কে চ্যাম্পিয়ন হবে আইপিএল এ ? মুম্বাই ইন্ডিয়ানস না চেন্নাই ?

এই কথার ফাঁকেই শুরু হয়ে যায় বাজি খেলার আলোচনা। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মত খেলাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশেও বাজি খেলার প্রচলন অত্যধিক বেড়ে গিয়েছে। আর সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় যারা বাঁজি খেলে তাদের দেখলে নিতান্ত্যই যে কেউ অবাক হবেন, কারণ তারা সবাই ছাত্র।

এছাড়া শেয়ার বাজারের মত ব্রোকার হাউজও রয়েছে বাঁজি ধরার সুবিধার জন্য। যারা ব্রোকার হাউজ হিসেবে কাজ করে তাদের ভূমিকা হল যারা বাঁজি ধরতে চায় তাদের পছন্দমত বাঁজি লাগিয়ে দেয়া।

রাজধানীর উত্তরায় ব্রোকার হাউজ হিসেবে কাজ করে এমন একজন মো: আলামিন। বয়স ২১, অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্র। আলামিনের সাথে টাইমনিউজবিডির কথা হলে তিনি জানান, যারা বাঁজি ধরতে চায় তারা নিজেরাই আমাদের সাথে যোগাযোগ করে। তখন আমরা তাকে জিজ্ঞেস করি আপনি কোন দলের হয়ে বাজি লাগতে চান।

যদি শক্তিশালী ও দুর্বল দলের মধ্যে খেলা হয় তাহলে দুর্বল দল নিলে টাকা বেশি পাওয়া যায় আর শক্তিশালী দলের পক্ষে বাঁজি ধরলে কম পাওয়া যায়। যেমন: কলকাতা ও দিল্লির খেলা হলে দিল্লিকে হাজারে চৌদ্দশত টাকা দিবে কলকাতা। আর কলকাতা জিতলে পাবে এক হাজার। আর আমরা বাঁজি ধরিয়ে দেওয়ার জন্য কমিশন নিয়ে থাকি।

আলামিনের তথ্য মতে, আইপিএল নিয়ে যারা বাঁজি খেলে তাদের বেশির ভাগই ৯ম শ্রেণী থেকে অনার্স পড়ুয়া ছাত্র। এর চেয়ে বয়সে বড়রা বাজি খেললেও তাদের সংখ্যা নিতান্ত্যই কম।

রায়হান ইসলাম, অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্র। আইপিএল’র প্রতিটি ম্যাচেই বাজি ধরে রায়হান। বাঁজি খেলায় বড়দের অংশগ্রহণ কম থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের সমাজে প্রচলিত অর্থে যারা বাঁজি বা জুয়া খেলে তাদের সবার বয়স অনেক বেশি, যাদের বেশির ভাগই ক্রিকেট খেলা বুঝে না যার কারণে আইপিএলে তাদের অংশগ্রহণ নেই। এ ছাড়া টি-টুয়েন্টি ম্যাচ হওয়ার কারণে বড়দের অনেকেরই খেলা দেখার সুযোগ হয় না, তাই তাদের অংশগ্রহণ কম।

রায়হানের মতে, ছাত্রদের আইপিএলে অংশগ্রহণ বেশির কারণ হল খেলা নিয়ে মাতামাতি করা বা খেলা দেখার যথেষ্ট সময় ছাত্রদের হাতে থাকে যার কারণে বাঁজি খেলায় ছাত্রদের অংশগ্রহণ বেশি।

বাঁজি খেলায় কারো ভাগ্য ভালো আর কারো খারাপ হয়ে থাকে। কেউ লাখ টাকা জিতে আর কেউ লাখ টাকা হারে। বাঁজিতে লাখ টাকা হেরেছেন এমনই একজন রাজধানী ঢাকার উত্তরার নাজমুল হুদা। গত আইপিএল’র আসরে সাড়ে তিন লাখ টাকা হেরেছেন তিনি।

নাজমুল হুদার সাথে টাইমনিউজবিডির আলাপ হলে তিনি বলেন, বাঁজিতে সবার ভাগ্য কাজ করেনা। কারো ভাল আবার কারো খারাপ। গতবারের আইপিএলে ১ম কয়েকটি ম্যাচে আমি ৮০ হাজার টাকা জিতে ছিলাম।

কিন্তু এরপর যে কয়টি ম্যাচে বাঁজি ধরেছি বেশির ভাগই হেরেছি। ভাগ্য আর আমার সহায় হয়নি। অনেক টাকা হেরেছি তাই সর্বশেষ চেষ্টা করলাম ফাইনাল ম্যাচে, যাতে টাকাটা উসূল করা যায় কিন্তু ভাগ্য আর সহায় হলো না, সেই ম্যাচে হারলাম ৮০ হাজার টাকা।

তবে বাঁজিতে জেতার ভাগ্যবান ব্যক্তি অনেকেই আছেন। তেমনি একজন রাজধানীর দক্ষিণখানের আরিফ টিপু। কত টাকা জিতেছেন তিনি তা বলেন নি, তবে গতবার আইপিএল'র আসরে বাঁজিতে জিতে মসজিদে রমজান মাসে ইফতারের আয়োজন করেছেন। এবার আরো বড় আয়োজন করে সবাইকে খাওয়াবেন বলেও জানান তিনি।

আইপিএল নিয়ে ছাত্ররা যে লাখ লাখ টাকার বাঁজি খেলে তা অধিকাংশ অভিভাবকরাই জানেন না। এমনই একজন না জানা অভিভাবক আব্দুর রশিদ। সিভিল এভিয়েশনের কন্ট্রাক্টর।

তিনি জানান, আমি গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাসায় ফিরছিলাম। তখন দেখি আমার ছেলে রাতুলের সাথে কিছু ছেলে তর্কাতর্কি করছে। আমি গেলে সবাই চুপ। জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে। আমাকে বললো আপনার ছেলের কাছে দেড় লক্ষ টাকা পাই। আমি তো শুনে অবাক কি বলে এই সব। ছেলেগুলো বললো বাঁজি খেলে আপনার ছেলে হারছে, তাই টাকা নিতে আসছি কিন্তু আপনার ছেলে টাকা দিচ্ছে না।

আব্দুর রশিদ বলেন, সর্বশেষ পুলিশের ভয় দেখিয়ে ছেলেগুলোকে বিদায় করি। এরপর টাইমনিউজবিডির সাথে আব্দুর রশিদের ছেলে রাতুলের সাথে কথা হলে সে বলে, আমিও বাঁজিতে অনেক টাকা জিতেছি কিন্তু যাদের কাছে আমি টাকা পাই, তারা আমাকে টাকা দিচ্ছে না, তাই আমি তাদের টাকা দিতে পারিনি, এটাই সমস্যা।

তাই নানাবিধ সমস্যার কারণে যারা বাঁজি খেলে তারাও বুঝে শুনে বাঁজি লাগান যাতে টাকা মার না যায়।

বর্তমানে ছাত্রদের এই বাঁজি খেলার ঝুঁকে পড়ার কারণে খুবই চিন্তিত অভিভাবকরা। অভিভাবকদের মতে গ্লোবালাইজেশনের যুগে আমরা আমাদের সন্তানদের ঘরে বেধে রাখতে পারবো না। তাই দেশের স্বার্থে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের সন্তানদের ও দেশের ছাত্র সমাজকে এই ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সরকারের বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে, প্রয়োজন হবে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ করতে হবে। এছাড়া ছাত্র সমাজ যাতে এই দিকে না ঝুঁকে সেজন্য সরকারকে গণসচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে হবে।

ইআর