করোনার শুরুতেই ছুটি হয় দেশের প্রায় ফুটবল ও ক্রিকেট ক্লাবের। নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি খেলোয়াড় ছিলেন হোম কোয়ারেন্টাইনে। এতদিন কোয়ারেন্টাইনে থেকেই চেষ্টা করেছে নিজেকে ফিট রাখতে।

এমন অবস্থায় জাতীয় দলের মাঠে ফেরার সূচি ঠিক হয়েছে। নতুন দলে কার ঠাঁই মিলবে সেটি এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে ফুটবলাররা যে যার মতো তৈরি হচ্ছেন স্কোয়াডে ঠাঁই করে নিতে।

মহামারি এই করোনাকালে নিজেকে ফিট রাখতে বুধবার (১০ জুন) ক্লাবে চলে এসেছেন শেখ রাসেলের মিডফিল্ডার আব্দুল্লাহ পারভেজ। ইনজুরির কারণে থাকতে পারেননি বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে। তবে প্রত্যাশা আবারও ফিরতে চান জাতীয় দলের জার্সিতে।

এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জের ফুটবলার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ পারভেজ।

আব্দুল্লাহ পারভেজ বলেন, আলহামদুলিল্লাহ এখন অনেক ভালো আছি। মহামারি এই করোনাকালে এতদিন সিরাজগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে ছিলাম। সত্যি বলতে বাসাতে শতভাগ ফিটনেস ধরে রাখা সম্ভব হয় না। তাই ঢাকাতে চলে এসেছি। দু'একদিনের মধ্যেই শেখ রাসেল ক্লাবে অনুশীলনে ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করবো।

ঢাকাতে ফেরার বিষয়ে তিনি জানান, আমি বিশ্বাস করি একজন ফুটবলারকে সবসময়ই ফিট থাকতে হয়। নিজেকে প্রস্তুত রাখতে হয়। জাতীয় দলে ডাক পাই বা না পাই। নিজের জন্যই নিজেকে ফিট রাখি। আমাদের মতো যাদের দু'একবার বড় ইনজুরি হয়েছে। তাদের সবসময় ব্যায়াম করতে হয়। জিমটাকে খুব মিস করছিলাম। জাতীয় দলে ফিরতে চাই এটা এখন আমার এক মাত্র লক্ষ্য।

আব্দুল্লাহ পাভেজের প্রিয় ফুটবলার মেসি। তার খেলা ভালো লাগে। সব সময়ই তার ইচ্ছা কাজ করেছে গোল করতে। মাঝ মাঠে সে সুযোগটা বেশি। একজন ফরোয়ার্ডকে ১০টা সুযোগ পেলে একটা অন্তত কাজে লাগাতে হয়। এছাড়া তিনি পেছন থেকে গোল করিয়েও আনন্দ পায়। সত্যি বলতে তার মধ্যমাঠ আর উইংয়ে খেলতেই ভালো লাগে। এ পজিশনে চারদিকেই খেলা যায়।

করোনার এ সময় আমি জাহিদ ভাই আর মামুনুল ভাইয়ের খেলাকে অনুস্বরন করে আমি বাসায় একজন গোলরক্ষককে সাথে নিয়ে অন্তত দু'তিনশ বার অনুশীলন করতাম। চেষ্টা করেছি তাদের মতো হতে হবে। কতটা পেরেছি জানি না। তবে যখন জাহিদ ভাইয়ের সঙ্গে খেলেছি। তিনি আমাকে দেখিয়ে দিতেন। বলতেন তুই এখন অনেক ভালো কর্নার করিস। তখন আরও উৎসাহ পেয়েছি তাদের মতো করার। একজন ফুটবলার সিনিয়র হোক আর জুনিয়র। যার যেটা ভালো আমি সেটা নেয়ার চেষ্টা করি।

২০১৮ সালে ইন্দোনেশিয়াতে এশিয়ান গেমসে কাতারের বিপক্ষে জয়ের স্মৃতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ওই ম্যাচে হেড করে বল জনি ভাইকে দেই। উনি সেটি জামাল ভাইকে দিলে গোল পাই আমরা। ওই ম্যাচে হারলে বা ড্র করলেও আমরা বাদ পড়তাম। দু'দিন পরই ঈদ ছিল। কিন্তু যখন ওই ম্যাচটা আমরা জিতে কোয়ালিফাই করি, ঈদের আগেই আরেকটা ঈদ হয়েছিল আমাদের। যা আমার কাছে অনেক স্মৃতি হয়ে আছে এখনো।

তিনি আরো বলেন, আমাদের নিজেদের উপর আস্থা আছে। জেমির মতো একজন কোচ আছে। সে খুবই বন্ধুপ্রতিম। সে এমন একটা মানুষ বাফুফে থেকে বসুন্ধরায় গাড়ি নিয়ে এসে আমাদের ইনজুরির খোঁজ নিয়েছে। এখনো জেমির সঙ্গে প্রায় প্রতিদিনই কথা হয়। ম্যাচের আগে অন্তত ৩০/৪০ দিনের একটা ক্যাম্পের সুযোগ পেলে আমরা ভালো পারফরম্যান্স করতে পারব।

নাজমুল/এমবি