সরেজমিনে জানা যায়, রাসেলের স্ত্রী শাহানাজ চার সন্তানকে নিয়ে একটি ভাঙাচোরা ঘরে বসবাস করছেন। পরিবারের কোনো স্থায়ী আয়ের উৎস নেই। স্বামীর মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই মাত্র ১৬ দিনের মাথায় মারা যান তার মা। ফলে সবচেয়ে কঠিন সময়ে একমাত্র আশ্রয়টুকুও হারান তিনি।
রাসেলের বৃদ্ধ মা মোমেনা আক্তার ও স্থানীয়দের ভাষ্য, অনেক দিন তিন বেলার পরিবর্তে একবেলা খাবার খেয়েই দিন পার করতে হচ্ছে পরিবারটিকে। সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ তো দূরের কথা, ঠিকমতো খাবারের সংস্থান করাও এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সংসারের অভাব দূর করতে ধারদেনা করে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন রাসেল। কিন্তু সেই স্বপ্ন তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ভেঙে যায়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী ও চার সন্তান এখন চরম সংকটে।
রাসেলের মৃত্যুর কয়েক দিন পর উপজেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা তার বাড়িতে গিয়ে ঈদ উপলক্ষে জামাকাপড়, খাদ্যসামগ্রী ও সামান্য নগদ অর্থ বিতরণ করেন। সে সময় সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং বিভিন্ন সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
তবে পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও উল্লেখযোগ্য কোনো সরকারি সহায়তা তারা পাননি। ফলে দিন দিন আরও অসহায় হয়ে পড়ছে পরিবারটি।
প্রতিবেশী আবু রায়হান বলেন, রাসেল মিয়ার পরিবার এখন চরম মানবিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং দেশের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোর দ্রুত এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানো উচিত।
এলাকাবাসীর দাবি, সাময়িক সহায়তার পাশাপাশি পরিবারটির স্থায়ী পুনর্বাসন, বিধবা ভাতা, শিশুদের শিক্ষা সহায়তা এবং নিয়মিত সরকারি সহযোগিতার ব্যবস্থা করা জরুরি। তাদের প্রশ্ন, দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা একজন প্রবাসীর মৃত্যুর পর তার পরিবার কি এভাবেই অনিশ্চয়তার মধ্যে বেঁচে থাকবে?
কান্নাজড়িত কণ্ঠে শাহানাজ বলেন, স্বামী চলে গেছে, এরপর মা-ও মারা গেলেন। আমার মা-বাবা, ভাই-বোন কেউ নেই। চারটা সন্তান নিয়ে কোথায় যাব, কীভাবে বাঁচব বুঝতে পারছি না। অনেক সময় সন্তানদের ঠিকমতো খাবারও দিতে পারি না। সরকারি সহযোগিতার আশায় আছি, কিন্তু এখনো তেমন কোনো সহায়তা পাইনি।
হোসেনপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মিছবাহ উদ্দিন মানিক বলেন, রাসেল মিয়ার পরিবার আজ চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান মানুষ ও মানবিক সংগঠনগুলোকেও দ্রুত এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানো উচিত। চারটি নিষ্পাপ শিশুর ভবিষ্যৎ রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।