এশিয়ার ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় মহাযজ্ঞ এশিয়া কাপে প্রথমবারের মতো মাঠে নামতে যাচ্ছে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান। বৃহস্পতিবার অভিষেক ম্যাচে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে তারা। বাংলাদেশ সময় বেলা ২টায় ফতুল্লাহর খান সাবেহ ওসমান আলী স্টেডিয়ামে খেলাটি শুরু হবে।
এই ম্যাচটির মাধ্যমে শুধু এশিয়া কাপই নয়, ক্রিকেটের বড় কোনো টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে আফগানিস্তান। নবাগত দল হলেও নিজের আত্মবিশ্বাস নিয়ে বেশ স্বস্তিতেই আছেন আফগান অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী। বিশেষ করে বাংলাদেশের মাটিতে সফলতা পাবার ব্যাপারে তিনি বেশ আশাবাদী।
আফগান অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী বলেন বাংলাদেশে খেলার অভিজ্ঞতায় ভরপুর তিনি নিজে ও তার দলের সদস্যরা। বিশেষ করে এখানকার ঘরোয়া ক্রিকেটে তাদের হরহামেশা বিচরণ রয়েছে। আফগানিস্তানের অন্তত আটজন ক্রিকেটার ইতোমধ্যে বাংলাদেশে বিভিন্ন ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশ নিয়েছে। যাদের মধ্যে ছয়জন বর্তমান দলে রয়েছে। চলতি মৌসুমের শুরুর দিকেও তারা এখানকার বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে অংশ নিয়েছে ঘরোয়া ক্রিকেটে। তাই তার আশাবাদ, ‘ঢাকার মতো পরিচিত পরিবেশে ভালোই খেলবো। অনুকূল পরিবেশ আমাদের হয়েই কথা বলবে।’
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে বাংলাদেশে খেলে গেছেন মোহাম্মদ নবী, রহমত শাহ, আজগর, গুলবদিন নাইব, শাহজাদ ও শাপুর ছয়জন আফগানিস্তানের ক্রিকেটার। বিপিএলে পাঁচ ম্যাচে নবী একটি শতকসহ ২২৩ রান করেছেন।
নবীর কথায়, ‘বিপিএল ও ঢাকা প্রিমিয়ার বিভাগ ক্রিকেট লীগে খেলে গেছি আমি। দলের আরও পাঁচজন ক্রিকেটারও খেলে গেছেন। এখানে দু’টি টুর্নামেন্টেই ভালো পারফর্ম করেছি। তাই বাংলাদেশের পিচ ও গ্রাউন্ডস সম্পর্কে আমার বেশ ভালোই ধারনা রয়েছে আমার। তাই এই চেনা গ্রাউন্ডে আমিসহ অন্যরা সেরাটা দিতেই চেষ্টা করবে।’
২৭টি ওয়ানডে ম্যাচে ৬৫৫ রান করা নবী যোগ করেন, ‘এখানে এসে শুনেছি, বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান তিন ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন। এটা আমাদের জন্য বড় সুযোগ। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে আমাদের।’
আইসিসির সহযোগী সদস্য হওয়ার পর গেল বছর টি-২০ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে তারা। এমনকি আগামী বছর অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ক্রিকেটেও খেলাবে আফগানিস্তান। এর মধ্যে পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি টি-২০ ম্যাচও খেলেছে আফগানিস্তান। ম্যাচে ৬ উইকেটে হেরেছিল তারা। সেই দলকে ফের এশিয়া কাপে পেয়ে ক্যারিয়ারে ২৩ উইকেট পাওয়া নবী বলেন, ‘বড় দলের বিপক্ষে খেলতে পারার মজাই আলাদা। আর টি-২০ বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলাটা তো আরও বড় ব্যাপার। অবশ্য তারাও জানে আমাদের খেলা সম্পর্কে।’
সবকিছু মিলিয়ে এশিয়া কাপেই চমক দেখানোর প্রহর গুনছে নবাগত আফগানিস্তান। এখন প্রতিবেশী পাকিস্তানের চিরচেনা ক্রিকেটারদের বিপক্ষে মিশনের প্রথম লড়াইয়ে তারা কি চমক দেখায় সেটাই দেখার বিষয়।