আইসিসি বিশ্বকাপের ১১তম আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৯৮ রানে হারালো নিউজিল্যান্ড। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটের বিনিময় লঙ্কানদের সামনে ৩৩১ রানের পাহাড় তৈরি করেছে স্বাগতিকরা।
৩৩১ রানের বিশাল টার্গেটকে সামনে রেখে ২৩৩ রানেই গুটিয়ে যায় লঙ্কানদের ইনিংস।
শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলে ওভালে শুরু হয় নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার ব্যাট-বলের লড়াই। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত ব্যাটিং শুরু করে উদ্বোধনী জুটির মার্টিন গাপটিল ও ব্রেন্ডন ম্যাককালাম।
স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৩২ রানের জয়ের টার্গেটে খেলতে নেমে দলীয় ৬৭ রানের মাথায় প্রথম উইকেটের পতন ঘটে লঙ্কানদের। ম্যাচের ১৩তম ওভারে শেষ বলে ভেট্টরির বলে কট অ্যান্ড বোল্ডের শিকার হন দিলশান। আউট হওয়ার আগে এ ওপেনার করেন ২৪ রান।
এরপর ২১তম ওভারের শেষ বলে ট্রেন্ট বোল্টের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন থিরিমান্নে। আউট হওয়ার আগে তিনি ৬০ বলে ৬৫ রান করেন। পরের ওভারের শেষ বলে শুন্য হাতেই ফেরেন মাহেলা জয়াবর্ধনে।
এখানেই শেষ নয়, ট্রেন্ট বোল্টের বলে এলবি’র ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফেরেন কুমার সাঙ্গাকারা। তিনি ৩৮ বলে ৩৯ রান করেন। অ্যাডম মিলনে একই ওভারে দুই ব্যাটসম্যানকে তুলে নেন। মিলনের শিকারে সাজঘরে ফেরেন করুনারানত্নে এবং মেন্ডিস।
তবে, ৬ উইকেট পতনের পর লংকানদের হয়ে ব্যাটিংয়ের হাল ধরেন দলপতি অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। তিনি ৪৬ রান করে টিম সাউদির বলে ভেট্টরির হাতে ক্যাচ তুলে সাজঘরে ফেরেন। একই ওভারে সাউদি ফেরান মালিঙ্গাকে।
এদিকে, ম্যাচের শুরুতে লঙ্কান বোলারদেরকে তুলোধুনে করে এবারের বিশ্বকাপে প্রথম হাফ-সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। কোনো পাত্তা না দিয়ে মাত্র ৩৫ বলে ৫০ রান পূর্ণ করেন তিনি।
তার ব্যাটে দ্রুতই দলীয় স্কোর শতরানের ঘর পার করে। ব্যক্তিগত স্কোরটাও সেঞ্চুরির দিকে নিয়ে যান ম্যাককালাম। কিন্তু উইকেটের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকা শ্রীলঙ্কার বোলাররা সেই সুযোগ দেয়নি। ১৬তম ওভারে তাকে সাজঘরে পাঠান রঙ্গনা হেরাথ। তার বলে জীবন মেন্ডিসের হাতে ক্যাচ আউট ব্লাক ক্যাপস অধিনায়ক। মাঠ ছাড়ার আগে ৪৯ বলে ১০টি চার ও একটি ছক্কায় ৬৫ রান করেন তিনি।
ওয়ানডাউনে মাঠে নামা কেন উইলিয়ামসনকে নিয়ে নিজের হাফ-সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যান ওপেনার গাপটিল। কিন্তু এক রানের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ থেকে বিদায় নিতে হয় তাকে। ৬২ বলে ৪৯ রান সংগ্রহ করে সুরঙ্গা লাকমলের বলে উইকেটরক্ষক সাঙ্গাকারার তালুবন্দী হন তিনি।
দলের হাল ধরেন উইলিয়ামসন। পূর্ণ করেন হাফ-সেঞ্চুরি। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই হারান ২২ গজের ক্রিজের রাজত্ব। মেন্ডিসের বলে করুনারত্নের হাতে ক্যাচ আউট হওয়ার আগে তার নামের পাশে জমা হয় ৫৭ রান।
রস টেইলর (১৪) ও ইলিয়ট (২৯) দ্রুত মাঠ থেকে বিদায় নিলে শেষের দিকে দলের হাল ধরেন কোরি অ্যান্ডারসন। শেষ বলে ক্যাচ আউট হওয়ার আগে ৭৫ রান করেন তিনি। ৪৫ বলে ৮টি চার ও ২টি ছক্কায় এই স্কোর করেন। ২৫ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন লুক রঞ্চি।
শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে সফল বোলার জীবন মেন্ডিস। দুই ওভার বল করে মাত্র ৫ রানের বিনিময় দুটি উইকেট শিকার করেন তিনি। এছাড়া লাকমলও নেন দুটি উইকেট। কিন্তু ১০ ওভারে ৮৪ রান দিয়েও কোনো উইকেট পাননি মালিঙ্গা।
ইআর





