বাংলাদেশের ফুটবলকে চাঙ্গা করতে আর মাত্র ১ টি জয় প্রয়োজন । সেই কাজটি করতে পারলে ১৬ বছর পর সাফ ফুটবলের ফাইনালে উঠে যাবে লাল সবুজ জার্সিধারীরা।
আজ বুধবার ( ১৩ অক্টোবর) সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নেপালের বিপক্ষে মাঠে নামবে লাল-সবুজরা।
বাংলাদেশ সময় বুধবার বিকেল ৫টায় ম্যাচটি মাঠে গড়াবে। জয়ী হলেই ফাইনাল খেলবে অস্কার ব্রুজোনের শিষ্যরা।
ড্র করলেও তপু বর্মণ-তারিক কাজীদের বিদায় নিতে হবে আসর থেকে। অর্থাৎ ম্যাচটি অঘোষিত সেমিফাইনাল হিসেবে রূপান্তরিত হয়েছে।
এদিকে নেপালের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ফুটবলে পাল্লা ভারী বাংলাদেশের।
হেড টু হেড
দেশ জয় ড্র হার
বাংলাদেশ ১২ ৪ ৮
নেপাল ৮ ৪ ১২
১৯৯৩ সাল থেকে শুরু করে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত নেপালের সঙ্গে ২৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। যার মধ্যে ১২ জয়ের বিপরীতে জামালদের হার ৮টি। বাকি চার ম্যাচ ড্র।
নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ১৯৮৩ সালে। মারদেকা কাপের ওই ম্যাচে নেপালকে ১-০ গোলে হারায় বাংলাদেশ।
পরের বছরই সাউথ এশিয়ান গেমসে ৫-০ গোলে জয় পায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। যদিও আসরের ফাইনালে বাংলাদেশকে ৪-২ গোলে হারিয়ে সোনা জিতে নেয় স্বাগতিক নেপাল।
এরপর ১৯৮৬ সালে এশিয়ান গেমসে নেপালকে হারায় বাংলাদেশ। পরের বছর এসএ গেমসে হারলেও পরের ১৪ বছরে বাংলাদেশকে আর হারাতে পারেনি নেপাল।
এই সময়ে খেলা ৮টি ম্যাচের সবক’টিতে জয় পায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এরপরেই নেপাল এভারেস্টের প্রাচীর হয়ে বাংলাদেশের সামনে আসে।
২০১১, ২০১৩ ও সর্বশেষ ২০১৮তে নেপালের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ।
২০১১ দিল্লি সাফের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ড্র করে দ্বিতীয় ম্যাচে যখন জয়টা ছিল অতি কাঙ্ক্ষিত, তখনই হাজির অদম্য এক নেপাল।
৯০ মিনিটে গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত পাঁচ মিনিটের শেষ মিনিটে সাগর থাপার ফ্রি-কিকে শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশ। পরের আসর অর্থাৎ ২০১৩ কাঠমান্ডু সাফে গ্রুপের প্রথম ম্যাচটাই ছিল স্বাগতিক নেপালের বিপক্ষে।
দশরথ রঙ্গশালায় গতিময় ফুটবল নেপালের কাছে নতি-শিকার করে বাংলাদেশ ২-০ ব্যবধানে। এমন হারে শুরুর পর আর ঘুরে দাঁড়ানো হয়নি।
২০১৫ কেরালা সাফে অবশ্য দেখা মিলেনি চেনা এই প্রতিপক্ষের। তবে সর্বশেষ ২০১৮ সালে ঘরের মাঠে ঠিকই নেপাল হাজির দুঃখের ডালি সাজিয়ে।
ভুটান ও পাকিস্তানকে পরপর দু’ম্যাচে হারিয়ে উড়তে থাকা বাংলাদেশের শেষ ম্যাচে প্রয়োজন ছিল স্রেফ এক পয়েন্ট, যা তাদের নিয়ে যেত সেমিফাইনালে।
কিন্তু গোলরক্ষক সোহেল এমনই হাস্যকর এক গোল খেয়ে বসলেন, তাতেই ম্যাচটা থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ।
সব শেষ সাক্ষাতেও দেশটির বিপক্ষে হেরেছে জামালরা। চলতি বছর মার্চে নেপালে তিন জাতি আমন্ত্রণমূলক এক টুর্নামেন্টে অংশ নেয় বাংলাদেশ।
তিন জাতির এই টুর্নামেন্টে ভুটানের সঙ্গে জয় আর স্বাগতিক নেপালের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে বাংলাদেশ সুযোগ করে নেয় ফাইনালে।
সেই ফাইনালে জেমি ডে’র অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ২-১ গোলে হার মেনে শিরোপা হাতছাড়া করে বাংলাদেশ।
আজও সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বাধা নেপাল। বাংলাদেশ কি পারবে এই বাধা টপকিয়ে ১৬ বছর পর সাফের ফাইনাল নিশ্চিত করতে?
এইচএন





