ম্যাচের শুরু থেকেই ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে আক্রমণ চালায় ব্রাজিলের ফরোয়ার্ডরা। কিন্তু নেইমার-ভিনিসিয়াসদের গতিময় আক্রমণ ক্রোয়েট রক্ষণ শিবিরে বারবার প্রতিহত হয়ে যায়। যার কারণে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি সেলেসাওরা। এদিন ব্রাজিলের নেওয়া লক্ষ্যবস্তুতে ৯টি শট ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপার লিভাকোভিচ ঠেকিয়ে। ফলে নির্ধারিত সময়ের খেলায় কোনো দল কাঙ্ক্ষিত গোল করতে পারেনি।

এতে অতিরিক্ত সময়ে গড়াল ম্যাচের ভাগ্য। এখানেও যদি ফলাফল নির্ধারণ না হয় তাহলে টাইব্রেকারে যাবে ম্যাচের ভাগ্য।

আজ শুক্রবার (০৯ ডিসেম্বর) দোহার এডুকেশন সিটি স্টেডিয়ামে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে শুরু থেকেই আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করে ব্রাজিল। পঞ্চম মিনিটে ভিনিসিয়ার জুনিয়রের ২৫ গজ দূরের শট সহজেই লুফে নেন ক্রোয়েট গোলকিপার লিভাকোভিচ।

২০তম মিনিটে ক্রোয়েট রক্ষণকে কয়েকবার কাটিয়ে নেইমারের সঙ্গে বল আদান প্রদান করেও বল জালে পাঠাতে পারেননি এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। এর কিছুক্ষণ পরে নেইমারের ডান পায়ের শটও ঠেকিয়ে দেন ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপার।

৪১তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে ভিনিসিয়াসকে ফাউল করে ফেলে দেন ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডার। কিন্তু নেইমারের নেওয়া দুর্দান্ত ফ্রি কিক সহজেই লুফে নেন গোলকিপার লিভাকোভিচ। এরপর বাকি সময়ে চেষ্টা করলেও কোনো দল জালের দেখা পায়নি। ফলে গোলশূন্যতেই শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা।

বিরতি থেকে ফিরে আক্রমণে গতি বাড়ায় ব্রাজিল। ৪৭তম মিনিটে ডান পাশ থেকে ক্রস করেন রাফিনহা। কিন্তু দারুণ এক সুযোগ পেয়েও ক্রোয়েশিয়ার জালে জড়াতে পারেননি নেইমার এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ফিরতি বলে আবারও নেইমার বল পেলেও রিচার্লিসন অফসাইডে থাকার কারণে হতাশ হতে হয় ব্রাজিলকে।

৫৫তম মিনিটে বাম পাশ থেকে নেইমারকে বল এগিয়ে দেন ডিফেন্ডার দানিলো। কয়েকজনকে কাটিয়ে অসাধারণ এক শট নেন তিনি। কিন্তু গোলরক্ষক বলটি ধরে ফেলেন। ৫৬ মিনিটে মিডফিল্ড থেকে ডান পাশে পাস দেন অ্যান্টোনি। বক্সের শেষ প্রান্ত থেকে ক্রস করেন রিচার্লিসন। কিন্তু ডিফেন্ডাররা রক্ষা করায় গোল থেকে বেঁচে যায় ক্রোয়েশিয়া।

৬৬ তম মিনিটে রদ্রিগোর পাস থেকে পাকুয়েতা অসাধারণ এক শট নিয়েছিলেন। কিন্তু গোলরক্ষক অসাধারণ দক্ষতায় বলটি ফিরিয়ে দেন। ফিরতি বলেও গোলের চেষ্টা করেছিলো ব্রাজিল। কিন্তু ডিফেন্সে গিয়ে বল ফিরে আসে।

৭৬তম মিনিটে দারুণ একটি সুযোগ পেয়েছিলেন নেইমার। কিন্তু গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় এবারও বেঁচে যায় ক্রোয়েশিয়া। ৮০ তম মিনিটে রদ্রিগোর পাস থেকে বল পেয়ে লুকাস পাকুয়েতা বাম পায়ের দারুণ এক কিক নিয়েছিলেন। কিন্তু আবারও গোলরক্ষক বাঁচিয়ে দিলেন ক্রোয়েশিয়াকে।

৮২তম মিনিটে রদ্রিাগোর কাছ থেকে বল পেয়ে রিচার্লিসন হেড করেন। কিন্তু বল চলে যায় পোস্টের ওপর দিয়ে। ৮৬তম মিনিটেও দারুণ এক সুযোগ নষ্ট হয় ব্রাজিলের। কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করে ক্রোয়েশিয়ান ডিফেন্ডার।

এরপর নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে অতিরিক্ত ৪ মিনিট দিলেও কোনো দল গোল আদায় করতে পারেনি। ফলে কোনো দল কাঙ্ক্ষিত গোল আদায় করতে পারেনি। এতে ফলাফল নির্ধারণে অতিরিক্ত সময়ে গড়ালো ম্যাচের ভাগ্য। এখানেও যদি গোলের দেখা না পায় দুই দল, তাহলে টাইব্রেকারে যাবে ম্যাচের ভাগ্য।

এবিএস