খেলা শেষ হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগে জালে জড়িয়ে গেছে বল। বিশ্বাসই যেন করতে পারছেন না যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক টিম হাওয়ার্ড। ছবি: রয়টার্সউত্সবের প্রস্তুতিই নিতে শুরু করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থকেরা। এক-দুই মিনিটও না, মাত্র কয়েকটা সেকেন্ড পার করতে পারলেই দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করে ফেলতে পারত যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু প্রতিপক্ষ দলে যে এসময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলারটি আছেন এবং তিনি যে শেষমুহূর্তেও ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারেন, সেটাই হাতেকলমে দেখিয়ে দিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
না, পর্তুগিজ এই তারকা গোল করেননি। কিন্তু তাঁর দারুণ এক ক্রসে মাথা ছুঁইয়েই যুক্তরাষ্ট্রের জালে বল জড়িয়েছেন বদলি হিসেবে নামা ভারেলা। কয়েক সেকেন্ড পরেই বেজেছে রেফারির খেলা শেষের বাঁশি। চূড়ান্ত ফলাফল: পর্তুগাল ২ - যুক্তরাষ্ট্র ২।
চরম নাটকীয় এই ড্রয়ের মাধ্যমে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার আশাও টিকিয়ে রেখেছে রোনালদোর পর্তুগাল। তবে কাজটা যে খুবই কঠিন সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ঘানার বিপক্ষে জিততে হবে বড় ব্যবধানে। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষের অমঙ্গলও কামনা করতে হবে পর্তুগালের সমর্থকদের।
দুই ম্যাচ শেষে জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের সংগ্রহ চার পয়েন্ট। পর্তুগাল আর ঘানার ঘরে জমা হয়েছে এক পয়েন্ট। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জার্মানিকে খেলতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে। এই ম্যাচটা যদি ড্র হয় তাহলে দুই দলই চলে যাবে দ্বিতীয় রাউন্ডে। অন্য কোনো হিসাব-নিকাশের দরকারই হবে না। কিন্তু জার্মানি বা যুক্তরাষ্ট্রের কেউ যদি হেরে যায় তাহলে দরজা খোলা থাকবে পর্তুগালের। এমনকি ঘানারও।
আজ যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে শুরুতেই এগিয়ে গিয়েছিল পর্তুগাল। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের চরম একটি ভুলের ফায়দা ওঠাতে কোনো ভুল করেননি নানি। ৪ মিনিটের মাথায় গোল করে এগিয়ে দিয়েছিলেন পর্তুগালকে। ৪৪ মিনিটে ব্যবধান বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল পর্তুগিজরা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক টিম হাওয়ার্ড দারুণভাবে রুখে দিয়েছেন রোনালদোদের সেই গোল প্রচেষ্টা।
৫৫ মিনিটে মাইকেল ব্রাডলি অবিশ্বাস্যভাবে নষ্ট করেছেন খেলায় সমতা ফেরানোর সুযোগ। গোলপোস্টের নিচে পর্তুগালের গোলরক্ষক বেতোর অনুপস্থিতির ফায়দাটা নিতে পারেননি যুক্তরাষ্ট্রের এই স্ট্রাইকার। তাঁর শট দারুণভাবে ফিরিয়ে দিয়েছেন পর্তুগিজ ডিফেন্ডার রিকার্ডো কস্তা।
৬২ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল করার সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদোও। কিন্তু বেশ খানিকটা দৌড়ে গিয়ে গোলপোস্ট লক্ষ্য করে শটই নিতে পারেননি ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার। দুই মিনিট পরে পর্তুগালের জালেই বল জড়িয়ে খেলায় সমতা ফেরান জার্মেইন জোনস। পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক বাঁকানো শটে গোল করেছেন এই মিডফিল্ডার।
৮১ মিনিটে পর্তুগালের সমর্থকদের হতাশায় ডুবিয়ে আরেকটি গোল করেন যুক্তরাষ্ট্রের অধিনায়ক ক্লিন্ট ডেম্পসি। বিশ্বকাপে প্রথমে গোল হজম করে কোনো ম্যাচ জয়ের রেকর্ড ছিল না যুক্তরাষ্ট্রের। আজই সেটা হয়ে যাবে বলেই মনে করেছিলেন অনেকে। কিন্তু একেবারে শেষমুহূর্তে রোনালদোর মাপা ক্রস আর ভারেলার দুর্দান্ত হেড পাল্টে দিয়েছে ম্যাচের ফলাফল। শুধু এই ম্যাচেরই না, পর্তুগালের শেষমুহূর্তের এই গোলটি পাল্টে দিয়েছে পুরো ‘জি’ গ্রুপেরই সমীকরণ। আজকের এই নাটকীয় ড্রয়ের ফলে চারটি দলেরই দ্বিতীয় পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা কাগজে-কলমে টিকে আছে।
আগামী ২৬ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে পর্তুগালকে খেলতে হবে ঘানার বিপক্ষে। একই দিন, একই সময়ে মাঠে নামবে জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র।
ঢাকা, ২৩ জুন(টাইমনিউজবিডি.কম)//এনএস





