চলতি মৌসুমে অনেক নাকানি-চুবানি খেয়েছে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। প্রিমিয়ার লিগের শিরোপার আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ-১৬'র লড়াইয়ে প্রথম লেগে অলিম্পিয়াকোসের মাঠে ২-০ গোলে হেরেছিল তারা। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা তাদের জন্য একটি স্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই ছিল না। সেই স্বপ্নটি অবিশ্বাস্যভাবে সত্যিই হলো বুধবার রাতে। নিজেদের মাঠ ওল্ড ট্রাফোর্ডে রবিন ভন পার্সির হ্যাটট্রিকে ৩-০ গোলে জয় পেয়েছে কোচ ডেভিড ময়েসের শিষ্যরা। ফলে দুই লেগ মিলে ৩-২ গোলে এগিয়ে থেকে শেষ আটে নাম লিখিয়েছে তারা।
চাপের মধ্যে থাকা ইউনাইটেড ম্যানেজার ডেভিড ময়েস কাল মাঠে অন্যরকম এক ইউনাইটেডকে আবিষ্কার করেছেন। প্রথম লেগে অলিম্পিয়াকোসের কাছে বিস্ময়করভাবে ২-০ গোলে পরাজিত ইউনাইটেড যে নিজেদের মাঠ ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে কতটা চাপে ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু ডাচ উইঙ্গার ফন পার্সি সব আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে দ্বিতীয় ইংলিশ দল হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগে ইউনাইটেডকে পৌঁছে দিয়েছেন। রোববার লিভারপুলের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে ঘরোয়া লিগে পরাজিত হবার পরে দলের এই প্রত্যাবর্তন নি:সন্দেহে শেষ আটের অন্য দলগুলোর জন্য একটি সতর্ক বার্তাই বটে।
এর আগে একবারই চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথম লেগে পরাজিত হবার পরে লড়াইয়ে ফিরে এসেছিল ইউনাইটেড। ২০০৭ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে রোমার বিপক্ষে সেইবার দারুণ খেলেছিল স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের শিষ্যরা। তবে সেই দলটির তুলনায় বর্তমান ইউনাইটেডের সাম্প্রতিক পারফরমেন্সে কিছুটা অবাকই হয়েছে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের সমর্থকরা। আর এর থেকে সামনে এগিয়ে যাবার অনুপ্রেরণা ও আত্মবিশ্বাসও ফিরে পেতে চায় ময়েস বাহিনী।
ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য ওয়েইন রুনির হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসলে ইউনাইটেডের ভাগ্য নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। যদিও পেনাল্টি থেকে ২৫ মিনিটে নিজের প্রথম গোল করে ফন পার্সি দলকে এগিয়ে দেবার পরে স্বাগতিক শিবিরে স্বস্তি ফিরে আসে। স্পট কিক থেকে স্প্যানিশ গোলরক্ষক রবার্তোকে পরাস্ত করতে বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন ডাচম্যান। এরপর অবশ্য প্যাট্রিচ ইভরার একটি হেড দারুণভাবে রক্ষা করেন রবার্তো। গত সপ্তাহে গ্রীক শিরোপা ফিরে পাওয়া অলিম্পিয়াকোস অবশ্য এরপর দুটি ভাল আক্রমন চালালেও ইউনাইটেড গোলরক্ষক ডেভিড ডি গি’র কল্যাণে এগিয়ে যেতে পারেনি। উল্টো প্রথমার্ধের স্টপেজ টাইমে রুনির লো ক্রস থেকে ফন পার্সি নিজের দ্বিতীয় গোল করলে ইউনাইটেড এগিয়ে যাবার স্বপ্ন দেখতে থাকে। ৫২ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে ফন পার্সি ইউনাইটেডকে রক্ষা করেন।
চ্যাম্পিয়নস লিগে পরবর্তী রাউন্ডে এগিয়ে যাওয়ায় ময়েস উচ্ছসিত হলেও ইভরার হলুদ কার্ড এবং ফন পার্সির ইনজুরি নিয়ে দু:শ্চিন্তা থেকেই গেল। হলুদ কার্ডের কারণে ইভরা কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের ম্যাচটি খেলতে পারবেন না। ম্যাচ শেষে বৃটিশ স্কাই টেলিভিশনে ময়েস বলেছেন, ‘রোববারের পরাজয়ের পরে খেলোয়াড়রা যেভাবে ফিরে এসেছে তাতে আমি দারুণভাবে সন্তুষ্ট। সোমবার সকালে আমি তাদেরকে বলেছিলাম আমার ৩-০ গোলের জয়ের প্রয়োজন এবং তারা সেটাই আমাকে দিয়েছে। খেলোয়াড়রা দারুণভাবে প্রতিশ্রুতবদ্ধ ছিল। গ্রীসে আমরা মোটেই ভাল খেলতে পারিনি। কিন্তু আজকের রাতটা আমাদের ছিল। তবে এই জায়গা থেকে আসল লড়াই শুর হলো। যদিও এখন আমরা ড্রয়ের দিকে তাকিয়ে আছি।’