শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি জাতীয় দৈনিক ‘দি ডেইলি স্টার’ পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া এবং এর সম্পাদককে গ্রেফতারের হুমকিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক নেতারা।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)-এর পক্ষ থেকে দেয়া আজ (বুধবার) এক যৌথ বিবৃতিতে এই উদ্বেগ জানানো হয়।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থানকারীদের পক্ষ থেকে ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদককে দেয়া এই হুমকিতে সাংবাদিক নেতারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন শঙ্কিত বলেও যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুদ্দিন হারুন, সাধারণ সম্পাদক এম আব্দুল্লাহ এবং ডিইউজের প্রসিডেন্ট কবি আব্দুল হাই শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান।
উল্লেখ্য, দেশে জরুরী অবস্থা চলাকালে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই)-এর তথ্যের উপর ভিত্তি করে ডেইলি স্টার পত্রিকায় প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে এমন অভিযোগে সম্প্রতি মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে খুলনা ও লক্ষীপুরে মানহানী মামলা দায়ের করা হয়।
এর আগে শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় মাহফুজ আনামকে গ্রেফতারের দাবি জানান এবং পরবর্তীতে সংসদে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে ডেইলি স্টার পত্রিকা বন্ধের দাবি উঠে।
সাংবাদিক নেতারা তাদের বিবৃতিতে বলেন, একটি বিতর্কিত বিষয়কে কেন্দ্র করে একটি পত্রিকা বন্ধ করা এবং এর সম্পাদককে গ্রেফতারের হুমকি উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং গণমাধ্যমকে ভীত-সন্ত্রস্ত করার জন্যই এটা করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকারের দমন নীতির ফলে একের পর এক সাংবাদিকদের আটক ও নির্যাতন, গণমাধ্যম বন্ধ করে দেয়া এবং সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী হত্যার মতো একের পর এক ঘটনায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে হুমকিতে ফেলে দিয়েছে।
নতুন করে আবার ডেইলি স্টার পত্রিকা বন্ধ করা এবং এর সম্পাদককে আটকের হুমকির মধ্য দিয়ে আবারো সরকারের গণমাধ্যমবিরোধী মনোভাব দেশবাসীর কাছে প্রমাণিত হয়েছে বলেও বিবৃতিতে বলা হয়।
সাংবাদিক নেতারা দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদকে গ্রেফতারেরও নিন্দা জানান। তারা অবিলম্বে বন্ধ সকল গণমাধ্যম খুলে দেয়ারও দাবি জানান।
চলতি মাসের ৩ ফেব্রুয়ারি ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনান এক টকশোতে তার নিজের সম্পাদকীয় ক্যারীয়ারের মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেন, ২০০৭ সালের ১১ই জানুয়ারি দেশে জরুরী অবস্থার জারীর পর সেনা সমর্থিত মঈনুদ্দীন-ফখরুদ্দীনের শাসনামলে ডিজিএফআই-এর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনের সূত্রের সত্যতা সঠিকভাবে যাচাই করা হয়নি।
২০০৭ থেকে ২০০৮ সালের ওই শাসনামলে প্রায় সকল প্রথম সারির প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় শীর্ষ রাজনীতিবিদদের দুর্ণীতির প্রতিবেদন প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছিল মূলত ডিজিএফআই-এর দেয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে।
টকশোতে মাহফুজ আনামের দেয়া এমন মন্তব্যে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এবং ডেইলি স্টার পত্রিকা ও এর সম্পাদকের বিরুদ্ধে এটাকে একটি ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করে।
এদিকে, বুধবার (১০ ফ্রেব্রুয়ারি ২০১৬) ডেইলি স্টারে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, সম্পাদক মাহফুজ আনাম টকশোতে প্রকৃত অর্থে যা বলেছেন তা নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে এর মাধ্যমে তাকে হেয় করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে।
কেবি





