দ্বিতীয় টেস্টে অজিদের প্রথম ইনিংসে শুরুতেই আঘাত হানলেন 'কাটার মাস্টার' খ্যাত মুস্তাফিজুর রহমান। অজিদের দলীয় ৫ রানে ম্যাট রেনশকে (৪) অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের অসাধারণ এক ক্যাচে পরিণত করলেন মুস্তাফিজ।
এবার এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অতিথিদের রান ১ উইকেটে ৯।
দ্বিতীয় দিন সবটা নির্ভর করছিলো মুশফিকুর রহীম ও নাসির হোসেনের ওপর। নাসির খানিকক্ষণ টিকতে পারলেও মুশফিক আউট হলেন শুরুতেই।
প্রথম ইনিংসে তাই খুব বড় সংগ্রহ হলো না বাংলাদেশের। অল আউট হওয়ার আগে বোর্ডে রান জড়ো করেছে টাইগার ব্যাটসম্যানরা। ৯৪ রানে ৭ উইকেট নিয়েছেন ন্যাথান লায়ন।
এদিন প্রথম আধাঘন্টা দেখেশুনেই খেলছিলেন মুশফিক ও নাসির। দিনের পঞ্চম ওভারে গিয়েই ঘটে বিপত্তি। অসিদের আগের দিনের হিরো ন্যাথান লায়ন বল করতে এসেই আউট করে দেন মুশফিককে। তার বলে ডিফেন্সিভ শট পুশ করলেও ইনসাইড এজ হয়ে ভেঙে যায় ষ্টাম্প। ১৬৬ বলে ৬৮ রান করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
নাসিরের সুযোগ ছিলো নিজেকে আরও মেলে ধরার। ৪৫ রান করে তিনি এগুচ্ছিলেন আরেকটি টেস্ট ফিফটির দিকে। কিন্তু হঠাৎই ধৈর্য্যচ্যুতি। অ্যাস্টন অ্যাগারের বলে কাট করতে গিয়ে বল জমা দেন উইকেট কিপারের গ্লাভসে। থেমে যায় তার ৪৫ রানের লড়াই।
তবু ভরসা ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ১১ রান করে রান আউট হয়েছেন এই অফ স্পিনিং অল রাউন্ডার। শেষ দিকে ১২ বলে ৯ রান করে দলের সংগ্রহ ৩০০ পার করার তাইজুল ইসলাম। তাকে উপড়ে ফেলে ৭ উইকেট তুলে নেন অসিদের সেরা স্পিনার ন্যাথান লায়ন।
সোমবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিং নেয় টাইগাররা।প্রথম দিনে ৬ উইকেটে ২৫৩ রান করেছিলো বাংলাদেশ। ১১৭ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়া দলকে প্রাণ দেন সাব্বির রহমান ও মুশফিকুর রহিম। তাদের ১০৫ রানের জুটিতেই মূলত আসে লড়াইয়ের পূঁজি। সাব্বির করেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৬ রান।
দ্বিতীয় দিনের পিচে বল হুট করে লাফিয়ে উঠছে, পাওয়া যাচ্ছে টার্ন। ৩০৫ রান করেও তাই ভালো অবস্থানেই আছে বাংলাদেশ। টার্নিং পিচের ফায়দা তুলে নেওয়ার পালা এবার বাংলাদেশের স্পিনারদের।
ঢাকায় প্রথম টেস্ট ২০ রানে জিতে সিরিজে এরমধ্যে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে মুশফিকুর রহীমের দল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস- ৩০৫/১০ (মুশফিক ৬৮, সাব্বির ৬৬, নাসির ৪৫; লায়ন ৭/৯৪)
বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক ও অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, মুমিনুল হক, সাব্বির রহমান, নাসির হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম এবং মোস্তাফিজুর রহমান।
অস্ট্রেলিয়া একাদশ: ডেভিড ওয়ার্নার, ম্যাট রেনশ, স্টিভেন স্মিথ (অধিনায়ক), হিলটন কার্টরাইট, পিটার হ্যান্ডসকম্ব, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ম্যাথু ওয়েড (উইকেটরক্ষক), অ্যাস্টন অ্যাগার, প্যাট কামিন্স, স্টিভ ওকিফ এবং নাথান লায়ন।
এমবি





