নদী উত্তাল, বন্ধ ৩টি ঘাট
ঘাট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ করে ওই এলাকায় ধেয়ে আসে তীব্র ঝড় আর সঙ্গে শুরু হয় ভারী বর্ষণ। ঝোড়ো বাতাসের কারণে নদী প্রচণ্ড উত্তাল হয়ে উঠলে ফেরি চলাচল বিপজ্জনক হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী মহা ব্যবস্থাপক মো. সালাহউদ্দিন জানান:
"দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে বহরে থাকা মোট ১৬টি ফেরির মধ্যে ১৫টি ফেরি দিয়ে সকাল থেকে পারাপার সচল রাখা হয়েছিল। ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ঘাট দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছিল। কিন্তু বেলা ১১টার দিকে হঠাৎ ঝড়ের তীব্রতা ও মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থে ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছি।"
ঘাট এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
এদিকে ফেরি চলাচল বন্ধের ঘোষণা আসার পর পরই পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া—উভয় প্রান্তের ঘাট এলাকায় পারাপারের অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের লাইন দীর্ঘ হতে শুরু করেছে। ঘরমুখো দূরপাল্লার বাস, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও শত শত মোটরসাইকেল ঘাটে আটকে পড়েছে। তীব্র বৃষ্টির কারণে গণপরিবহনে থাকা সাধারণ যাত্রী, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
ঘাটে আটকে থাকা দক্ষিণবঙ্গগামী কয়েকজন যাত্রী জানান, সকাল থেকে মহাসড়কে কোনো যানজট না থাকায় তারা খুব দ্রুতই ঘাটে পৌঁছাতে পেরেছিলেন। কিন্তু ঘাটে এসে আবহাওয়ার কারণে এভাবে আটকে যাবেন তা ভাবেননি। ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে বাসের ভেতরে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
আবহাওয়া স্বাভাবিক হলেই চালুর সিদ্ধান্ত
বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝড় ও বৃষ্টির তীব্রতা কমে নদী শান্ত না হওয়া পর্যন্ত ফেরি চলাচল পুনরায় শুরু করা সম্ভব নয়। তবে নদী ও ঘাটের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কুয়াশা বা ঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর কারও হাত নেই উল্লেখ করে তারা যাত্রীদের এই সাময়িক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়া মাত্রই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আটকে থাকা যাত্রীবাহী বাস ও ছোট গাড়িগুলো আগে পারাপার করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
এমএম