ভারতের বিপক্ষে এর আগে ৭টি টেস্ট খেললেও জয় নেই বাংলাদেশের। ৭টি ম্যাচের রেজাল্টে হার দেখার পাশাপাশি একটি ম্যাচ ড্র দেখেছিল সমর্থকরা। সর্বশেষ ২০১০ সালের জানুয়ারিতে ভারতের সঙ্গে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। ওই ম্যাচেও ১০ উইকেটে হার দেখতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। গত ৫ বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেট অনেক বদলেছে এবং এটা প্রমাণ করতে ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি চ্যালেঞ্জ মনে করছেন টেস্ট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।
মঙ্গলবার ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেছেন। এ ছাড়া একমাত্র টেস্টে বাংলাদেশের লক্ষ্য জয় হলেও মূল লক্ষ্য ড্র করা।
প্রশ্ন : টেস্টে বাংলাদেশের লক্ষ্য কী এবং আপনার ব্যাটিং পজিশন কী হবে?
মুশফিক : সব সময় আমাদের চেষ্টা থাকে ভাল খেলার। এবারও সে রকমই লক্ষ্য। গত সিরিজের প্রথম ম্যাচ ভাল খেললেও দ্বিতীয়টায় হেরে গেছি। আমরা জয়ের জন্য খেলব। পরিস্থিতি সে রকম না হলে আমরা ড্রয়ের কথা চিন্তা করব। এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে। আমাদের বোলিং বিভাগের ২০ উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা আছে। এ ছাড়া আমাদের ব্যাটিংটা ভাল হতে হবে। ব্যাটসম্যানদের জন্য এই ম্যাচ অনেক চ্যালেঞ্জিং হবে। চার নম্বরে ব্যাটিং বিষয়ে বলব, যেহেতু রিয়াদ ভাই দলে নেই, সেহেতু আমি হয়তো উপরে উঠে খেলব।
প্রশ্ন : দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশের পেস আক্রমণ অনেক শক্তিশালী। উইকেটের পরিবর্তন (ঘাস) কি তবে বদলে যাওয়া বাংলাদেশেরই প্রমাণ?
মুশফিক : বিষয়টি তেমন নয়। বিশ্বকাপেও আমাদের পেস আক্রমণ শক্তিশালী ছিল। এর পর দেশে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজেও আমাদের পেসাররা ভাল করেছে। এখানকার উইকেট একটু অন্যরকম। আবহাওয়াও বছরের অন্য সময়ের মতো নয়। এখন প্রচণ্ড গরম পড়ছে। সুতরাং আমরা যথোপযুক্ত দল নিয়েই মাঠে নামব। বুধবার আমরা দল ঠিক করব।
প্রশ্ন : তিনজন স্পিনার খেলানোর সম্ভাবনা কতটুকু?
মুশফিক : আমরা এখনো দল নিয়ে চিন্তা করিনি। সবাই মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে। কিছু ইনজুরি সমস্যাও আছে। আমরা আগামীকাল উইকেট দেখে কম্বিনেশন ঠিক করব।
প্রশ্ন : আগে ভারতের বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশ ভাল খেলেনি কখনই। আগের দলটি এবং এই দলটির মধ্যে কতটুকু পার্থক্য রয়েছে?
মুশফিক : সর্বশেষ ওদের সঙ্গে খেলা ২টি ম্যাচই হেরেছি আমরা। তার পরও ব্যক্তিগত কিছু ভাল পারফরম্যান্স ছিল। সেটাও পাঁচ বছর আগের কথা। বর্তমান ভারতীয় দল স্বাভাবিকভাবেই শক্তিশালী। আমরাও অনেক উন্নতি করেছি। ব্যক্তিগতভাবে এবং দলগতভাবেও উন্নতি হয়েছে। আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং সবদিক থেকেই আমরা তাদের সঙ্গে লড়তে পারব।
প্রশ্ন : ভারতের বিপক্ষে ভাল একটি ইনিংস আছে, এটা আরও মোটিভেট করছে কি-না?
মুশফিক : আগের ম্যাচ থেকে মোটিভেশন তো পাচ্ছি। ওই রকম একটা ইনিংস স্বাভাবিকভাবেই অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। এ ছাড়া ভারতের সঙ্গে সব সময়ই ভাল খেলার চেষ্টা করি। শুধু ভারত নয়, অন্য দলগুলোর সঙ্গেও আমরা ভাল খেলার জন্যই মাঠে নামি।
প্রশ্ন : ভারত ফেভারিট নাকি বাংলাদেশ?
মুশফিক : ভারত শক্তিশালী দল। এর পরও এই সিরিজের সম্ভাবনা সমান সমান ধরা যায়। তাদের দলে খুব ভাল দু’জন স্পিনার আছে। আমাদের ব্যাটসম্যানরা ভাল খেললে দারুণ কিছু হবে বলে মনে করছি।
প্রশ্ন : উইকেট কেমন মনে হচ্ছে?
মুশফিক : এখানকার উইকেটটা একটু আলাদা। তবে এখানে আমরা কয়েকটি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলেছি, বিসিএলের ওয়ানডেও খেলেছি। কিছুটা হলেও ধারণা আছে। গরমে আমাদের কষ্ট যতটুকু হবে, ততটুকু কষ্ট তাদেরও হবে। সুতরাং এটা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করার কিছু নেই। টেস্টের উইকেটে ঘাস দেখা যায় না। ওয়ানডে বা অন্য ফরম্যাটে দেখা যায়। এখানে যে ঘাস আছে, তা পাঁচ দিন থাকবে না কিংবা কতটা প্রভাব ফেলবে- এ বিষয়টা আমার জন্য নতুন। এখানকার উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য সুবিধা হওয়ার কথা। একই ভাবে স্পিনারদেরও সহায়তা পাওয়ার কথা প্রথম দিন থেকেই।
প্রশ্ন : গরমের মধ্যে টেস্ট সারাদিন খেলতে হবে- এটা কতটা চিন্তার?
মুশফিক : যে কোনো জিনিস কষ্ট করে অর্জন করলে অন্যরকম মজা। এই পাঁচটা দিন দেশের জন্য যাতে আরও কষ্ট করতে পারি এবং প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করতে পারি, সেই অনুপ্রেরণা সবার মধ্যেই আছে।
প্রশ্ন : টস কোনো ফ্যাক্টর হতে পারে কি-না?
মুশফিক : টস সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কেমন খেলি, তার ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু। ভারত শক্তিশালী দল। আমরা কোন স্তরে আছি, তাদের সঙ্গে ভাল খেললে সেটা প্রমাণিত হবে। আমরা ভাল খেলার দিকে তাকিয়ে আছি।
প্রশ্ন : লিখনের খেলার সম্ভাবনা কতটুকু?
মুশফিক : আমাদের সবাই মানসিক এবং শারীরিকভাবে খেলার জন্য প্রস্তুত। আশা করি লিখনও প্রস্তুত। দেখা যাক কী হয়।
জেআই





