মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে লিভারপুলের ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে স্বাগতিকদের ৫-২ গোলে হারিয়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা। ম্যাচে রিয়ালের হয়ে ভিনিসিয়াস ও বেনজেমা জোড়া গোল করেন। এছাড়া আরেক গোলদাতা এদার মিলিতাও। এর আগে লিভারপুলকে এগিয়ে নিয়েছিলেন দারউইন নুনেজ ও মোহামেদ সালাহ।
এই জয়ে রেকর্ড ১৪ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ কোয়ার্টার ফাইনালে এক পা দিয়ে রাখল। তাদেরকে টপকে পরের পর্বে যেতে হলে লিভারপুলকে অসাধারণ কিছু করেই দেখাতে হবে। আগামী ১৬ মার্চ শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে রিয়ালের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মুখোমুখি হবে দুই দল।
এদিন ম্যাচ শুরুর মাত্র চার মিনিটের মাথায় এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। মিশরীয় ফরোয়ার্ড সালাহর রক্ষণচেরা পাসে রিয়ালের বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াকে বোকা বানিয়ে ব্যাকহিল ফ্লিকে চমৎকার গোল করেন উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার নুনেজ।
এরপর ১৪তম মিনিটে সুযোগ পেয়ে তার সদ্ব্যবহার করেন সালাহ। যদিও এই গোলের জন্য পুরোপুরি দায় কোর্তোয়ার। রক্ষণের দানি কারভাহালের ব্যাক পাস করতে গিয়ে ভূল করে বসেন তিনি। এতে ডি-বক্সের মধ্যেই বল পেয়ে সুযোগ কাজে লাগান সালাহ।
জোড়া গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও ভড়কে যায়নি রিয়াল। উল্টো সাত মিনিট পর স্কোরবোর্ডে নাম লেখান ভিনিসিয়াস। বেনজেমার পাস থেকে বল পেয়ে বামপ্রান্ত দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে কোণাকুণি শটে নিশানা ভেদ করেন ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড।
৩৬তম মিনিটে গোলকিপার অ্যালিসনের অমার্জনীয় ভুলের খেসারত দেয় লিভারপুল। জো গোমেজের কাছ থেকে ব্যাক পাস পেয়ে অ্যালিসন তাকেই আবার বল ফেরত দিতে গিয়ে সামনে থাকা ভিনিসিয়াসের পায়ে লেগে ফাঁকা জালে বল জড়িয়ে যায়।
এতে দুই দল সমতায় থেকেই বিরতিতে যায়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে যেন অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে রিয়াল। যার কারণে মাত্র ২২ মিনিটের ব্যবধানে তিনবার বল জালে জড়ায় আনচেলত্তির দল। এসময় লিভারপুল বলার মতো সুযোগও তৈরি করতে পারেনি।
ম্যাচের ৪৭তম মিনিটে লুকা মদ্রিচের বুদ্ধিদীপ্ত ফ্রি-কিকে হেড থেকে গোল করেন ডিফেন্ডার মিলিতাও। এর ৮ মিনিট পর জালের দেখা পান বেনজেমা। রদ্রিগোর কাছ থেকে বল পেয়ে তার দুর্বল আকৃতির শট গোমেজের পায়ে লেগে দিক পাল্টে গোল হয়ে যায়।
এরপর ম্যাচের শেষ গোল হয় ৬৭তম মিনিটে। মদ্রিচের পাস থেকে বল পেয়ে যান ভিনিসিয়াস। তিনি ভার্জিল ফন ডাইকের পায়ের ফাঁক দিয়ে পাস দেন বেনজেমাকে। তিনি গোলপোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসা অ্যালিসনকে কাটিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় পঞ্চম গোল করেন।
বাকি সময়ে কোনো দলই বড় কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে মাতোয়ারা হয় রিয়াল। পরের লেগে লিভারপুলের বিপক্ষে দুই গোলের ব্যবধানে হারলেও তারা উঠে যাবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ আটে।
রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে বল দখলে কিছুটা পিছিয়ে ছিল স্প্যানিশ পরাশক্তি রিয়াল। গোলমুখে তাদের নেওয়া নয়টি শটের ছয়টি ছিল লক্ষ্যে। ইংলিশ জায়ান্ট লিভারপুলও নয়টি শট লক্ষ্যে রাখে। এর মধ্যে লক্ষ্যে ছিল পাঁচটি।
এনএইচ





