খুলনায় দ্বিতীয় টেস্টে জিম্বাবুয়েকে ১৬২ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এমন জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ দল। এমন জয়কে খুলনার প্রয়াত কৃতি ক্রিকেটার মানজারুল রানাকে উৎস্বর্গ করেছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।
২০০৭ সালের ১৬ মার্চ নিজ শহর খুলনায় মর্মান্তিক এক সড়ক দূর্ঘটনায় প্রাণ হারান মারজারুল রানা। ১৯৮৪ সালে জন্ম এই খেলোয়াড় পেশাদার খেলোয়াড়ী জীবনে যখন পা দিয়েছিলেন তখনই মোটরবাইক দূর্ঘটনায় প্রাণ হারান। জাতীয় দলের হয়ে ৬ টেস্ট এবং ২৫টি একদিনের ম্যাচ খেলা এই তরুণ না ফেরার দেশে চলে গেলেও রেখে গিয়েছেন অম্লাণ কিছু পারফরমেন্স।
জিম্বুাবুয়ের হারারে মাঠে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে অভিষেক হয় রানার। ৬ টেস্ট ম্যাচ খেলা এই তরুণ মাত্র ৫ উইকেট নিয়েছিলেন। তবে ৬ টেস্টের ১১ ইনিংসে রান করেছেন ২৫৭। সর্বোচ্চ করেছিলেন ৬৯ রান ভারতের বিপক্ষে জাতীয় দলের রঙ্গিণ জার্সি জড়িয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডেতে অভিষেক হয়েছিল তার। ২৫টি একদিনের ম্যাচ খেলে রান করেছেন ৩৩১ এবং বল করে উইকেট নিয়েছিলেন ২৩টি।
২০০৩ সালে চট্টগ্রামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মানজারুল ইসলামের ওয়ানডে অভিষেক হয়। সে সময়ের কোচ ডেভ হোয়াটমোর মানজারুল ইসলাম রানার বোলিং এবং ব্যাটিং দেখে তাকে দলে যোগ করেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০০৫ সালের ওয়ানডে সিরিজে তার বোলিং বাংলাদেশের সিরিজ জয়ে দারুণ অবদান রাখে। ২০০৬ সাল পর্যন্ত দলে নিয়মিত হলেও ২০০৭ সালের বিশ্বকাপের আগে তিনি দলে অনিয়মিত হয়ে পড়েন। বিশ্বকাপ দল থেকেও বাদ পড়েন। জাতীয় দলের হয়ে বড় আসরের কোন টুর্নামেন্ট খেলতে পারেনি মানজারুল ইসলাম রানা।
২০০৭ সালের ১৮ মার্চ হাবিবুল বাশারের নেতৃর্তে যখন বাংলাদেশ ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপের মাঠে উপস্থিত সে সময়ে গোটা বিশ্ব স্মরণ করলো রানাকে। একজন টেস্ট ক্রিকেটারের মৃত্যুবরণে আইসিসি খেলা শুরুর আগে সেদিন পোর্ট অব স্পেন মাঠে এক মিনিট নিরাবতা পালন করে। সেদিনের প্রতিটি খেলোয়াড় রানার প্রতি নিজের খেলাকে উৎসর্গ করে ভারতের বিপক্ষে জয় ছিনিয়ে এনেছিল।
২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ চলাকালিন সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের পূর্ব পশ্চিমের গ্যালারি স্ট্যন্ড মানজারুল ইসলাম রানা স্ট্যান্ড হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
জেআই





