মাশরাফি বিন মুর্তজা, তামিম ইকবাল এউইন মরগান আসবেন না, জানাই ছিল। পরশু দল ঘোষণার পর দেখা গেল, ওয়ানডে সিরিজের ১৪ জনের দলে জো রুটও নেই। এ মাসের শুরুতে শেষ হওয়া পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যান অব দ্য সিরিজ রুটকে ওয়ানডেতে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। তবে টেস্ট সিরিজে তিনি আসছেন।
বাংলাদেশ সফরের ইংল্যান্ড দল নিয়ে আলোচনার বিষয় আপাতত এটুকুই। এর বাইরে বলার মতো তেমন কিছু দেখছেন না বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাও। তাঁর চোখে এ মুহূর্তে বিশ্ব ক্রিকেটে সেরা দুটি দলের একটি ইংল্যান্ড, অন্যটি অস্ট্রেলিয়া। কাজেই ‘ইংল্যান্ড যেমন দলই পাঠাক, আমাদের সেরা খেলাটাই খেলতে হবে’—এই হলো মাশরাফির উপলব্ধি।
কথাটা খুব কেতাবি মনে হচ্ছে। যেকোনো দলের বিপক্ষে খেলার আগে যেকোনো অধিনায়ক তো এ রকমই বলে থাকেন! কিন্তু মাশরাফি কথাটা বলছেন ইংল্যান্ডের প্রকৃত শক্তিমত্তা বুঝেই, ‘ইংল্যান্ড শক্তিশালী দলই পাঠাচ্ছে। সবাই মিলেই ওরা দারুণ একটা দল। বেন স্টোকস, মঈন আলী, জেসন রয় ভালো ফর্মে আছে। বেয়ারস্টো মিডল অর্ডারে ভালো খেলছে। আদিল রশিদও এখন অভিজ্ঞ। আর রুটকে তো ওরা বুঝেশুনেই ওয়ানডেতে পাঠাচ্ছে না। রুট আসবে না বলে ইংল্যান্ড দুর্বল হয়ে যাবে, এ রকম ভাবার কারণ নেই।’
ঘরের মাঠে বাংলাদেশ দলকে এখন প্রকৃত ‘বাঘে’র মর্যাদা দেয় সব প্রতিপক্ষই। বাংলাদেশে ইংল্যান্ডের ‘মেষশাবক’দের দল নিয়ে না আসাটাই তাই স্বাভাবিক। তবে ইংল্যান্ডের এই দলের বিপক্ষেও ওয়ানডেতে বাংলাদেশ দলের একটাই লক্ষ্য—জয়। ওপেনার তামিম ইকবাল যেমন ‘ইংল্যান্ড ভালো দলই করেছে’ বলেও ঘোষণা করে দিলেন, ‘এ সিরিজটাও আমরা জেতার জন্য খেলব। ইংল্যান্ডকে হারানোর সামর্থ্য যে আমাদের আছে, সেটা আগেও প্রমাণ হয়েছে।’
সেই প্রমাণ বাংলাদেশ এমনভাবেই দিয়েছে যে ওয়ানডে সিরিজে কেউ মাশরাফির দলকে ফেবারিট বললে তা একটুও বাড়াবাড়ি হবে না। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে ইংল্যান্ডকেই সবার শেষে ওয়ানডেতে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এরপর থেকে ইংল্যান্ড কিন্তু বাংলাদেশের ‘প্রিয় প্রতিপক্ষ’-ই হয়ে গেছে! ২০১০ সালে ব্রিস্টলে প্রথম জয় থেকে ধরলে দুই দলের সর্বশেষ চার ম্যাচের তিনটিতেই জিতেছে বাংলাদেশ। জয় সর্বশেষ দুটি ম্যাচেও। পরপর দুটি বিশ্বকাপে।
গত বিশ্বকাপের পর থেকে ইংল্যান্ড অবশ্য অনেকটাই বদলে যাওয়া দল। তবে এ নিয়ে মাশরাফি-তামিম এখনই বেশি কথা বলতে চান না। এর আগে যে আফগানিস্তান সিরিজ আছে। সেই সিরিজটিও তাঁদের কাছে কম গুরুত্ব পাচ্ছে না—
মাশরাফি: পরে ইংল্যান্ড সিরিজ থাকায় আফগানিস্তান সিরিজও এখন গুরুত্বপূর্ণ। এই সিরিজটা ভালো খেললে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আমরা মানসিকভাবে উজ্জীবিত থাকব। মনে হবে, সবকিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণেই আছে।
তামিম: আমাদের দৃষ্টি আপাতত আফগানিস্তান সিরিজের ওপর থাকাই ভালো। এই তিনটি ম্যাচ খুব গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ৬-৭ মাস আমরা কেমন ক্রিকেট খেলব, এই সিরিজের ফলাফলই সেটা ঠিক করে দেবে। ইংল্যান্ড সিরিজ বা এরপরের খেলাগুলোর জন্য ছন্দটা এখান থেকেই নিয়ে নিতে হবে।
নড়াইলে ঈদ করে মাশরাফি ঢাকায় ফিরেছেন কাল বিকেলে। চট্টগ্রাম থেকে ফিরে এসেছেন তামিমও। বাকিদেরও আজ সকালের মধ্যেই ঢাকায় থাকার কথা। কারণ আজ বিকেল চারটায় খেলোয়াড়দের নিয়ে আবারও মাঠে নেমে পড়বেন কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। পরশু রাতেই ঢাকায় চলে আসা শ্রীলঙ্কান ব্যাটিং কোচ থিলান সামারাবীরাও থাকবেন তাঁর সঙ্গে।
ঈদে মোটামুটি লম্বা বিরতির পর আজ থেকে শুরু অনুশীলনটাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চান মাশরাফি, ‘এই পাঁচ-সাত দিনের অনুশীলন খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনুশীলন আমরা যদিও আগে থেকেই করছি, এটা প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্ব। আমরা অনেক দিন পর ওয়ানডে খেলব। আফগানিস্তান সিরিজটা নিজেদের ভালোভাবে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ।’
আফগানিস্তান সিরিজের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করার কথা আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই।
এম এ





