বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)’র সঙ্গে বৈঠকে অধিকাংশ দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়ে ধর্মঘট স্থগিত করেছেন ক্রিকেটাররা।
গতকাল (২৩ অক্টোবর) বুধবার রাতে বিসিবিতে ক্রিকেটারদের সঙ্গে সভার পর বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান জানান, শুক্রবার থেকে ভারত সফরের পূর্ব নির্ধারিত ক্যাম্পে যোগ দেবেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। শনিবার থেকে শুরু হবে জাতীয় লিগের তৃতীয় রাউন্ড।
সোমবার ধর্মঘটের ঘোষণা এসেছিল যার কণ্ঠে, সেই সাকিব আল হাসান জানান, ভারত সফরের প্রস্তুতি ক্যাম্পে যোগ দিচ্ছেন তারা। অন্যরা মাঠে ফিরছেন জাতীয় লিগ দিয়ে।
শুরুতে যে ১১ দফা দাবি উত্থাপন করেছিলেন ক্রিকেটাররা, তার ৯টিই মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বিসিবি প্রধান। ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণার মাধ্যমে দেশের ক্রিকেটে তিন দিন ধরে চলা অচলাবস্থা ও অনিশ্চয়তার অবসান হলো।
গতকাল সন্ধ্যায় বোর্ডের রাজস্বের ভাগ ও নারী ক্রিকেটারদেরও সমান সুযোগ-সুবিধার যে দুটি দাবি ক্রিকেটাররা নতুন করে তুলেছিলেন, সেটি নিয়ে আলোচনা হয়নি সভায়। এ দিনই দাবি দুটি করা হলো বলে এসব নিয়ে পরে ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনা করবে বোর্ড।
কোয়াবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগের দাবি সরাসরি পূরণ না হলেও উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে। সভাপতি নাঈমুর রহমান সভায় ক্রিকেটারদের জানিয়েছেন, সব ক্রিকেটারকে পাওয়া যাবে এমন সময় দেখে যত দ্রুত সম্ভব নতুন নির্বাচন দেবেন তারা।
আগের ১১ দফার সঙ্গে আরও ২ দফা যোগ করে বুধবার (২৩ অক্টোবর) একজন আইনজীবির মাধ্যমে বিসিবির কাছে চিঠি পাঠান ক্রিকেটাররা। এরপর বোর্ড কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে তারা রাতে যান বিসিবিতে।
আলোচনার শুরুতে নিজের ক্ষোভ প্রকাশের কথা নিজেই পরে জানালেন নাজমুল হাসান। তবে পরে সবকিছু ভালোভাবে হয়েছে বলেই দাবি বিসিবি প্রধানের। “আমার কাছে মনে হয়েছে, অত্যন্ত ভালো। ওদের কাছে হয়তো অত ভালো মনে হবে না, কারণ প্রথম দিকে আমার কিছু রাগ ছিল। পরের দিকে অবশ্য আর রাগ ছিল না। আলোচনা ভালো হয়েছে।”
আলোচনার ফল নিয়ে আপাতত ক্রিকেটাররা খুশি বলেই জানালেন সাকিব। এটি জানিয়ে রাখলেন যে আশ্বাসের পূর্ণ বাস্তবায়ন হলেই তারা কেবল পুরোপুরি সন্তুষ্ট হবেন। “পাপন ভাই (নাজমুল হাসান) বলেই দিয়েছেন যে সবগুলি আলোচনাই ফলপ্রসু হয়েছে এবং ভালোভাবে হয়েছে। আমাদের যে চাওয়া বা অনুরোধগুলো ছিল, এখানে সভাপতি ও বোর্ড পরিচালকরা শুনেছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে করে দেবেন।”
“এটা তো খেলোয়াড়রাই বলতে পারবে (কতটা সন্তুষ্ট)… আমার কাছে মনে হয়, বেশির ভাগ দাবি দাওয়াই তো পূরণ করতে বাকি নেই। অবশ্য এখনও তো বাস্তবায়ন হয়নি। বাস্তবায়ন হলে আমরা বলতে পারব যে খুশি কিনা। তবে এখনও পর্যন্ত যে আলোচনা হয়েছে, তাতে আমরা অনেক খুশি।”
ক্রিকেটারদের যে দাবিগুলি পূরণ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, সেগুলি একটি একটি করেই তুলে ধরলেন বোর্ড প্রধান।
“আমি আগেই বলেছিলাম যে দাবিগুলো বেশির ভাগই মানার মতো, ওরা এখানে এলেই হয়ে যাবে। আজকে সেটিই হয়েছে। প্রিমিয়ার লিগে প্লেয়ার্স বাই চয়েজ বাদ দিয়ে আগের মতো চলে যাওয়া, আমরা বলেছি ঠিক আছে। বিপিএল পরের বার ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক করা, আমরা বলেছি ঠিক আছে।”
ক্রিকেটারদের আর্থিক ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতেও কমতি রাখা হবে বলে জানালেন নাজমুল হাসান। “একটা বড় ব্যাপার নিয়ে সংশয় যেখানে ছিল, খেলোয়াড়দের কিছু সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো। পারিশ্রমিক বাড়ানো, ভাতা বাড়ানো ও খেলার সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো। আমরা এই ব্যাপারে কোনো কার্পণ্য করব না। অবশ্যই আমরা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো যায় কিনা, সেটি আমরা দেখছি।”
এমবি





