বিদ্যুৎ বিভাগ মঙ্গলবার এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন এ প্রণোদনা কার্যকর হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বোচ্চ ব্যয় প্রতি ইউনিট ৮ টাকা ধরা হয়েছে। এর সঙ্গে উৎপাদন ব্যয়ের ওপর ২০ শতাংশ মুনাফা এবং ১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যোগ করে গ্রিডে সরবরাহ করা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে কোনো গ্রাহক নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে কম খরচে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে পারলে সাশ্রয় হওয়া অর্থ তার লাভ হিসেবে গণ্য হবে।

নেট মিটারিং নির্দেশিকা-২০২৫ অনুযায়ী, যেসব গ্রাহক ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করবেন, তারা এ সুবিধার আওতায় আসবেন।

নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে এসব গ্রাহক প্রতি ইউনিটে ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে প্রণোদনা পাবেন।

এ সুবিধা ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনকারীরা পরবর্তী তিন বছর পর্যন্ত গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের জন্য বিশেষ মূল্য পাবেন।

প্রণোদনার অর্থ নগদে দেওয়া হবে না। প্রতি তিন মাস অন্তর সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে বিদ্যুতের মূল্য জমা দেওয়া হবে।

এ জন্য বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো গ্রাহকের তথ্য এবং জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের পরিমাণ সংরক্ষণ করবে।

তবে ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির পর স্থাপন করা নতুন ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এ বিশেষ প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না।

প্রজ্ঞাপনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার ও মিটারসহ সব ধরনের যন্ত্রপাতি নির্ধারিত কারিগরি মান অনুযায়ী ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এসব যন্ত্রপাতিকে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (স্রেডা) নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে হবে।

সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও এ-সংক্রান্ত নীতিগত সহায়তার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে যোগাযোগ করা যাবে।

সরকারের আশা, এ উদ্যোগের ফলে দেশে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে। একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এটি ভূমিকা রাখবে।

এস