বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর বাকী আর মাত্র এক সপ্তাহ। এরই মধ্যে ব্যয়বহুল বিশ্বকাপ আয়োজনের বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভের আশংকায় প্রহর গুনছে ব্রাজিলীয় কর্তৃপক্ষ। সে জন্য তারা পুর্ব প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।
গত বছর বিশ্বকাপের ‘ড্রেস রিহার্সেল’ হিসেবে পরিচিত কনফেডারেশন কাপ চলাকালে অনুষ্ঠিত ব্যপক গণবিক্ষোভের তুলনায় এখন এর মাত্রা কম হলেও এবার রাস্তায় যে কোন ধরনের বিক্ষোভ কিংবা সন্ত্রাসী হামলার মোকাবেলায় বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ।
সরকারের স্টেট সেক্রেটারী আন্দ্রে রড্রিগুয়েজ বার্তা সংস্থা এএফপি’কে বলেন, ‘গত বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা ১৫টি স্থানের সীমা নির্দ্দিষ্ট করেছি যেখানে চলাচলে কিছু নিয়ম মানতে হবে।’ এসব এলাকার নিরাপত্তায় কোন ধরনের শীতলতা দেখানো হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
আগামী ১২ জুন থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত ব্রাজিলে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের ১২টি ভেন্যুর নিরাপত্তায় ১ লাখ ৫৭ হাজার সেনা ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর বাইরেও ৮৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নিযুক্ত করা হয়েছে আনুমানিক ২০ হাজার বেসরকারী নিরাপত্তা এজেন্ট, যারা স্টেডিয়ামগুলোর নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকবে। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে গোয়েন্দা তথ্য উদঘাটন ও এর মূল্যায়নের জন্য নতুন করে ৪০ দেশের ১২০ পুলিশ কর্মকর্তাকে নিযুক্ত করা হয়েছে।
কট্টরপন্থী দলগুলো এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে বেশক’টি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেছে। তাদের লক্ষ্য ১২ মাস আগের মত আরেকটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা। যে আন্দোলনে ১০ লাখেরও বেশি লোক রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। ওই আন্দোলনে বিশ্বকাপের জন্য ব্যাপক অর্থ বিনিয়োগের প্রতিবাদ এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে অধিক হারে বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক দুর্নীতি বন্ধের দাবী জানানো হয়েছিল।
তবে চলতি বছরের আন্দোলনগুলোতে জনসম্পৃক্ততার পরিমাণ কম বলেই মন্তব্য করেছেন ব্রাজিলের আইনমন্ত্রী হোসে এডুরাডো করডোজো। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা মিলিটারি পুলিশকে বিক্ষোভ দমনে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। মার্কিন ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন ও ফ্রেন্স রায়ট পুলিশের কাছ থেকে তারা প্রশিক্ষণ নিয়েছে।
গত এপ্রিলে এক বক্তৃতায় ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি ডিলমা রোসেফ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ৩২টি দলের কাছে কাউকেই ঘেষতে দেয়া হবে না। তবে গত সপ্তাহেই ধর্মঘটে যাওয়া শিক্ষকরা ব্রাজিলের টীম বাসের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। তারা রিও বিমান বন্দর থেকে বাসটির গতিপথ রোধ করে।
ফলে দলগুলোর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও হোটেলের নিরাপত্তাসহ দলগুলোর যাতায়ান নির্বিঘ্নে করতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সরকার। টুর্ণামেন্ট চলাকালে কোন ধরনের সন্ত্রাসী হামলার আশংকা করছেনা কর্তৃপক্ষ। তবে ব্রাসিলিয়ার নিরাপত্তার জন্য বিশেষ প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
মিলিটারী পুলিশের জন্য বিশেষ হাইটেক-ইউনিফর্মের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেগুলো পড়লে তাদেরকে ‘রোবোকপের’ মত মনে হবে। এদিকে পার্বত্য পুলিশ বাহিনীর জন্য বরাদ্দ হয়েছে বিশেষ ধরনের জুতা।
যে কোন ধরনের রাসায়নিক, পারমাণবিক হামলা মোকাবেলার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে সেনাবাহিনী। সেই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্রও খোলা হয়েছে। আমাজান এলাকার ম্যানাস শহরে ইতোমধ্যে ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা এলার্ট’ জারী করা হয়েছে। যাতে উত্তরাঞ্চলীয় শহরটির ভেন্যুতে অংশগ্রহণকারী যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড ও ইতালীয় দলের ওপর কোন ধরনের হামলার ঘটনা না ঘটে। সেনাবাহিনী ও ফেডারেল পুলিশ বিমান দিয়ে দেশটির ১৬ হাজার কিলোমিটার সমীনায় নিয়মিত টহল দিচ্ছে।
দেশটির মাদক চোরাচালানীরা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আবারও নিজেদের স্বর্গ রাজ্য তৈরীর প্রচেষ্টায় তৎপরতা শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে তারা বেশ কবার পুলিশের ওপর হামলাও চালিয়েছে। তবে তাদের দমনে সরকার ৬ বছরের একটি বিশেষ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।
বিশ্বকাপ চলাকালে স্টেডিয়ামে ও আশেপাশে বহন নিষিদ্ধ জিনিসের তালিকাও বেশ বড় করেছে আয়োজকরা। আতশবাজী, বাদ্য যন্ত্র, বড় আকারের ব্যানার, ট্যাবলেট ও কম্পিউটারও এর অন্তুর্ভুক্ত রয়েছে।
[b]ঢাকা, ৬ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]