ব্রাজিলীয় তারকা স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনায় দিন দিন নিজেকে মেলে ধরছেন। গোলের দেখা পাচ্ছেন নিয়মতিই। এবার তার গোলেই কোপা ডেল রে'র সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে কাতালান ক্লাবটি।

বুধবার কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগের লড়াইয়ে স্বাগতিক অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে বার্সেলোনা। ফলে দুই লেগ মিলে ২-৪ গোলে এগিয়ে থেকে শিরোপা আরো কাছে চলে গেছে তারা।

ন্যু ক্যাম্পে প্রথম লেগে ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল বার্সেলোনা। কিন্তু দ্বিতীয় লেগের ম্যাচ শুরুর প্রথম মিনিটেই অ্যাটলেটিকোকে সমতায় ফেরান ফার্নান্দো তোরেস। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৯ জনের দলে পরিণত হয় স্বাগতিকরা। আর জোড়া গোল করেন নেইমার। ফলে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে কোচ লুইস এনরিকের শিষ্যরা।

এদিন খেলার ১ মিনিটেই জালের ঠিকানা খুঁজে পেয়েছে অ্যাটলেটিকো। সিগুয়েরার ক্রস থেকে বার্সার গোলরক্ষক টার স্টেগানকে পরাস্ত করেছেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ফার্নান্দো তোরেস।

তবে খেলার ৯ মিনিটে গোলটি শোধ করে বার্সা। উরুগুয়ের তারকা লুইস সুয়ারেজের দুর্দান্ত পাস থেকে গোল করেছেন নেইমার।

ম্যাচের ১৮তম মিনিটে আবারও নেইমার অ্যাটলেটিকোর জালে বল জড়ান। তবে, অফসাইটের কারণে এ গোলটি বাতিল হয়ে যায়। ২৭ মিনিটের মাথায় কাউন্টার অ্যাটাকে অ্যাটলেটিকোর অ্যান্তোনিও গ্রিজম্যান বার্সার ডি বক্সে বল পেয়েও গোল আদায় করে নিতে পারেননি।

পরের মিনিটে বার্সার শিবিরে আবারো হানা দেয় মাদ্রিদের ক্লাবটি। ডি বক্সের বাইরে জুয়ানফ্রানকে বার্সার ডিফেন্ডার মাসচেরানো অবৈধভাবে বাধা দিলে জুয়ানফ্রান কাতালানদের ডি বক্সে পড়ে যান। এতে ম্যাচের দায়িত্বে থাকা রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। আর সে সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রাউল গার্সিয়া গোল আদায় করে আবারো দলকে লিড পাইয়ে দেন।

২৭ মিনিটের মাথায় বার্সার তারকা ইভান রেকিটিকের একটি জোড়ালো শট রুখে দেন অ্যাটলেটিকোর ডিফেন্ডার। ফলে, কর্নার লাভ করে কাতালানরা। রেকিটিকের তুলে মারা কর্নার কিক ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই জড়িয়ে দেন মিরান্ডা। ফলে, ২-২ গোলে সমতা ফিরে আসে ম্যাচে।

ম্যাচের ৪১তম মিনিটে বার্সার ডি বক্সে দাঁড়িয়ে জোড়ালো শট নেন স্বাগতিক তারকা স্ট্রাইকার গ্রিজম্যান। তবে, সেটি জর্ডি আলবার হাতে লেগে ফিরে এলে রেফারির দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। এবারে পেনাল্টি ভাগ্য সহায় হয়নি স্বাগতিকদের। পাল্টা আক্রমণে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন নেইমার।

প্রথমার্ধে আর কোনো গোল না হলে ৩-২ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বার্সা। তবে, দুই দল বিরতিতে যাবার আগে উভয় দলের কোচিং স্টাফ আর খেলোয়াড়রা ম্যাচের উত্তেজনায় ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়ে। তবে, তার আগেই বার্সার মেসি হলুদ কার্ড এবং অ্যাটলেটিকোর গাবি লাল কার্ড দেখেন।

বিরতি থেকে ফিরেও ম্যাচের উত্তেজনা কমেনি বরং আরও বেড়ে যায়। ৪৮ মিনিটের মাথায় সাইড লাইনে দায়িত্বে থাকা লাইন্সম্যানকে নিজের বুট দিয়ে ঢিল ছুঁড়ে হলুদ কার্ড দেখেন অ্যাটলেটিকোর আরদা তুরান।

দ্বিতীয়ার্ধের কিছুক্ষণ পর পর হলুদ কার্ড দেখতে থাকে অ্যাটলেটিকোর খেলোয়াড়রা। এরই ধারাবাহিকতায় ম্যাচের ৮৪তম মিনিটে লাল কার্ড (দ্বিতীয় হলুদ) দেখে মাঠ ছাড়েন মারিও সুয়ারেজ। মেসিকে পিছন থেকে বিপদজ্জনক অবস্থায় ফেলে দেওয়ার দরুণ তাকে লাল কার্ড দেখান রেফারি।

ম্যাচের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হলে ৩-২ গোলের জয় পায় বার্সেলোনা।

জেডআই