গত অক্টোবরে এমএলএসের ক্লাব ওরল্যান্ডো সিটির হয়ে শেষ ম্যাচ খেলেছিলেন রিকার্ডো কাকা। সে সময়ই বিদায়ের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এই ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি!
পাকাপাকিভাবে বুটজোড়া তুলে রাখার ঘোষণা দিলেন কাকা। ২০০২-তে ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম সদস্য শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবল থেকে সরে গিয়েছিলেন আগেই।
ব্রাজিলের এক ফুটবল ম্যাগাজিনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশটির বিশ্বকাপজয়ী এই প্লে মেকার বলেছিলেন, ‘পঁয়ত্রিশে এসে এখন আর শরীর সাড়া দিচ্ছে না।
প্রতি ম্যাচের পরই শরীরে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করছি। আগের মতো আর নিজেকে ফিট রাখতে পারছি না।’
অবশেষে পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় বলে দিলেন কাকা। বিদায়বেলায় রোববার সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম টুইটার ও ইনস্টাগ্রামের পোস্টে তিনি লিখেছেন।
নিজের ধর্মভীরু সত্তারই প্রকাশ ঘটিয়েছেন কাকা, ‘পিতা, তোমাকে ধন্যবাদ। আমি যা ভেবেছিলাম, এটা তার চেয়ে অনেক বেশি ছিল। পরবর্তী সফরের জন্য আমি তৈরি। যিশুর নামে, আমিন।’
এক বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারেরই ইতি টানলেন ব্রাজিলের এই সুপারস্টার। ২০০২-তে বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি ২০০৫ ও ২০০৯ সালে কনফেডারেশনস কাপ জিতেছেন তিনি। ক্লাব ফুটবলে এসি মিলানের হয়ে সিরি আ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন।
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে জিতেছেন লা লিগা ও কোপা দেল রে। ২০০৭ সালে মিলানকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতিয়েছিলেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে।
সে বছর ব্যালন ডি’অর ও ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড় মনোনীত হয়েছিলেন কাকা। ২০০৯ সালে কনফেডারেশনস কাপের সেরা খেলোয়াড় হয়ে জিতেছিলেন গোল্ডেন বল।
মাঠের খেলা ছাড়লেও ফুটবলের সঙ্গেই থাকবেন কাকা। কোচ হিসেবে যোগ দিতে পারেন তাঁর প্রিয় ক্লাব এসি মিলানেই। ব্রাজিলের গ্লোবো টিভিকে তিনি বলেছেন, ‘আমি ক্লাবের হয়ে অবদান রাখতে চাই, হয়তো ম্যানেজার, স্পোর্টিং ডিরেক্টর, এমন কেউ যে মাঠ ও ক্লাবের মাঝেই থাকবে।
পেশাদার ফুটবলার হতে আমি অনেক পরিশ্রম করেছি। নতুন দায়িত্বের জন্যও তৈরি হতে চাই।’ এসি মিলান ইতিমধ্যেই তাঁকে একটি চাকরির প্রস্তাব দিয়েছে, যদিও সেখানে তাঁর দায়িত্ব সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। সূত্র: গোল ডটকম, দ্য গার্ডিয়ান।
এএস





