শুক্রবার (০৭ মার্চ) বিকেলে খিলগাঁও দক্ষিণ থানা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত বিশিষ্টজনদের সম্মানে ইফতার মাহফিল ও যাকাত শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন,জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের সদস্যদের মাসিক চাঁদা সংগঠনের মূল পুঁজি। জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র শিবির এই পুঁজির সঠিক ব্যবহার করে। ফলে সম্পদে বরকত হয়, সম্পদ বৃদ্ধি পায়। সাহাবীরা নিজেদের মাল ও জান আল্লাহর রাস্তায় যেভাবে কুরবানি করেছে একইভাবে এদেশে ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের জন্য ইসলাম পন্থী আল্লাহভীরু বিশিষ্টজনেরা জামায়াতে ইসলামীকে যেই অনুদান প্রদান করে তার একটি পয়সাও অপচয় হয় না কিংবা আত্মসাৎ হয় না।

তিনি আওয়ামী লীগের চাঁদা বাজির কথা উল্লেখ করে বলেন,ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের থেকে, টেম্পু স্ট্যান্ড থেকে, বাস-ট্রাক টার্মিনাল থেকে, লঞ্চ-ফেরি ঘাট থেকে আগে আওয়ামী লীগ চাঁদা তুলে যেভাবে নিজেরা-নিজেরা ভাগবাটোয়ারা করতো একই ভাবে এখন আরেকদল করছে। মিডিয়া মাঝেমধ্যে দেখা যায় চাঁদার টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে নিজেরা-নিজেরাই গোলাগুলি করছে, রামদা নিয়ে কোপাকুপি করছে। আওয়ামী লীগের কাছে যেমন দেশ ও জাতি নিরাপত ছিল না। এদের কাছেও দেশ ও জাতি নিরাপদ নয়। একটি নিরাপদ রাষ্ট্র বিনির্মাণে তিনি উপস্থিত বিশিষ্টজনদের ইসলামের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ২০২৫ সালই হতে পারে আগামীর বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারনের সাল। সেজন্য একটি কল্যাণ, মানবিক ও নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। কোন চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, দখলবাজ, দুর্নীতিবাজ, লুটপাটকারী দলের হাতে দেশ ও জাতির ভবিষ্যত তুলে দেওয়া যাবে না। ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি কল্যাণ, মানবিক ও নিরাপদ রাষ্ট্র গঠন করতে হবে।

এছাড়া তিনি যাকাতের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন,ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলে যাকাত গ্রহনকারী খুঁজে পাওয়া যাবে না ।ইসলামী রাষ্ট্রের অন্যতম কাজ হবে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে যাকাত আদায় করা। যাকাত ভিত্তিক অর্থনীতির মাধ্যমে সুদ ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্র বেরিয়ে আসলে রাষ্ট্রের সমৃদ্ধি হবে। ধনী-গরিবের বৈষম্য দূর হবে। ফলে ধনীরা যাকাত দিতে যাকাত গ্রহনকারী খুঁজে পাবে না। সমাজে যত অনাচার তার অন্যতম কারণ হচ্ছে আর্থিক বৈষম্য। আর্থিক বৈষম্য দূর করতে যাকাত বিধান। যাকাত প্রদানের মাধ্যমে সম্পদ পবিত্র ও পরিশুদ্ধ হয়। ধনী-গরিবের বৈষম্য দূর হয়। একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গঠিত হয়।

খিলগাঁও থানা আমীর সাজেদুর রহমান শিবলী’র সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী প্রফেসর খোরশেদ আলম মজুমদার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা ও মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য এবং খিলগাঁও জোন পরিচালক পরিচালক মাওলানা ফরিদুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সভাপতি কবির আহমদ। আরো বক্তব্য রাখেন মহানগরীর মজলিসে শূরার সদস্য ও খিলগাঁও পশ্চিম থানা আমীর এবং খিলগাঁও জোনের সহকারী পরিচালক মাহমুদ হাসান, মহানগরী মজলিসে শূরার সদস্য এবং জোন টীম সদস্য সালেহ আহমদ ও মোঃ শাহজাহান।

এছাড়া অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খিলগাঁও দক্ষিণ থানার কর্মপরিষদ সদস্য এ্যাডভোকেট ইব্রাহীম হোসেন খান, শেখ মো. মোতালেব, এ.এস.এম জহিরুল হক সেলিম, মাইদুল ইসলাম মুন্না, কুদরাতুল ফাত্তাহ আজমল, ইসাহাক মিয়া, মাহমুদ হাসান, আবিদুর রহমান, সাইফুল ইসলাম সরোয়ার, এবং ওয়ার্ড সভাপতিবৃন্দ যথাক্রমে ছামিউর রহমান শামীম, দেলোয়ার হোসেন, আবুল খায়ের, আমিনুর রহমান, নাসের মাহদী প্রমুখ দায়িত্বশীলবৃন্দ। ইফতার মাহফিলে খিলগাঁও থানা দক্ষিণস্থ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি