টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ষষ্ঠ আসরের ফাইনাল আগামীকাল রোববার অনুষ্ঠিত হবে। ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বিগ ফাইনালে মুখোমুখি হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড। দুই দলেরই একবার করে বিশ্বকাপ জয়ের সুখস্মৃতি রয়েছে। বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরে নতুন চ্যাম্পিয়ন দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব। এবার তার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে না।

২০১০ সালে ইংল্যান্ড ও ২০১২ সালে বিশ্বকাপের ট্রফি জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবার ট্রফি কার হাতে উঠবে সেটাই দেখার বিষয়।

ক্রিকেটের সবচেয়ে সীমিত পরিসরের এ আসরের প্রতিটি ফাইনালই ছিল চরম উত্তেজনায় ঠাসা। প্রতিটি ফাইনালেই হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এবারও হয়ত ক্রিকেটপ্রেমিরা সেরকম কিছুই উপভোগ করতে পারবে।
২০০৭(চ্যাম্পিয়ন-ভারত)

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসরের শিরোপা জিতেছিল ভারত। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি পাকিস্তানকে হারিয়ে ভারত চার-ছক্কার ফরম্যাটের শিরোপা জিতে নেয়। দক্ষিণ আফ্রিকার জোহনেসবার্গের ফাইনালটি ছিল চরম উত্তেজনার। আগে ব্যাটিং করে ভারত, পাকিস্তানের নিখুঁত ও ভয়ংকর বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে ৫ উইকেটে ১৫৭ রান করে। বিগ ফাইনালে ৭৫ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন গৌতম গম্ভীর।

জবাবে বিধ্বংসী ওপেনার ইমরান নাজিরের ১৪ বলে ৩৩ রানে শুরুটা চমৎকার করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু নাজিরের রান আউট ও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় অনেক আগেই পিছিয়ে যায় পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত মিসবাহ-উল-হকের (৩৮ বলে ৪৩) দৃঢ়তায় পাকিস্তান ম্যাচে ফিরলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ফাইনালের নায়ক যোগিন্দর শর্মা ভারতকে শিরোপার স্বাদ দেন।

শেষ ওভারে লড়াইটি ছিল পাকিস্তানের মিসবাহ-উল-হক ও ভারতের যোগিন্দর শর্মার। প্রয়োজন ৬ বলে ১২। ৫ রানে জয় পায় ভারত। মিসবাহকে শেষ ওভারে আউট করে ডানহাতি এ পেসার ভারতকে ২০ বছর পর বৈশ্বিক কোনো শিরোপার স্বাদ দেন। মাহেন্দ্র সিং ধোনির হাতে তুলে দেন টি-টোয়েন্টির প্রথম শিরোপা।

২০০৯ (চ্যাম্পিয়ন-পাকিস্তান)

প্রথম আসরের শিরোপা হাত থেকে ফসকে গেলেও দ্বিতীয় আসরে শিরোপার স্বাদ ঠিকই নেয় পাকিস্তান। ইউনুস খানের নেতৃর্তে সেবার ইংল্যান্ডের মাটি থেকে শিরোপা জয় করে পাকিস্তান। পাকিস্তানের হয়ে ওই বিশ্বকাপে দারুণ পারফরম্যান্স করেন বুমবুম খ্যাত শহীদ আফ্রিদি। নজরকাড়া বোলিং ও দায়িত্বশীল ব্যাটিং শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে পাকিস্তান ট্রফি জিতে নেয়।

লর্ডসের ফাইনালে আগে ব্যাটিং করে শ্রীলঙ্কা মাত্র ৬ উইকেটে ১৩৮ রান করে। নিখুঁত লাইন ও লেন্থ বজায় রেখে আব্দুর রাজ্জাক লঙ্কানদের গুড়িয়ে দেন। ৩ ওভারে ২০ রানে নেন ৩ উইকেট। আফ্রিদিও একই রান খরচে নেন ১ উইকেট। জবাবে পাকিস্তান ৮ বল আগে লক্ষ্যে পৌঁছায়।

