বাংলাদেশের বলতে গেলে ৯০ শতাংশ ফুটবলপ্রেমী মানুষই হয় ব্রাজিল অথবা আর্জেন্টিনার সমর্থক। প্রতি বছর বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহর এমনকি প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলও ছেয়ে যায় এই দুই দেশের পতাকায়।
আর এই সমর্থন নিয়ে বাংলাদেশীদের মধ্যে রীতিমতো বাড়াবাড়ি এমন পর্যায়েও নেহাত কম যায় না যা হয়তো খোদ ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনাতেও দেখা মেলা ভার।
দেশের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন, সেমিফাইনাল পর্যন্তই যখন এসেছে তখন হয়তো বা ফা্ইনাল পর্যন্তই যাবে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা।
এমনই প্রত্যাশা নিয়ে বাংলাদেশের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী বুধবার রাত ২টার আগে থেকেই বসে যান টিভি সেটের সামনে। যথাসময়ে শুরু হয় ব্রাজিল-জার্মান যুদ্ধ। কিন্তু একি কান্ড! বিরতির আগেই ৫ গোল খেয়ে বসল ব্রাজিল। এ যেন এক অবিশ্বাস্য বিশ্বকাপ। একের পর এক গোল। ঠিক যেন বোঝা যাচ্ছিল না এটি ফুটবল না ক্রিকেট খেলা।
বিরতির পর কিছুটা ঝিমিয়ে পড়লেও পরক্ষণেই আবারও গোল। ৬ গোল নিয়ে দাপটের সাথে খেলে যায় জার্মানি। কিন্তু না জার্মানির গতি যেন থামছে না। আবারও গোল। ব্যবধান দাঁড়ায় ৭-০ গোলের। তবে শেষ পর্যন্ত শূন্য গোলের লজ্জা থেকে কোনমতে পার পেয়ে এক গোল করতে সক্ষম হয় ব্রাজিল।
সত্যি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে একম্যাচে ৮ গোল। তাও আবার একপক্ষ ৭ এবং অপরপক্ষ ১ গোল। অনেক রেকর্ডেরই জন্ম দিল জার্মান-ব্রাজিলের এই সেমিফাইনাল। এই এমন বিশ্বকাপ আর কোনদিন এ জীবনে দেখা হবে কীনা একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানেন।
এমন দৃশ্যে হতবাক বাংলাদেশীরা নানাভাবে ব্যক্ত করেছেন তাদের অভিব্যক্তি। ফেসবুটে রীতিমতো বয়ে যায় তোলপাড়। দর্শকদের এমনই কিছু মন্তব্য তুলে ধরা হলো টাইমনিউজবিডির পাঠকদের জন্য:
ওয়াহিদ ফারুকী: ফুটবল খেললে এমনভাবেই খেলতে হয়....কিসের টাইব্রেকার...এক আধ গোল ঠেলে ঠুলে.....এভাবে কি বিশ্বকাপ নেয়া যায়...বিশ্বকাপ কিভাবে নিতে হয় হিটলার ভাইয়ের শিষ্যরা দেখিয়ে দিল....কে বলেরে হিটলার নাই...হিটলার সারা দুনিয়ায়.....!!
বেনামী দর্শক: আমি কিন্তু টিভি বন্ধ করে ঘুমাচ্ছি ? নেইমার ও সিলভা নেই বলে খেলার আগেই ব্রাজিলের মনোবল ভেঙ্গে গেল ?
রশিক হাজারী: আগামীকাল কি একই ঘটনার পুনারাবৃত্তি করবে নেদারল্যান্ড?
রফিক মোল্লা: আল-বিদায় ব্রাজিল।
মিরাজ হোসেন গাজী: নেইমার, সিলভার অভাব এর পরিনতি কোনদিনই ভুলবে না বিশ্ববাসী।
রফিকুল ইসলাম টুটুল: খেলা দেখব নাকি স্টাটাস ঠিক করতে থাকব ! ব্রাজিলকে জাদু করছে মনে হয়।
লায়ন আনোয়ার হোসেন উজ্জল: আসলে দুর্ভাগ্য যখন আসে সব দিক থেকে আসে। কিন্তু এইটাই মনে রাখতে হবে এইটাই বাস্তব, বাস্তবতাকে সবাই মেনে নিতে হবে। আই মিস ইউ নেইমার এবং সিলভা।
প্রভাষ আমীন: অবিশ্বাস্য। এক সিলভা কি পুরো ডিফেন্স নিয়ে গ্যালারিতে বসে আছেন। ব্রাজিল সমর্থকদের কাছে আজ সেহরী বিস্বাদ লাগবে। অবশ্য গোল খেয়েই পেট ভরে গেছে। তবুও প্লিজ চলুন তাড়াতাড়ি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি।
মাহবুবুর রহমান: ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নাকি বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া খেলা! নাকি বিএনপি-আ'লীগ! আর্জেটিনা-জার্মানী ফাইনাল কী হবে?
