মিরপুরে বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপের ষষ্ঠ ম্যাচে তামিম একাদশকে ৭ রানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে নাজমুল একাদশ। তামিমদের পরাজয়ে ফাইনালে উঠেছে মাহমুদউল্লাহ একাদশও, আর টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে পড়েছে তামিমের দল।
ডাকওয়ার্থলুইস পদ্ধতিতে তামিম একাদশের লক্ষ্য ছিল ১৬৪ রান। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই এনামুল হক বিজয়কে হারায় দল। তবে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনকে নিয়ে বিপর্যয় সামাল দেন তামিম। অঙ্কন ২২ রান করে বিদায় নিলেও তামিম তুলে নেন অর্ধশতক। ৮৫ বলের মোকাবেলায় ৬টি চারের মাধ্যমে ৫৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন এই ওপেনার। অধিনায়কের বিদায়ে কিছুটা বিপাকে পড়ে যায় দল।
রানের গতি কমে গেলে যখন মারমুখো ব্যাটিং প্রয়োজন ছিল, তখন ইয়াসির আলি রাব্বি ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের উইকেট হারিয়ে আরও চাপে পড়ে যায় তামিম একাদশ। শেষদিকে মোহাম্মদ মিঠুন (২৯ রান) চেষ্টা করলেও মেহেদী হাসান (১০ বলে ৪) ও আকবর আলি (৭ বলে ১) সময়ের দাবি মিটিয়ে ব্যাটিং করতে পারেননি। শেষদিকে ৭ রানের কমতিতে ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ে তামিমের দল। ৪০.৪ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ফেলেন সাইফউদ্দিন-মিঠুনরা।
নাজমুল একাদশের পক্ষে তাসকিন আহমেদ একাই শিকার করেন ৪টি উইকেট। এছাড়া ১টি করে উইকেট শিকার করেন আল আমিন হোসেন, আবু জায়েদ রাহী, নাসুম আহমেদ ও সৌম্য সরকার।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে নাজমুল একাদশ। দলীয় ৯ রানেই সাজঘরে ফেরেন সৌম্য সরকার (৭)। ১৯ রানে পারভেজ হোসেন ইমনের (১০) বিদায়ের পর চাপ বর্তায় মুশফিকুর রহিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর কাঁধে। কিন্তু সৌম্যর মত ব্যর্থ টুর্নামেন্ট কাটানো শান্ত দলীয় ২১ রানে প্যাভিলিয়নে পথ ধরেন মাত্র ৫ রান করে।
এরপর মুশফিকুর রহিম ও আফিফ হোসেন ধ্রুব সাবধানী ব্যাটিংয়ে বিপর্যয় সামলানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন। মাঝখানে বৃষ্টি নামলে ম্যাচের দৈর্ঘ্য নেমে আসে ৪১ ওভারে। আসরে এর আগে একটি করে শতক ও অর্ধশতক হাঁকানো মুশফিক এই ম্যাচেও বিদায় নেওয়ার আগে পূর্ণ করেন অর্ধশতক। ৭৫ বলে গড়া তার ৫১ রানের ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ১টি ছক্কা। তাকে শিকার করেন সাইফউদ্দিন।
আফিফ অবশ্য এদিন পঞ্চাশের দেখা পাননি। ৪টি চারে ৬১ বলে ৪০ রানের ইনিংস থামে মেহেদী হাসানের বলে বোল্ড হয়ে। তাদের বিদায়ের পর সাইফউদ্দিন-মুস্তাফিজদের সামনে দল আবারো খেই হারায়। শেষপর্যন্ত ৩৯.৩ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৬৫ রান জড়ো করে। তামিম একাদশের পক্ষে সাইফউদ্দিন একাই শিকার করেন পাঁচটি উইকেট। এছাড়া মুস্তাফিজুর রহমান তিনটি ও মেহেদী হাসান দুটি উইকেট শিকার করেন। তথ্য সূত্র- বিডিক্রিকটাইম
স্কোরকার্ড
টস: নাজমুল একাদশ
নাজমুল একাদশ: ১৬৫/১০ (৩৯.৩ ওভার)
ইমন ১০ (১৮), সৌম্য ৭ (৮), শান্ত ৫ (১৭), মুশফিক ৫১ (৭৫), আফিফ ৪০ (৬১), হৃদয় ১৩ (১৮ বলে), শুক্কুর ১১ (১৭), নাসুম, রিশাদ ১ (৩), তাসকিন ২ (৩), আল আমিন ১ (৫)
সাইফউদ্দিন ৮.৩-১-২৬-৫, মেহেদী ৮-০-৩৪-২, খালেদ ৮-০-৩৩-০, মুস্তাফিজ ৮-১-৩৬-৩, শরিফুল ৭-০-৩৬-০
তামিম একাদশ: বিজয় ৭ (১৩), অঙ্কন ২২ (৪৫), ইয়াসির ৬ (৩৩), মিঠুন ১৭ (২২), মোসাদ্দেক ৬ (৯), মেহেদী ৪ (১০), আকবর ১ (৭), সাইফউদ্দিন ১০ (৯), শরিফুল ০ (১), মুস্তাফিজ ০ (০)
তাসকিন ৮-০-৩৬-৪, আল আমিন ৯-০-১৮-১, রাহী ৮-০-৩৮-১, নাসুম ৮-০-২৭-১, আফিফ ৩-০-১০-০, রিশাদ ৪-১-১৭-০
ফল: নাজমুল একাদশ ৭ রানে জয়ী।
এমবি





