ২, ট্রেন্ট বোল্ট ১*; ক্রিস ওয়েকস ৩/৩৭, জফরা আর্চার ১/৪২, লিয়াম প্লানকেট ৩/৪২, মার্ক উড ১/৪৯, আদিল রশীদ ০/৩৯, বেন স্টোকস ০/২০)।

ইংল্যান্ড ইনিংস: ২৪১ (৫০ ওভার)

(জ্যাসন রয় ১৭, জনি বেয়ারস্টো ৩৬, জো রুট ৭, ইয়ন মরগ্যান ৯, বেন স্টোকস ৮৪*, জস বাটলার ৫৯, ক্রিস ওয়েকস ২, লিয়াম প্লানকেট ১০, জফরা আর্চার ০, আদিল রশীদ ০, মার্ক উড ০; ট্রেন্ট বোল্ট ০/৬৭, ম্যাট হেনরি ১/২৫, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ১/৪০, লকি ফার্গুসন ৩/৫০, জেমস নিশাম, মিচেল স্যান্টনার ০/১১)।

সুপার ওভার

ইংল্যান্ড:১৫/০ (১ ওভার)

নিউজিল্যান্ড: ১৫/১ (১ ওভার)

ম্যাচ সেরা: বেন স্টোকস (ইংল্যান্ড)।

ম্যান অব ;দ্য টুর্নামেন্ট: কেন উইলিয়ামসন (নিউজিল্যান্ড)। 

এমবি