কোন গোল না খেয়ে অবশেষে জয় ছিনিয়ে নিল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। রাশিয়াকে ৩-০ গোলে ব্রাজিল এবং ইতালিকে ২-০ গোল দিলে জয় তুলে নিল আর্জেন্টিনা।

শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ব্রাজিল ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে রাশিয়াকে। আসন্ন বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের ভেন্যু মস্কোতে ব্রাজিলের ব্রাজিলের জয়ে একটি করে গোল করেছেন পৌলিনিয়ো, কুতিনহো ও মিরান্ডা।

লুঝিনিকি স্টেডিয়ামে শুক্রবার খেলার দিন প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি কোনো দলই। তবে সুযোগ সৃষ্টি করেছিল দুই দলই। ৩৭ মিনিটে মিডফিল্ডার মিরানচুকের দুর্দান্ত শটে অবশ্য গোল পায়নি স্বাগতিকরা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পৌলিনহোর শট ঠেকিয়ে দেন রুশ গোলরক্ষক আকিনফিভ। ৫২ মিনিটে আবার রাশিয়াকে বাঁচিয়ে দেন আকিনফিভ। এবার হেড করে ব্রাজিলের প্রচেষ্টা রুখে দিয়েছিলেন স্বাগতিক গোলরক্ষক।

শেষ রক্ষা অবশ্য হয়নি বিশ্বকাপ আয়োজকদের ৫৩ মিনিটে, কাঙ্খিত গোলের দেখা পায় অতিথিরা। উইলিয়ানের ক্রস করা বলে থিয়াগো সিলভার হেড আটকে দিলেও ডিফেন্ডার মিরান্ডাকে থামাতে পারেননি আকিনফিভ। ম্যাচে ব্রাজিল এগিয়ে যায় ১-০ গোলে।

৬২ মিনিটে ব্রাজিলের ব্যবধান দ্বিগুণ করা গোলটি আসে পেনাল্টি থেকে। পৌলিনহো ডি-বক্সের মধ্যে ফাউলের শিকার হলে কুতিনহোর শটে গোল করে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন দলকে। চার মিনিট পর পৌলিনহোর পা থেকে আসে ব্রাজিলের শেষ গোল। উইলিয়ানের ক্রস থেকে হেডে লক্ষ্যভেদ করেছিলেন এই বার্সেলোনা তারকা।

এদিকে যদিও ইতালি বিশ্বকাপ থেকে আগেই বাদ পড়েছিল কিন্তু আর্জেন্টিনার জয়টা খুব করেই দরকার ছিল। বিশ্বকাপে ভালো কিছু করতে হলে মেসিবিহীন আর্জেন্টিনা দলের বাকি সবাইকে জ্বলে ওঠা ছিল সময়ের দাবি।

তেমনটাই গতকাল রাতে ইতালির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে দেখিয়েছে মেসিবিহীন সাম্পাওলির দল। সাবেক দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়নের লড়াইয়ে জিতেছে আর্জেন্টিনাই। চারবারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ইতালিকে ২-০ গোলে হারিয়েছে দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়লেও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলেছে ইতালি। অবশ্য শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বুফনের দলটিকে। অন্যদিকে বদলি হিসেবে নেমেই দুর্দান্ত এক গোল করেন সেভিয়ার ফুটবলার এভার বানেগা। অন্য গোলটি করেন লানজিনি।

ম্যাচের আগেই আর্জেন্টিনা শিবিরে দুঃসংবাদ হয়ে আসে লিওনেল মেসির উরুর চোট। এই চোটের কারণে মেসিকে ছাড়াই একাদশ সাজাতে বাধ্য হন আর্জেন্টিনা কোচ।

প্রথমার্ধ ম্যাড়মেড়ে খেলা খেলেছে আর্জেন্টিনা। তবে শেষভাগে বেশ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। বেশ কয়েকবার গোল করার সুযোগ পেলেও দৃঢ়তায় রুখে দেন ইতালির দেয়াল বুফন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণ করে খেলতে থাকে ইতালি। ম্যাচের ৪৮ ও ৬০ মিনিটে ইতালি পরপর দুটি গোল করার সুযোগ পেয়ে ব্যর্থ হয়। ম্যাচের এমন মুহূর্তে পারেদেসের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন বানেগা- বিবর্ণ খেলা ফিরে পায় প্রাণ।

ম্যাচের ৭৬ মিনিটে লো সেলসোর ক্রস থেকে ডি বক্সের বাইরে থেকে অসাধারণ এক গোল করে বুফনকে ফাঁকি দিয়ে দলকে এগিয়ে দেন বানেগা। ৮৫ মিনিটে আবারো আর্জেন্টিনার গোল। এবার হিগুয়েনের পাসে লানজিনি পরাস্ত করেন বুফনকে। তাই সহজেই ২-০ ব্যবধানে জিতে মাঠ ছাড়ে সাম্পাওলির দল।

দুর্দান্ত এই জয়ে বিশ্বকাপের প্রত্যাশা বেড়ে গেল আর্জেন্টিনার। হোক প্রীতি ম্যাচ তবুও মেসি, রোমেরোবিহীন দলটার আত্মবিশ্বাসী হওয়ার জন্য জয়টা যে খুবই দরকার ছিল।

জেড