সত্য বলছি, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা খেলা দেখে মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশ বনাম ইন্ডিয়া খেলা হচ্ছে। একগোল দেয়ার পর বাংলাদেশ বলতেছিল, দাদা গোল দিলেন। আচ্ছা দেন। আরো দেবেন? আচ্ছা দেন। সমস্যা নেই, আমরা এরপরও জয়-উৎসব করবো। কারন আমাদের দুইজন জয় আছে....... একজন টাকলু, আরেকজন বাংলিশ। জয়-পরাজয় যা-ই হয়, আমরা জয়-উৎসব করি। যেমনটা সমুদ্রসীমা জয়! মিয়ানমার টু ইন্ডিয়া।
মজার বিষয় হলো... আমি ব্রাজিলের সমর্থক। এজন্যই রাত জেগে খেলা দেখা। একের পর এক যখন গোল হচ্ছিল। নিজেকে বিএনপির কিছু কেন্দ্রীয় নেতার মতো মনে হচ্ছিল। গোলের ভারে আমার বন্ধুদের মন খারাপ হয়ে গেল। আমি ভাবতে ছিলাম গোল হয়েছে তাতে আমার ক? যেমনটা বিএনপির কিছু কেন্দ্রীয় নেতা ভাবেন।
এ বিষয়টা একটু পরিস্কার করি। ব্রাজিলের ৯ জুলাই রাতের অবস্থা একদম বিএনপির মতো। আ'লীগ গোল দিচ্ছে। যাকে-তাকে মারতেছে, তাতে কিচ্ছু আসে যায় না। স্কলারি হার্ট অ্যাটাকের অবস্থা। আর ব্রাজিলের ডিফেন্ডার ও কিপারের কি-ই-বা যায় আসে। ওরা ভাবছে, আমাকে কি বাড়ি থেকে উৎখাত করেছে (খালেদা জিয়ার মতো)? আমার কি আজীবন কারাগারে থাকা নিশ্চিত (মাহমুদুর রহমানের মতো)? আমাকে কি পিটিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে দিয়েছে (জয়নাল ফারুকের মতো)?
খেলতে নামলে (রাজনীতিতে আসলে) কৌশলী হতে হয়। এতো কট্টর হওয়ার দরকার কী? কট্টরপন্থা ভালো না। কট্টর হওয়ার কারনেই আজকে সিলভা খেলতে পারছে না। যেমনটা বিএনপির কিছু কট্টর নেতার অবস্থা।
এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি চেয়ারপার্সনের অবস্থা রীতিমতো ব্রাজিল কোচ স্কলারির মতো। তিনি যা-ই বলুক, মাঠে ভাই খেলতে পারছি না। গোল হচ্ছে। কিভাবে যেন হয়ে যাচ্ছে। খালেদা জিয়া কোচের ভুমিকা পালন করলেও কেন যেন সব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারছেন না। নির্দেশনা নিয়ে নেতারা মাঠে যাচ্ছেন, কিন্তু বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমন্বয় নেই।
সাইয়েদ সাজ্জাদ: বিদায় বিদায় ব্রাজিল!!! বিদায় দিতে চাহিনা তবুও বিদায় দিতে হবে।
আবু খোদায়ের: দুঃখজনক ব্যাপার হলো ব্রাজিলের এই পতনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা সমর্থকরা ঠিকই ওদের সমর্থকদের হেয় প্রতিপন্ন করতে থাকবে। অথচ যে কোন বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে সমাজে দরকার সহমর্মিতা। কিন্তু সমাজে অসুখটা আমাদের খেয়াল রাখা দরকার যে বিপর্যস্ত মানুষকে নিয়ে উপহাস করেই অন্যরা মজা করে। এটা পৈশাচিকতা।
গোলাম মাওলা: ব্রাজিল সর্মথকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলছি. বৃষ্টির মতো এতো গোল ২০১৪ এ বিশ্বকাপে কোন দল খেয়েছে কি না আমার জানা নেই। তবে এ কথা পরিস্কার যে, ফিফা ও রেফারিদের কল্যাণে সেমিফাইনালে আসা যায়। আর্জেন্টিনার সঙ্গে খেলার যোগ্যতা সম্ভাবত ব্রাজিলের নেই। আমরা আরও গোলের অপেক্ষায় থাকলাম।
আবদুর রহমান: সবাই খেলে ফুটবল ব্রাজিল খেলে কুতকুত(আমার মনে হয় এদের কুতকুত খেলারও যোগ্যতা হয়নি।
ফারুক ই আজম: দেখছেন ব্রাজিলীয় সিনেমার বাংলাদেশ সংস্করণ। শুরুতেই টানা 10টি গোল খাবে ব্রাজিল। সবাই যখন ধরে নেবে নিশ্চিত হারছে তারা তখন নেইমার খুব কষ্ট করে দাঁড়িয়ে, খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাসপাতাল ছেড়ে মাঠের দিকে রওনা দেবেন। আর চিৎকার করবেন, তোদেরকে জিততেই হবে.... আমি আসছি। নেইমারের সেই চিৎকার ব্রাজিলের সব খেলোয়াড়ের কানে পৌঁছবে বাতাসে ভেসে ভেসে। তারপর উজ্জিবিত ব্রজিল দল টানা 20 টা গোল দিয়ে ফাইনালে পৌছবে। এর পরের গল্প আপনিই বলুন...
ঢাকা, ৯ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম)





