বাংলাদেশের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ব্যাটে ঝড় তুললেও তার দল এশিয়া একাদশ জিততে পারেনি।
ঈদুল আযহা উপলক্ষে টোয়েন্টি টোয়েন্টি ফেস্টিভ্যালে সোমবার কাতারের দোহায় ওয়েস্ট এন্ড ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এই ম্যাচ হয়। এতে ১০ হাজারে বেশি দর্শক উপস্থিত ছিলেন।
কাতারের দোহায় বিশ্ব একাদশের কাছে মাত্র ৫ রানে হেরে গেছে জয়সুরিয়ার এশিয়া। তামিম ইকবাল ২৬ বলে ৪৮ রান করেন। এই রান করতে তিনি ৩টি চার ও একটি ছক্কা হাকান।
ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বিশ্ব একাদশের অধিনায়ক ব্রায়ান লারা। সাত বছর পর ব্যাট হাতে শুরুটাও দারুণ করেন লারা। অফ-সাইডে দৃষ্টিনন্দন বেশ কয়েকটি শট খেলে পুরনো সেই ত্রিনিদাদের লারাকেই মনে করিয়ে দেন তিনি।
এখনো যে লারা তার ফুটওয়ার্ক ভোলেননি তা জানান দিতেই কভার ড্রাইভে বাউন্ডারি আদায় করে নেন।
আব্দুল রাজ্জাককে বাউন্ডারি দিয়ে ক্রিকেট শিল্প দেখানো শুরু করেন লারা, তাকে এবং এঞ্জেলো পেরেরাকে দুটি বিশাল ছক্কাও হাকান তিনি।
ব্রেন্ডন টেইলর এবং হার্শেল গিবস দ্রুত বিদায় নিলেও লারা বড় রানের পথে বিশ্ব একাদশকে নিয়ে যেতে থাকেন। পার্টটাইম স্পিনার আকাশ চোপড়ার বলে উইকেটের পেছনে রশিদ লতিফের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে লারা ৪৪ বলে করেন ৪৭ রান।
এরপর ইংল্যান্ডের ওয়াইস শাহ এসে রীতিমত ঝড় তোলেন। তিনি চোপড়ার এক ওভারে দুটি ছক্কা এবং বেশ কয়েকটি বাউন্ডারি মারেন। এরপর ২২ বলে ৪৩ রান করা শাহ চোপড়ার হাতেই শেষ ওভারে ধরা পড়েন ইয়াসির আরাফাতের বলে। ফলে বিশ্ব একাদশ করে ৬ উইকেটে ১৬১ রান করে।
১৬২ রানের জবাব দিতে লারাকেই যেন অনুসরণ করতে থাকেন সনাথ জয়সুরিয়া। তামিম ইকবালকে নিয়ে তিনি ৬ ওভারে দ্রুত ৫০ রানের জুটি গড়েন। জয়সুরিয়া তার ট্রেড মার্ক সুইপ এবং স্কয়ার শট খেলে চারটি বাউন্ডারি তুলে নেন। মাতা হারিকেন ২৩ বলে ২৫ রান করে সাজিদ মাহমুদের বলে উইকেটের পেছনে ব্রেন্ডন টেইলরের হাতে ক্যাচ দেন।
জয়সুরিয়া বিদায় নিলেও তামিম দলের হাল ধরে রাখেন। রায়ান টেন ডাসকেটের বলে ফিরে যাওয়ার আগে তিনি ২৬ বলে ৪৮ রান করেন। তার বিদায়ে পরাজয় নিশ্চিত হয়ে পড়ে এশিয়ার।
তবে শেষ দিকে এঞ্জেল পেরেরা ২৪ বলে ৩১ রানের ঝড় তুলে অল্পের জন্য ম্যাচ বের করেই ফেলেছিলেন। ভাগ্য সহায় হয়নি বলেই এশিয়া একাদশ ৭ উইকেটে ১৫৬ রান করলে মাত্র ৫ রানে হেরে যায়।
এশিয়া একাদশের পক্ষে আকাশ চোপড়া ৩টি, ইয়াসির আরাফাত ২টি এবং আব্দুল রাজ্জাক একটি করে উইকেট পান। আর বিশ্ব একাদশের পক্ষে ডাসকেট ৩টি ও কোরি কোলিমোর ২টি উইকেট তুলে নেন। ম্যাচ সেরা হন ব্রায়ান লারা।
বিশ্ব একাদশের নেতৃত্ব দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক অধিনায়ক ব্রায়ান লারা। আর এশিয়া একাদশের নেতৃত্বে ছিলেন শ্রীলঙ্কা দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমানে নির্বাচক সনাথ জয়সুরিয়া।





