সরেজমিন গিয়ে চরবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ‘ভূমিদস্যু বাহিনী’ অসহায় মানুষের ফসলি জমি দখল করে নিচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে হুমকি, চাঁদা দাবি, এমনকি হামলারও শিকার হতে হচ্ছে। এরই মধ্যে বহু পরিবার জমিজমা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রতিকার না পেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জমি দখল আর চাঁদাবাজির ঘটনা আরও বেড়ে গেছে।

দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় সেখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি কম। আর সেই সুযোগেই প্রভাবশালী গোষ্ঠী এলাকায় দখল ও ভয়ভীতির রাজত্ব গড়ে তুলেছে।

‘আমি কলাবাগান করে সংসার চালাই। অথচ আমার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিল। আমি তাদের বলেছিলাম, আমাকে সময় দিন। আমার কলাবাগান করা আছে, বিক্রি করে আপনাদের চাঁদার টাকা দিয়ে দেবো। কিন্তু টাকা দিতে না পারায় আমার কলাগাছ কেটে ফেলে। নতুন একটি ট্রলার বানিয়ে রেখেছিলাম এনায়েতপুর বাজারে। সেই ট্রলার ভেঙে পুকুরে ফেলে দেয়। আমি এর বিচার চাই’—ভুক্তভোগী

আজিমনগর চরে গিয়ে কথা হয় কয়েকজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে। তাদের ভাষ্য, ‌জমি হারানোর ভয় আর নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে পুরো এলাকার মানুষের।

শিকারপুর গ্রামের বাসিন্দা লাল মিয়া বলেন, ‘সরকার পরিবর্তনের পর আমার ৯ বিঘা ফসলি জমি দখল করে নেয় শামসুদ্দিন মেম্বার। আমরা গরিব মানুষ, কার কাছে বিচার দেবো?’

এনায়েতপুর গ্রামের সোবহান খান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘৩০ বছর ধরে জমিটা চাষ করছি। আমার শ্বশুর এই জমি দিয়েছিলেন। সব কাগজপত্র আছে। তারপরও দুই বছর ধরে জমি দখল করে রেখেছে। বিচার চাইতে গেলে বলে আমিই (শামসুদ্দিন মেম্বার) সরকার।’

আরেক ভুক্তভোগী শেখ তাইজুদ্দিন বলেন, ‘দিনদুপুরে আমার দুই একর জমি দখল করে নিয়েছে। বাধা দিতে গেলে উল্টো ভয় দেখানো হয়।’

ভুক্তভোগী মুন্নাফ জমাদ্দার বলেন, ‘জমি দখলের পর বিচার চাইতে গিয়েছিলাম। তখন ৭০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে কোনো সমাধান হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়।’

‘৩০ বছর ধরে জমিটা চাষ করছি। আমার শ্বশুর এই জমি দিয়েছিলেন। সব কাগজপত্র আছে। তারপরও দুই বছর ধরে জমি দখল করে রেখেছে। বিচার চাইতে গেলে বলে আমিই (শামসুদ্দিন মেম্বার) সরকার’—ভুক্তভোগী

আরেক ভুক্তভোগী একই গ্রামের মতিয়ার। তিনি বলেন, ‘আমি কলাবাগান করে সংসার চালাই। অথচ আমার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিল। আমি তাদের বলেছিলাম, আমাকে সময় দিন। আমার কলাবাগান করা আছে, বিক্রি করে আপনাদের চাঁদার টাকা দিয়ে দেবো। কিন্তু টাকা দিতে না পারায় আমার কলাগাছ কেটে ফেলে। নতুন একটি ট্রলার বানিয়ে রেখেছিলাম এনায়েতপুর বাজারে। সেই ট্রলার ভেঙে পুকুরে ফেলে দেয়। আমি এর বিচার চাই।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে ওঠে। ওইসময় ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বেল্লাল হোসেনের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শামসুদ্দিন মেম্বার। তিনি বলেন, ‘যারা অভিযোগ করছেন তারা আওয়ামী লীগের লোক। এটা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। তদন্ত করলেই সত্য ঘটনা সবার সামনে আসবে।’

হরিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হান্নান মৃধা বলেন, ‘জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ সত্য নয়। যারা অভিযোগ দিয়েছেন তারা আওয়ামী লীগের নেতা।’

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির মুখপাত্র নুরতাজ আলম বাহার বলেন, ‘অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সিংগাইর সার্কেল) ফাহিম আসজাদ বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এমএম