শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রথম দফার টিকাদান কর্মসূচিতে কিছু শিশু বাদ পড়েছিল। অনেক মা পরবর্তী সময়ে আর খবর পাননি। কেউ কাজের কারণে সন্তানকে নিয়ে আসতে পারেননি, আবার কেউ জানিয়েছেন সন্তান স্কুলে থাকায় টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এভাবেই কিছু শিশু টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়ে যায়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ১ কোটি ২৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও ১ কোটি ৮৯ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এরপরও পূর্ণ কভারেজ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে নতুন শিশুও যুক্ত হয়েছে। ফলে একটি ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ কারণে টিকা না পাওয়া কিছু শিশুর মধ্যে এখন হাম দেখা দিচ্ছে।

তিনি জানান, বাদ পড়া শিশুদের জন্য ইতোমধ্যে মপ-আপ ক্যাম্পেইন চালানো হচ্ছে। ২০ মে মূল ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার পরদিন থেকেই এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সিলেটেও লক্ষ্যমাত্রার বাইরে আরও ৩ হাজারের বেশি শিশুকে নতুন করে টিকা দেওয়া হয়েছে।

চলতি মাসের শেষদিকে আবারও পূর্ণাঙ্গভাবে একটি টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করতে চাই, বলেন তিনি।

সিলেটে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বান্দরবানেও টিকা কিছুটা কম পৌঁছেছিল। পরে সেখানে দ্রুত টিকা পাঠানো হয় এবং লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। সিলেটের হাওরাঞ্চলকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, শুক্রবার সব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নিয়ে দুটি বৈঠক করবেন। আগামী দুই দিনের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় মূল ক্যাম্পেইনের আগে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হবে।

অবৈধ চিকিৎসার বিরুদ্ধে অভিযান

গ্রামাঞ্চলে অবৈধ চিকিৎসা কার্যক্রমের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি জেলায় সিভিল সার্জনদের নেতৃত্বে এসব ক্লিনিক ও প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। জরিমানা করার পাশাপাশি অবৈধ প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে লেবার রুম নেই, সেগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, কিছু জায়গায় অবৈধ চিকিৎসক, ভুয়া সনদধারী ব্যক্তি ও টেকনিশিয়ান দিয়ে অস্ত্রোপচার করানো হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এসব কার্যক্রম পরিচালনায় আমি নিজেও ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছি। আমাদের একটু সময় দিতে হবে। অন্তত ছয় মাস সময় দিন, বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি বেড়েছে

চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতির বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত এক মাসে তিনি ২৫টির বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। প্রায় সব হাসপাতালেই চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকদের পাশাপাশি রোগীদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। রোগীরা জানিয়েছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর এবং হাসপাতাল পরিদর্শন শুরু হওয়ার পর চিকিৎসকদের আচরণে উন্নতি হয়েছে। হাসপাতালের খাবারের মানও আগের তুলনায় ভালো হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো হাসপাতালে সমস্যা থাকলে আগামী সাত দিনের মধ্যে তা সমাধানের চেষ্টা করা হবে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাবারের মান ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ সব বিষয়ে কাজ শুরু হবে। প্রশাসনও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

কোনো ভুল-ত্রুটি থাকলে ইনশাআল্লাহ তা সংশোধন করা হবে, বলেন তিনি।

এস