পাকিস্তানের বিপক্ষে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ড্র হয়েছে খুলনায় অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্ট। পাকিস্তানের বিপক্ষে এই প্রথমবারের মতো টেস্টে ড্র করল টাইগাররা।
শনিবার খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে বিনা উইকেটে ২৭৩ রান নিয়ে পঞ্চম ও শেষ দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। ম্যাচ ড্র ঘোষণার আগে ৬ উইকেটে ৫৫৫ রান সংগ্রহ করে তারা।
নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩৩২ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ৬২৮ রানে অলআউট হওয়া পাকিস্তান নেয় ২৯৬ রানের লিড।
দ্বিতীয় ইনিংসে তামিম ও ইমরুলের ব্যাট দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। টেস্টে দলের দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথম তিনশ’ রানের জুটি উপহার দেন তামিম ও ইমরুল। ক্যারিয়ার সেরা ১৫০ রানের ইনিংস খেলে ইমরুল ফিরে গেলে ভাঙে ৩১২ রানের জুটি।
টানা তৃতীয় শতক পাওয়া তামিম পৌঁছেছেন ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানে। টেস্টে তার আগের সেরা রান ছিল ১৫১ রান।
টেস্টে ক্যারিয়ার সেরা রান করেছেন ইমরুল কায়েসও। টানা দুই টেস্টে শতক পাওয়া এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের আগের সেরা ছিল ১৩০ রান।
টেস্টে বাংলাদেশকে প্রথম তিনশ’ রানের জুটি উপহার দিয়েছেন তামিম ও ইমরুল। এই টেস্টের আগে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি ছিল মোহাম্মদ আশরাফুল ও মুশফিকুর রহিমের ২৬৭ রান।
পঞ্চম দিনে ১৩২ রান নিয়ে খেলা শুরু করা ইমরুল কায়েস ১৫০ রান করে ফিরে যান। জুলফিকার বাবরের বলে এগিয়ে এসে তুলে মারতে গিয়ে লংঅফে বদলি ফিল্ডার বাবর আজমের ক্যাচে পরিণত হন এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান।
৮৯তম ওভারে জুনায়েদ খানের বলে বোল্ড হয়ে যান মুমিনুল হক (২১)। পা না নিয়ে খেলার মাশুল দিয়ে বোল্ড হন প্রথম ইনিংসে ৮০ রান করা এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
মোহাম্মদ হাফিজের বলে স্টাম্পিং হয়ে বিদায় নেয়ার আগে ২০৬ রানের চমৎকার এক ইনিংস খেলেন তামিম। টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস এটিই। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে দ্বিশতক রান করা এই ব্যাটসম্যান ভাঙেন মুশফিকুর রহিমের (২০০) রেকর্ড।
জুনায়েদ খানের বলে মাহমুদুল্লাহকে এলবিডব্লিউ আউট দেন আম্পায়ার। রিভিউতে দেখা যায় অফস্টাম্পে ছিল বলটি। ফলে বিদায় নিতে হয় ৭১ বলে ৪০ রান করা মাহমুদুল্লাহ। এতে ভেঙে যায় সাকিবের সঙ্গে তার গড়া ৬৪ রানের জুটি।
দলের রানের খাতায় এক রান যোগ হতে মোহাম্মদ হাফিজের বলে এবার মুশফিকুর রহিমকে এলবিডব্লিউ আউট দেয়া হয়। রিভিউ না নিলেও দেখা যায় বলটি সামান্যই স্টাম্পে লাগত।
সৌম্য সরকার ৩৩ রান করে সাজঘরে ফিরে গেলেও সাকিব ৭৬ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন। তার সঙ্গে ২০ রান নিয়ে খেলা শেষ করেন শুভাগত হোম।
জেডআই





