ভারতে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আইপিএলে স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারির তদন্ত করছিল সুপ্রিম কোর্টের নিযুক্ত যে প্যানেল, তারা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান এন শ্রীনিবাসনের জামাই-কে অবৈধ বেটিংয়ে দোষী বলে চিহ্নিত করেছে।
বিচারপতি মুকুল মুদগলের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি সোমবার ভারতের শীর্ষ আদালতে যে রিপোর্ট জমা দিয়েছে, তাতেই বোর্ড প্রধানের জামাই গুরুনাথ মেয়িপ্পান বেটিংয়ে জড়িত ছিলেন বলে জানানো হয়েছে।
[img=399x245]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201402/1392089771.jpg[/img]
এই রিপোর্টে শ্রীনিবাসন পরিবারের জন্য অস্বস্তিকর ঠিক কী রয়েছে ?
আদালতে জমা-পড়া এই রিপোর্ট কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়নি, তবে এর বিষয়বস্তু ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে পুরোটাই ফাঁস হয়ে গেছে এবং তদন্ত প্যানেল তার কোনও প্রতিবাদও করেনি।
ফাঁস হওয়া সেই রিপোর্টে যা বলা হয়েছে, তার সারমর্ম হল মেয়িপ্পান আইপিএলের অন্যতম সেরা দল ও দুবারের চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সুপার কিংসের একজন টিম প্রিন্সিপাল ছিলেন। যে দলের মালিক আবার তার শ্বশুর ও ভারতীয় বোর্ডের প্রধান মিঃ শ্রীনিবাসন নিজে।
টিম প্রিন্সিপাল থাকা অবস্থাতেই মেয়িপ্পান ক্রিকেট বুকিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন, তাদের গোপন তথ্য সরবরাহ করেছেন, এমন কী আইপিএলে নিজের ও অন্য দলের খেলার ওপর যে বেআইনিভাবে বাজি ধরেছেন , তদন্তে সেটা প্রমাণিত হয়েছে।
মেয়িপ্পান শুধুই একজন ক্রিকেট অনুরাগী, চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক ছিল না – এই দাবিও খারিজ করে দিয়েছে জাস্টিস মুদগল কমিটি।
ফলে শ্রীনিবাসন যে আগাগোড়া বলে এসেছেন চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে ফিক্সিংয়ের কোনও সম্পর্ক ছিল না, এমন কী নিজের জামাইয়ের সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই, তাকে চিনি না বলে পর্যন্ত একটা সময় দাবি করেছেন – আজকের রিপোর্টের পর সেটা পুরোটাই নস্যাৎ হয়ে গেল বলা চলে।
শ্রীনিবাসন এখন বিসিসিআইয়ের প্রধান, মাসকয়েকের মধ্যে তিনি আইসিসি-র চেয়ারম্যান হবেন বলেও কথা রয়েছে। এই রিপোর্ট তাকে কতটা সমস্যায় ফেলতে পারে?
সুপ্রিম কোর্ট এই রিপোর্ট পর্যালোচনা করবে আগামী ৭ মার্চ। তার পরেই জানা যাবে তদন্তে যাদের দোষী বলে চিহ্নিত করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টে যদিও শ্রীনিবাসন নিজে অভিযুক্ত হননি, কিন্তু তার মালিকানাধীন দলেই যে বেআইনি কার্যকলাপ চলছিল এবং সেটা তার জামাইয়ের মদতে, সেটা এখন পরিষ্কার।
যিনি ভারতীয় বোর্ডের প্রধান, সেই বোর্ডের একটা টুর্নামেন্টে ফ্র্রাঞ্চাইজিরও মালিক তিনি, ফলে শ্রীনিবাসনের বিরুদ্ধে কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট বা স্বার্থের সংঘাত যাকে বলে, সেই অভিযোগ উঠেছে আগাগোড়াই।
কিন্তু তিনি সেই অভিযোগ কোনওদিন আমলই দেননি, আইপিএলে ফিক্সিং কেলেঙ্কারির পরও বোর্ড সদস্যদের ভোটে জিতে বিসিসিআই প্রধান হয়েছেন, সরকারও তার কিছুই করতে পারেনি।
কিন্তু এখন তার দলের টিম প্রিন্সিপাল তথা নিজের জামাই যদি সুপ্রিম কোর্টে সাজা পান, তাহলে তার দায় কিছুটা মি শ্রীনিবাসনের ওপরও এসে পড়বে এবং তার পদত্যাগের জন্য চাপ বাড়বে সন্দেহ নেই।
এমনকি যে আইসিসি'র সদস্য দেশগুলো মাত্র দু'দিন আগে তাকে ভাবী চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছে, তারাও যদি কেউ কেউ নৈতিকতার প্রশ্নে এখন আপত্তি করে বসে, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
লন্ডনে স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকা আইপিএলের সাবেক কমিশনার ললিত মোদী আজই দাবি করেছেন, চেন্নাই সুপার কিংসের সব খেতাব কেড়ে নাও, বিপুল জরিমানা কর এবং শ্রীনিবাসনকে ভারতীয় বোর্ড ও আইসিসি থেকে তাড়াও।
তবে সেটা বলা যত সহজ, করাটা এখনও তত সহজ নয় বলেই ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি
[b]ঢাকা, ১১ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডিডটকম)// ইএইচ/এফএ
[/b]
খেলা
শ্রীনিবাসনের জামাই দোষী চিহ্নিত
ভারতে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আইপিএলে স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারির তদন্ত করছিল সুপ্রিম কোর্টের নিযুক্ত যে প্যানেল, তারা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান এন শ্রীনিবাসনের জামাই-কে অবৈধ বেটিংয়ে দোষী বলে চিহ্নিত করেছে