শুরুতে কামরান আকমলের ২৮ বলে ৩৭ রানে ঝড়ো শুরু পায় পাকিস্তান। মাঝপথে বিপর্যয়ে পড়লেও আফ্রিদির ৪০ বলে ৫৪ রানের হার না মানা ইনিংসে ট্রফি জিতে নেয় পাকিস্তান। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন শহীদ আফ্রিদি।

২০১০(চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড)

এক বছর পরই আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে। সে বছর অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টির শিরোপা জিতে ইংল্যান্ড। বার্বাডোজে অস্ট্রেলিয়াকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে ৬ উইকেটে ১৪৭ রানে আটকে দেয় ইংল্যান্ড। জবাবে ১৮ হাতে রেখে ৭ উইকেট হারিয়ে জয় পায় ইংলিশরা। সেবারের ফাইনালটাই একটু প্রতিদ্বন্দ্বিতার অভাব ছিল।

মাইকেল হাসির ৫৪ বলে ৫৯ রানে লড়াকু পুঁজি পেলেও ইংলিশ ওপেনার ক্রিসওয়েটারের ৪৯ বলে ৬৩ রানের ইনিংসে জয় পায় ইংল্যান্ড। বিগ ফাইনালে কেভিন পিটারসেনের ব্যাট থেকে আসে গুরুত্বপূর্ণ ৪৭ রান।

২০১২ (চ্যাম্পিয়নওয়েস্টইন্ডিজ)

ক্রিকেট বিশ্ব সেরা ‘গ্যাংগাম’ নাচ দেখেছিল শ্রীলঙ্কায়। ক্যারিবীয়ানরা যে ক্রিকেট ও উদযাপনের কেন বিখ্যাত সেবার প্রমাণ পেয়েছিল। স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ২০১২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্যামুয়েলসের ৭৮ রানে ১৩৭ রানের লড়াকু পুঁজি পায়।

কিন্তু সে রানটাকেও পাহাড়সমান বানিয়ে ফেলেন লঙ্কানরা। দুই কিংবদন্তি মাহেলা জয়াবর্ধনে (৩৩) ও কুমার সাঙ্গাকারার (২২) ছাড়া কেউ রানের দেখা পাননি। পেসার কুলাসেকারা ২৬ রানে শুধু পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়েছিল। ৩৬ রানের বড় জয় নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

২০১৪ (চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা)

নিজ মাটিতে না পারলেও বাংলাদেশের মাটিতে ঠিকই পেরেছে শ্রীলঙ্কা। শুধু বিশ্বকাপের ট্রফি না বিশ্বকাপের আগে এশিয়া কাপ ও বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজও জিতেছিল লঙ্কানরা। নিশ্চিতভাবেই বলা যায় বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নামার আগে শ্রীলঙ্কা ছিল আত্মবিশ্বাসের চূড়ায়।

বিগ ফাইনালে ভারতকে ৬ উইকেটে হারায় লঙ্কানরা। মিরপুর শের-ই-বাংলার প্রায় ২৬ হাজার দর্শকের সামনে ধোনিবাহিনীকে হারায় লাসিথ মালিঙ্গার দল। নিজেদের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দলকে শিরোপার স্বাদ দেন জয়াবর্ধনে-সাঙ্গাকারা। আগে ব্যাটিং করে ভারত বিরাট কোহলির অনবদ্য ৭৭ রানে ১৩০ রানের পুঁজি পায়।

সহজ লক্ষ্যে সাঙ্গাকারার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ১৩ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখে জয় পায় লঙ্কানরা। পুরো টুর্নামেন্টে রানে না থাকা সাঙ্গাকারা ফাইনালের মঞ্চে নায়কোচিত ইনিংস খেলেন। ৩৫ বলে করেন ৫২ রান। হয়ে যান ম্যাচসেরা, বনে যান শ্রীলঙ্কার রাজা।
এম আর