একপেশে লড়াইয়ে লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে ৭ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা লড়াইয়ে টিকে থাকতে নিজেদের কাজটা করে রেখেছে প্রাইম দোলেশ্বর। অন্য দিকে সুপার লিগে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হেরে শিরোপার স্বপ্ন ভেঙেছে রূপগঞ্জের।
প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে আবাহনী জিতে গেলে তাদের শিরোপা জয় প্রায় নিশ্চিত। দোলেশ্বর স্থগিত হয়ে থাকা ম্যাচে আবাহনীকে হারিয়ে পয়েন্ট সমান করলেও রানরেটে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
তৃতীয় স্থানে থেকে লিগ শেষ করা রূপগঞ্জের পয়েন্ট ১৬ ম্যাচে ২০। এক ম্যাচ কম খেলা দোলেশ্বরের পয়েন্টও তাই। তবে রান রেটে এগিয়ে রয়েছে দলটি।
বুধবার বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৪১ ওভার ২ বলে ১৪৩ রানে অলআউট হয়ে যায় রূপগঞ্জ। জবাবে ২৫ ওভার ৫ বলে ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দোলেশ্বর।
ছোট লক্ষ্য তাড়ায় দলকে পথ দেখান রকিবুল হাসান। দ্বিতীয় উইকেটে রনি তালুকদারের সঙ্গে ৭০ ও তৃতীয় উইকেটে শচিন ববির সঙ্গে ৫৭ রানের দুটি জুটিতে নাটকীয়তার কোনো সুযোগ রাখেননি তিনি।
৪১ বলে ৪২ রান করে ফিরেন রনি। সমতায় পৌঁছে দিয়ে ২৩ রান করে ফিরেন শচিন।
দিনের অন্য ম্যাচে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে শতক করে আব্দুল মজিদকে (৭০৬) টপকে লিগের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছিলেন তামিম (৭১৪)। অপরাজিত ৭৭ বলে ১০টি চারে ৬৯ রানের ইনিংসে তামিমকে ছাড়িয়ে যান রকিবুল (৭১৯)।
এর আগে রাহাতুল ফেরদৌস ও আল আমিনের দারুণ বোলিংয়ের সামনে আসিফ আহমেদ ছাড়া রূপগঞ্জের আর কোনো ব্যাটসম্যান দাঁড়াতেই পারেননি। দুই বোলারের নৈপুণ্যে প্রথম ইনিংসের পর ম্যাচের ভাগ্য নিয়ে খুব একটা অনিশ্চিয়তা থাকেনি।
আসা-যাওয়ার মিছিলে প্রতিরোধ গড়া আসিফ অপরাজিত থাকেন ৫৯ রানে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৬ রান- মোহাম্মদ মিঠুন ও পবন নেগির। তাদের বাইরে দুই অঙ্কে যান কেবল সৌম্য সরকার (১৪)।
৩৬ রানে চার উইকেট নেন রাহাতুল। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এটাই বাঁহাতি এই স্পিনারের সেরা বোলিং। আগের সেরা ছিল ৩/৩৩।
দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে ফেরানো আল আমিন ২৯ রানে নেন তিন উইকেট। শুরুতে রূপগঞ্জকে কাঁপিয়ে দেওয়া এই পেসার জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। ২৫ উইকেট নিয়ে উইকেট প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ উইকেটে সংগ্রাহকদের তালিকায় প্রথম পাঁচে আছেন তিনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জ: ৪১.২ ওভারে ১৪৩ (মিজানুর ৬, সৌম্য ১৪, মিঠুন ১৬, মোশাররফ ৫, আসিফ ৫৯*, নাহিদুল ৪, পবন ১৬, সাজ্জাদুল ০, আলাউদ্দিন ৫, তাইজুল ৬, হায়দার ৬; রাহাতুল ৪/৩৬, আল আমিন ৩/২৯, ইমতিয়াজ ১/১, সানজামুল ১/১৮, জাকারিয়া ১/১৮)
প্রাইম দোলেশ্বর: ২৫.৫ ওভারে ১৪৪/৩ (ইমতিয়াজ ৯, রকিবুল ৬৬*, রনি ৪২, শচিন ২৩, জাকারিয়া ১*; হায়দার ১/১৬, আলাউদ্দিন ১/২২, তাইজুল ১/৪৩)
ফল: প্রাইম দোলেশ্বর ৭ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: আল আমিন হোসেন।





