ত্রিদেশীয় টি-২০ সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে টস জিতে আগে ফিল্ডিং বেছে নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। বল হাতে দুর্দান্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ। তাতে ৬৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে জিম্বাবুয়ে।

শেষ পর্যন্ত জয় দিয়ে শুরু করতে ১৮ ওভারে ১৪৫ রান দরকার বাংলাদেশের। বৃষ্টির কারণে দুই ওভার কমে আসা ম্যাচে জিম্বাবুয়ে তুলেছে ৫ উইকেটে ১৪৪ রান।

শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছে টাইগাররা। প্রথম ওভারটি বেশ দেখেশুনে কাটিয়ে দেন দুই ওপেনার ব্রেন্ডন টেলর আর হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, ওঠে ৭ রান।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই অভিষিক্ত স্পিনার তাইজুল ইসলামকে ডেকে আনেন সাকিব। আর বল হাতে নিয়ে প্রথম বলেই উইকেট তুলে নেন তাইজুল। জিম্বাবুয়ের মারমুখী ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন টেলর তুলে মারতে চেয়েছিলেন তাকে, বল ভেসে যায় বাতাসে।

টেলরের স্লগ সুইপটি ঠিক মতো ব্যাটে না লাগায় সেটি থার্ড ম্যানে দাঁড়ানো মাহমুদউল্লাহর হাতে চলে যায়। টেলর করেন ৫ বলে ৬। তবে দ্বিতীয় উইকেটে বড় জুটি গড়ে তুলেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা আর ক্রেইগ আরভিন। এই উইকেটে ৩৩ বলে তারা যোগ করেন ৪৪ রান।

এর মধ্যে এক ওভারে ১৮ রান দিয়ে বসেন প্রথম দুই ওভারে মাত্র ৮ রান খরচায় ১ উইকেট নেয়া তাইজুল। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে তার ওপর ঝাল মেটান দুই ব্যাটসম্যান মাসাকাদজা আর আরভিন।

শেষ পর্যন্ত এই জুটিটি ভেঙেছেন মোস্তাফিজুর রহমান সপ্তম ওভারে। নিজের করা প্রথম ওভারটির চতুর্থ বলেই ক্রেইগ আরভিনকে তুলে নেন কাটার মাস্টার। ১৪ বলে ১১ রান করে বাঁহাতি এই পেসারকে তুলে মারতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে মোসাদ্দেকের সহজ ক্যাচ হন আরভিন।

এরপর অভিজ্ঞ মাসাকাদজাকে সাজঘরের পথ দেখান মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন। ২৬ বলে ৫ চার আর ১ ছক্কায় ৩৪ রানে পৌঁছে যাওয়া জিম্বাবুইয়ান অধিনায়ক হয়েছেন মিড অফে দাঁড়ানো সাব্বির রহমানের দুর্দান্ত এক ক্যাচ।

জিম্বাবুয়ের এই উইকেট শিকারের খেলায় পরের ওভারে যোগ দেন মোসাদ্দেক হোসেনও। নবম ওভারে হাত ঘুরাতে এসে প্রথম বলেই শন উইলিয়ামসকে (২) ফিরতি ক্যাচ বানান এই অফস্পিনার। পরের ওভারে দুর্দান্ত এক থ্রোতে তিমিসেন মারুমাকে (১) রানআউট করেন সাকিব। তার থ্রো থেকে দ্রুতই বেল ফেলে দেন বোলার মোস্তাফিজ।

তবে ষষ্ঠ উইকেটে মুতুমবদজি আর রায়ান বার্ল ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নেন। এই জুটিতে সবচেয়ে মারমুখী ছিলেন বার্ল। ১৬তম ওভারে সাকিবকে রীতিমতো কাঁদিয়ে ছাড়েন এই ব্যাটসম্যান। ওই এক ওভারেই তিনি তুলে নেন ৩০ রান। ২৮ বলে করেন ফিফটি। শেষ পর্যন্ত এই জুটি থেকে ৫১ বলে আসে ৭৭ রান। বার্ল ৩২ বলে ৫৭ আর মুতুমবদজি ২৫ বলে অপরাজিত থাকেন ২১ রানে।

বাংলাদেশের পক্ষে একটি করে উইকেট নিয়েছেন তাইজুল, মোসাদ্দেক, মোস্তাফিজ আর সাইফউদ্দীন।

বাংলাদেশে একাদশ: সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, আফিফ হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন, সাব্বির রহমান, তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান, ইয়াসিন আরাফাত।

জিম্বাবুয়ে একাদশ: হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, রায়ান বার্ল, রেগিস চাকাভা, ক্রেইগ আরভিন, কাইল জার্ভিস, নেভিল ম্যাডজিভা, টাইমসেন মারনুমা, ক্রিস এম্পোফু, টনি মানিয়োঙ্গা, টিনেওটেন্ডা মাতুমবোডজি, রিচমন্ড মাতুমবামি, আইন্সলে এনডোভু।

এমবি