ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে বিশাল ব্যবধানে পরাজয় এবং টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে সেমিফাইনালের আগেই ছিটকে পড়ার জন্য পাকিস্তান টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের নেতিবাচক মনোভাবকে দায়ী করেছেন আক্রমণাত্মক অলরাউন্ডার শহিদ আফ্রিদি। এদিকে, বাজে পারফরম্যান্সের দায়ভার নিয়ে টি-২০'র অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মোহাম্মদ হাফিজ।
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৮৪ রানে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ে দলের সঙ্গে দেশে ফিরে আফ্রিদি বলেন, জয়ের জন্য দলের লক্ষ্য মাত্রাটা কঠিন ছিল না।
জয়ের জন্য ১৬৭ রানের লক্ষ্য মাত্রা নিয়ে খেলতে নেমে ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান ৫.৩ ওভারে মাত্র ১৩ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ফেললে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে।
করাচি বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের আফ্রিদি বলেন, ‘প্রথম ছয় ওভারে আমাদের নেতিবাচক মনোভাবের কারণে আমরা ম্যাচ হেরেছি।’
ম্যাচে ১৭তম ওভারের আগ পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ছিল ৫ উইকেটে ১০৭ রান। তবে উমর গুল, সাঈদ আজমল এবং সোহেল তানভিরের করা শেষ তিন ওভারে অধিনায়ক ড্যারেন সামি ও ডোয়াইন ব্রাভো ৫৯ রান তুললে শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে ১৬৬ রান সংগ্রহ করে ক্যারিবীয়রা।
আফ্রিদি বলেন, ‘এটা এমন কোন বড় রান ছিল না, যা টপকানো আমাদের জন্য অসম্ভব ছিল। কিন্তু প্রথম ছয় ওভারে আমাদের ব্যাটিংয়ের কারণেই ম্যাচে আমাদের হাত থেকে ফসকে গেছে।’
অবশ্য টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছেও সাত উইকেটে পরাজিত হয়েছে পাকিস্তান। স্বাগতিক বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দু’টি জয় পায় তার দলটি।
নির্বাচকরা কামরান আকমল এবং শোয়েব মালিককে টি-২০ বিশ্বকাপ দলে ডেকেছিলেন। কিন্তু অভিজ্ঞ উভয় খেলোয়াড়ের কেউই কোন প্রভাব সৃষ্টি করতে পারেনি। চার ম্যাচে দু’জনের রান যথাক্রমে ৪৮ এবং ৫২।
ব্যাট হাতে ৮৬ এবং বল হাতে চার উইকেট লাভ করায় তাদের তুলনায় আফ্রিদির পারফরমেন্স কিছুটা ভাল ছিল।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে এশিয়া কাপের আগে ডেভ হোয়াটমোরের কাছ থেকে দলের কোচের দায়িত্ব নেয়া মঈন খান বলেন, দলের পারফরমেন্সর পোস্টমর্টেম করার পর ক্রিকেট বোর্ডের কিছু ‘কঠিন সিদ্ধান্ত’ নেয়া দরকার।
পাকিস্তান দলের পরবর্তী সূচি আগামী অক্টোবরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ। অসিদের বিপক্ষে একটি টি-২০, তিনটি ওয়ানডে এবং দু’টি টেস্ট ম্যাচ খেলবে পাকরা।
ওয়ানডে এবং টি-২০ দলের অধিনায়কত্ব গ্রহণ করতে ইচ্ছুক কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আফ্রিদি বলেন, ‘যে কোন চ্যালেঞ্জ গ্রহণে আমি প্রস্তুত। একজন খেলোয়াড় হিসাবে অধিনায়কত্ব কোন বিষয় নয়। তবে অনেক কিছুরই উন্নতি ঘটাতে হবে।’ সূত্র: বিএসএস
[b]ঢাকা, ০৪ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি) //এমএ[/b]