অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মধ্যে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনাল নিয়ে আগে থেকেই ব্যাপক আগ্রহী ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটপাগলরা। আজ যেন পুরো বাংলাদেশের চোখ ছিল এই ম্যাচের দিকে। কিন্তু কেন এই ম্যাচটি এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলো বাংলাদেশের দর্শকদের জন্যে? এর উত্তরটি সবারই জানা। কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশকে অন্যায়ভাবে হারিয়েছে ভারত- এই অভিযোগ ও ক্ষোভ থেকেই বাংলাদেশ আজ ভারতবিরোধী হয়ে উঠেছিল।
অস্ট্রেলিয়া ৯৫ রানে ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেছে। আর খেলা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফেসবুকে হুমড়ি খেয়ে পড়েন বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তরা। তারা তাদের মনের ভাব-আবেগ প্রকাশ করতে থাকেন। বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নেই অথচ এমন ম্যাচে বাংলাদেশের দর্শকরা ফেসবুকে এত আলোড়ন তুলেছেন এর নজির মনে হয় আর নেই। চটকদার, তীর্যক, মজার মজার ও কিছু কিছু ক্ষেত্রে অশ্লীলভাবেও আবেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এখানে ফেসবুক থেকে নেয়া কিছু স্ট্যাটাস উল্লেখ করা হলো-
হুমায়ুন কবির: বাংলাদেশ ৯৬ রানে জিতে গেলো।
লাইভ পান্না: ঠকায়গা তো ঠকেগা,,,,,,,,,,,,ইন্ডিয়া।
রেডিও মুন্না: আমরা জানি কোয়ার্টার ফাইনালে চুরি না করলে বাংলাদেশের সাথে তোরা জিততে পারতি না।
"আম্পায়্যারের ভুল সিদ্ধান্ত" নামক দড়ি দিয়ে হাত-পা বেঁধে, আইসিসির হাতে ধরা রেন্ড়িয়া নামক ভোতা চুরি দিয়ে আমাদের সেমিফাইনালে যাওয়ার স্বপ্নকে জবাই করেছিস তোরা।
আর আমরা হলে?
হুম... অষ্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ফাইনালে উঠার আনন্দে পুরো জাতি আনন্দে ভাসতাম এতক্ষণে।
তারপর?
তারপর নিউজিল্যান্ডকে "বাংলা ওয়াশ" নীতিতে বদ করে ওয়ার্ল্ড কাপ ঘাড়ে করে নিয়ে ঠিকই দেশে ফিরতাম।
ভালোয় ভালোয় সুস্থ ভাবে খেলে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিলেই পারতি। তাতে করে অন্তত এতটা লজ্জার মুখে পড়তে হত না তোদের।
ফয়েজ উদ্দিন: আমার মনে হচ্ছে ইন্ডিয়া হেরে যাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার চেয়েও বাঙ্গালিরা বেশি খুশি ।
ভারতীয় চোরদের উচিত শিক্ষায় খুশি না হয়ে কি পারা যায় । এত তাড়াতাড়ি চোরদের উচিত শিক্ষা দেখে সতিই আমি অবাক as well as পুলকিত ।
মনিরুল ইসলাম: সারা জীবন আর্ধেক ডিম পুরোটা খেয়েছেন। আজ আস্ত ডিমের পুরোটাই দিয়ে দিলো দাদা। কোনদিক দিয়ে খাবে, সেটা দাদাদের ব্যাপার। এখন এর কী হবে ???
খালিদ হাসান: তোরা হারবি, আরো হারবি, আবারও হারবি, তারপরও হারবি। আমাদের মাশরাফি তথা বাঙালির সরল মনে দ:খ দিয়েছিস তোরা। এভাবেই তোদের হারতে হবে। এই দিনটি যেন বারবার ফিরে আসে সেই কামনা করছি।
জসীম উদ্দীন মাহীর: খুশিতে বগল বাজাতে ইচ্ছে করছে
ব্রিটিশরা ছিল আমাদের দাদার শত্রু পাকিস্তান ছিল আমাদের বাবার শত্রু আর ভারত এখন আমার তথা আমার মতো তরুন যুবকদের শত্রু ভারত কল্পনাও করতে পারবে না বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম স্বাধীনতার যুদ্ধে সহযোগীতার কারণে ভারতকে বন্ধু দেশই ভাবতো। কিন্তু ক্রিকেট বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল খেলায় বেঈমানী করে বাংলাদেশকে হারিয়ে দেয়ায় তরুণ প্রজন্মের প্রধান শত্রু এখন ভারত। এই তিন ফরমেটের শত্রুর ক্রিকেট বিশ্বকাপ থেকে করুণ বিদায়ে যারপরনাই খুশি আমি। খুশি আমার মতো লক্ষ কোটি বাঙ্গালী।
আসো সব বন্ধু ও সখি উলু ধ্বনি দেই, খুশিতে বগল বাজাই। তিন শত্রুকে যে আর দেখতে হচ্ছে ক্রিকেট বিশ্বকাপ মঞ্চে।
ইমরান নাজির: বিশ্বকাপ কেনিয়া (যে কেউ) পাক, তবুও যেন ভারত না পায়..
ফয়েজ আহমেদ: ওয়াওও আমার এতো আনন্দ লাগছে কেন..!মনে হচ্ছে আমি জিতে গেছি....We get it back in right time
জাহাঙ্গীর জাহিদ: সব নাচ তোরা একাই নাচিস নে, একটু নাচতে দিস মোরে
সানাউল হক সানি: ভারতকে অভিনন্দন....!!!
জাতি হিসেবে আমাদের বিভেদের সংস্কৃতি অনেক পুরনো। ফুটবল-ক্রিকেট বিশ্বকাপে আসলেতো কথাই নেই আমাদের বাংলাদেশের নামটা পর্যন্ত ভুলে যাই। তবে এবার ক্রিকেট বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের চৌর্যবৃত্তির বদৌলতে সারা দেশটা একখন্ড বাংলাদেশ হতে পেরেছে। একটা পরাজয়ে যদি কোন জাতির এমন ঐক্য আসে তা অনেক সময় কল্যাণকরও। দীর্ঘদিনের বন্ধু প্রতিবেশী ভারতের আঞ্চলিক রাজনীতিতে এটা একটা বড় ধরনের ধাক্কা। কারণ দেশের তরুণ প্রজন্মের উল্লেখযোগ্য অংশ ভারত প্রেমে অন্ধ থাকলেও এবার বোধহয় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। অন্তত আজকের ভারত-অস্ট্রেলিয়া সেমি-ফাইনাল ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে মানুষের অন্ধ সাপোর্ট দেখলে তাই মনে হবে।
এমএ





