জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর আর দেশে ফেরা হয়নি তার। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য হওয়ায় তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ একাধিক আইনি জটিলতা তৈরি হয়। এরপর থেকেই পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন তিনি।

সম্প্রতি ভারতের মুম্বাইয়ে ‘ইইউ টি-টোয়েন্টি বেলজিয়াম ২০২৬’-এর জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে ভারতীয় গণমাধ্যম স্পোর্টস্টার-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন,“আমি আশাবাদী যে বছরের শেষ দিকে সবকিছুর সমাধান হয়ে যাবে। আপাতত ভালো কিছুর প্রত্যাশা করছি। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত—আমাকে বাংলাদেশে ফিরতেই হবে। প্রশ্ন শুধু কত দ্রুত তা সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন,“আমি সত্যিই আশাবাদী যে বছরের শেষ নাগাদ ফিরতে পারব। কিভাবে হবে জানি না, তবে আশা রাখছি।”

চলতি বছরের শুরুতে তাকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তখন আমিনুল ইসলাম বুলবুল–এর নেতৃত্বাধীন বোর্ড তার মামলার নথিপত্র সংগ্রহ করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। শোনা গিয়েছিল পাকিস্তান সিরিজ দিয়েই জাতীয় দলে ফিরতে পারেন তিনি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি।

এ বিষয়ে সাকিবের অভিযোগ, আগের বোর্ডের আগ্রহ থাকলেও কার্যকর উদ্যোগের অভাব ছিল।

“মুখে বলা আর বাস্তবে করা—দুটির মধ্যে অনেক পার্থক্য,” বলেন তিনি।

এদিকে বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল সাকিবের ফেরাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। মিরপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,

“সাকিবের জন্য আমাদের দরজা সবসময় খোলা। আইনি বিষয়গুলো সমাধান হলে আমরা তাকে স্বাগত জানাব।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা এবং খালেদ মাহমুদ সুজন–এর বিষয়েও একইভাবে ভাবা উচিত।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বশেষ ২০২৪ সালের অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টে মাঠে নেমেছিলেন সাকিব। এরপর আর জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা যায়নি তাকে। তবে দেশের মাটিতে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর ইচ্ছার কথা আগেই জানিয়েছেন এই বাঁহাতি অলরাউন্ডার।

এস