বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত দশটায় ব্রাজিলিয়ায় মুখোমুখি হওয়া কলম্বিয়া ও কোত দি ভোয়া (আইভরি কোস্ট) - দুটি দলকেই মুখোমুখি করা যায় অভিন্ন এই প্রশ্নের। ব্রাজিল বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচটি জিতেছে তারা!
এমন নয় যে, বিশ্বকাপে কখনো কোন ম্যাচ জেতেনি কলম্বিয়া কিংবা আইভরি কোস্ট। কিন্তু সামর্থ্যের সমানুপাতে তাদের অর্জন যে নিতান্তই এলেবেলে! কলম্বিয়ান ফুটবলের সোনালী প্রজম্মের প্রতিশ্রুতি ছিল, এমনকি বিশ্বকাপ জয়েরও।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনার গিয়ে আর্জেন্টিনাকে ৫-০ গোলে হারিয়ে আসা তো চাট্টিখানি কথা নয়। অথচ কার্লোস ভালদোরামা, ফাউস্তিনো আসপ্রিয়াদের দলটি ’৯৪ বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডই পেরোতে পারেনি। সেই ধকল সামলে কলম্বিয়া আর কখনো জ্বলে উঠতে পারেনি বিশ্বমঞ্চে।
এবার রাদামেল ফালকাওয়ের মতো মহাতারকার অনুপস্থিতিতেও প্রথম ম্যাচে গ্রিসকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দেওয়ার গুরুত্বটা তাই ব্যাপক। বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যের জয়ের পর যুগ যুগের অপ্রাপ্তির হাহাকার ঘোচানোর ইঙ্গিত লাতিন আমেরিকার দলটির।
কলম্বিয়ান সোনালী প্রজম্ম তো দুই দশক আগেই ঠাঁই নিয়েছে অতীতের পাতায়। সেখানে আইভরি কোস্টের সোনালী প্রজম্ম জাজ্বল্য বর্তমান। কিন্তু তারাই-বা কোন সাফল্য এনে দিয়েছে দেশকে! দুটি আফ্রিকান নেশনস কাপ ফাইনালে হার এবং দুটি বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে বিদায়- এই তো! জার্মানি ও দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘গ্রুপ অব ডেথ’-এর দুর্ভাগ্যে কাটা পড়ার দোহাই ছিল। এবার সেটিও নেই। দিদিয়ের দ্রগবা, দিদিয়ের জোকোরা, ইয়াইয়া তোরেদের সামনে তাই ব্রাজিলই জ্বলে ওঠার শেষ উপলক্ষ। তাতে শুরুটা হয়েছে দারুণ, পিছিয়ে পড়েও জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে। এবার দ্বিতীয় ম্যাচে কলম্বিয়াকে হারাতে পারলে দ্বিতীয় রাউন্ডটা হয়ে যাবে এক রকম নিশ্চিত। আইভরি কোস্টের সোনালী প্রজম্মের সাফল্যের খেরোখাতাটা তাহলে অন্তত পুরো শূন্য থাকবে না।
ব্রাসিলিয়ায় ‘সি’ গ্র“পের ম্যাচটি তাই দুই দলের জন্যই মহাগুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার জন্য।
প্রথম ম্যাচের ময়নাতদন্তে বোঝা গেছে যে, রক্ষণটা নড়বড়ে হলেও আক্রমণটা বড্ড ধারালো কলম্বিয়া আর আইভরি কোস্টের। জেমস রদ্রিগেস, হুয়ান গার্দাদোদের বিদ্যুৎগতির আক্রমণ ভুলিয়ে দিচ্ছে ফালকাওয়ের অনুপস্থিতি। ডাগআউটে থাকা কোচ হোসে পেকারমানের তাই দুশ্চিন্তা কমেছে। আর আইভরি কোস্টের খেলা উপভোগ্য হয়েছিল দ্বিতীয়ার্ধে। বদলি হিসেবে নেমে দিদিয়ের দ্রগবা বদলে দেন ম্যাচের গতিপথ। ০-১ গোলে পিছিয়ে পড়া থেকে ২-১ গোলে এগিয়ে যেতে সময় লাগেনি। অ্যাটাকিং থার্ডের চার আইভরিয়ান চোখ ধাঁধানো ফুটবলই উপহার দিয়েছেন।
আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ, গোল দেওয়া আর গোল শোধে দুই দলের দ্বৈরথ তাই উপভোগ্যই হওয়ার কথা।
ঢাকা, ১৯ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই





