ভারতকে ব্যাট-বলে তুলোধুনো করে দলটির বিপক্ষে প্রথমবারের মতো সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের এক ম্যাচ হাতে থাকতেই সিরিজ নিশ্চিত করলেন মাশরাফিরা। সেই সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নাম লেখাল টাইগাররা।
রোববার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বৃষ্টির কারণে ৫০ ওভারের খেলা নির্ধারিত হয় ৪৭ ওভারে। কিন্তু তাও পূর্ণ ওবার খেলতে পারেনি ভারত। ৪৫ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে মাত্র ২০০ রান সংগ্রহ করেছে তারা। জবাবে ৩৮ ওভারে মাত্র ৬ উইকেটে জিতে যায় বাংলাদেশ।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সপ্তম ওভারে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ভুবনেশ্বর কুমারের বলে শিখর ধাওয়ানের তালুবন্দী হন তামিম ইকবাল। ২১ বলে তিনটি বাউন্ডারিতে ১৩ রান করেছেন তিনি।
সৌম্য ও লিটন দাস দলের রানের চাকা ঘুরিয়ে ৫২ রানের জুটি গড়ে তোলেন। ১৭তম ওভারে অশ্বিনের বলে সৌম্য (৩৪) এলবিডব্লিউ'র ফাঁদে পড়লে এই জুটি ভেঙ্গে যায়। ২০তম ওভারে আজার পাটেলের বলে ধোনির হাতে ক্যাচ আউট হন ৩৬ রান করা লিটন দাস।
মুশফিক ও সাকিব দলের হাল ধরেন। অর্ধ শতরানের জুটিও গড়ে তোলেন তারা। তবে মুশফিক রান আউট হলে ভেঙ্গে যায় তাদের ৫৪ রানের জুটি।
তবে সাব্বির রহমানকে সঙ্গে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন সাকিব। ৬২ বলে ৫১ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন তিনি। তার সঙ্গে ২২ রান নিয়ে খেলার শেষ করেন সাব্বির।
এর আগে ব্যাট করতে নামে টসজয়ী ভারত। তবে বল হাতে শুরুটা দুর্দান্ত করেছে বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম ওভারে মুস্তাফিজের দ্বিতীয় বলে সাব্বির রহমানের হাতে ক্যাচ আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান ভারতীয় ওপেনার রোহিত শর্মা। তবে পাওয়ার প্লে'র বাকি সময় দাপট দেখায় ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা।
তবে খেলার ১৩তম ওভারের তৃতীয় বলে নাসিরের বলে এলবিডব্লিউ'র ফাঁদে পড়ে মাঠ থেকে বিদায় নিয়েছেন বিরাট কোহলি। আউট হওয়ার আগে ২৭ বলে একটি ছক্কা ও তিনটি চারে ২৩ রান করেছেন তিনি।
২১তম ওভারে পঞ্চম বলে শিখর ধাওয়ানকে বিদায় করে দেন নাসির। তার বলে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের তালুবন্দী হন ৬০ বলে ৫৩ রান করা ধাওয়ান।
পরের ওভারে রুবেলের চতুর্থ বলে নাসিরের হাতে ক্যাচ আউট হন রানের খাতা খুলতে না পারা আমবাতি রাইদু।
রায়নাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন অধিনায়ক ধোনি। তাদের জুটি থেকে আসে ৫৩ রান। অবশেষে এই জুটি ভেঙে দেন প্রথম উইকেট শিকারী মুস্তাফিজ।
দ্বিতীয় পাওয়ার প্লে'র প্রথম ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে ক্যাচ আউট হন রায়না। উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে ক্যাচ তুলে দেয়ার আগে ৩৪ রান করেন তিনি।
৪০তম ওভারে ভারত শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন বাঘের বাচ্চা মুস্তাফিজ। ওভারের তৃতীয় বলে ৪৭ রান করা ধোনিকে বিদায় করে দেন তিনি। তার বলে ক্যাচ ধরেন সৌম্য সরকার।
একই ওভারের চতুর্থ বলে আজার পাটেলকে এলবিডিব্লউ'র ফাঁদে ফেলে হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি করেন অভিষেকে ৫ উইকেট শিকারী পেসার মুস্তাফিজ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হ্যাটট্রিক করা হয়নি তার।
৪২তম ওভারের শেষ বলে আবার আঘাত হানেন তরুণ টাইগার। অভিষেকের পর টানা দুই ম্যাচে ৫ উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়লেন তিনি। তার বলে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ আউট হয়ে বিদায় নিয়েছেন অশ্বিন (৪)।
বাংলাদেশের বোলার মুস্তাফিজুর রহমান ছয়টি উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন। এছাড়া দুটি করে উইকেট পান নাসির ও রুবেল।
জেডআই





