পৃথিবীর অন্যতম সমৃদ্ধ ইতিহাসের দেশ মিসর। ফারাও রাজা আর তাদের ভুবনবিখ্যাত পিরামিডের কীর্তি এখনও সভ্যতার বিস্ময়। অনেক ইতিহাসের আফ্রিকান দেশটি ফুটবলেও কম নয়। প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে ইতালিতে অনুষ্ঠিত ১৯৩৪ বিশ্বকাপে খেলেছিল মিসর। এরপর দীর্ঘ অপেক্ষা। ৫৬ বছর পর ৯০ সালে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপে খেলে ফারাহুসরা। 

আবারও মিসরের হারিয়ে যাওয়ার গল্প। টানা ছয়টি বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ তারা। মোহামেদ সালাহ নামের এক তারকার আবির্ভাবে বদলে গেছে মিসরের ফুটবল।

সালাহতে ভর করে ২৮ বছর পর ফুটবলের গ্রেটেস্ট শো অন দ্য আর্থের মূল মঞ্চে মিসর। আগের দুই আসরে প্রথম রাউন্ডেই থেমে গিয়েছিল মিসরের পথচলা। এবার স্বপ্নটা আরও বড়। সেই স্বপ্ন লিভারপুলের তারকা সালাহকে ঘিরেই।

বাছাইপর্বে বড় বাধা ছিল ঘানা। সেই ঘানাকে হারানোর পরই মূলত বিশ্বকাপের পথ সহজ হয়ে যায় মিসরের। যদিও উগান্ডার কাছে হারে কিছুটা শঙ্কা জেগেছিল। তবে এক সালাহই সব শঙ্কা উড়িয়ে দেন। পেন্ডুলামের মতো ঘুরতে থাকা গ্রুপ 'ই'র সমীকরণটা সহজ করে দেন লিভারপুলের এ ফরোয়ার্ড। 

কঙ্গোর বিপক্ষে ৯৪ মিনিটে পেনাল্টি কর্নারে গোল করে দলকে বিশ্বকাপে নিয়ে যান তিনি। চাপের সময় শান্ত ছিলেন মিসরীয় 'মেসি'। রাশিয়া বিশ্বকাপে মিসরের বড় শক্তিই সালাহ।

বর্তমান বিশ্বে খুব কমসংখ্যক ফুটবলার আছেন যিনি কি-না সালাহর চেয়ে সেরা। লিভারপুলের হয়ে এই মৌসুমে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স করছেন ২৫ বছর বয়সী এ ফরোয়ার্ড। 

ইংলিশ জায়ান্টদের চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে উঠতে কার্যকরী ভূমিকা রেখেছেন। মিসরের গ্রুপে থাকা উরুগুয়ে, রাশিয়া ও সৌদি আরবের জন্য বড় হুমকি সালাহ।

যেভাবে এই মৌসুম খেলে যাচ্ছেন তাতে দ্বিতীয় আফ্রিকান হিসেবে সালাহ ব্যালন ডি'অর জিতলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। 

মিসরের মূল ভরসা সালাহ। একজনের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বিশ্বকাপে বেশিদূর যেতে পারবে কি-না তা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান। তবে ফুটবলবোদ্ধাদের ধারণা, গ্রুপ পর্বের ডিঙি পার হতে পারবে আফ্রিকান এ দেশটি।

এমআর