সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে গ্রেফতার করার পর তার মুক্তির জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে প্রতিবাদ। বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ নানাভাবে তাদের অভিমত ব্যক্ত করেছে।

জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই প্রবীর সিকদারকে গ্রেফতারের বিষয়কে সরকারের ‘বাড়াবাড়ি’ ও ‘অনৈতিক’ বলে মন্তব্য করেছেন।

প্রবীর সিকদারের ছেলে সুপ্রিয় সিকদার মঙ্গলবার ফেসবুকে লেখেন, ‘বাবা তোমাকে এ্যারেস্ট করে নেবার পর একদিনও চোখে জল আসেনি। একবারের জন্যও কষ্ট পাইনি। ভেঙ্গে পড়িনি একটিবারের জন্য।’

এই শিক্ষা তুমি আমাকে দিয়েছো। বিপদে তোমার দৃঢ় মনোবল আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে বিপদকে জয় করতে হয়।

তুমি জেলে। খেয়েছো কি খাওনি আমি জানি না। এটা নিয়েও কষ্ট হচ্ছে না। কারণ তুমিই শিখিয়েছো যে অনেক দুঃখী মানুষ পৃথিবীতে আছে যারা ১ মাস, ২ মাস অনাহারে কাটায়। আর তুমিতো মাত্র কয়েক দিন...!

তুমি ঘুমানোর জন্য বিছানা পেয়েছো কিনা তা নিয়ে আমার কষ্ট নেই, কেননা তুমিই সেই মানুষ যে কিনা ফুটপাতের মানুষের কষ্ট দেখে চোখে জল আনতে। আমার বিশ্বাস তুমি ফুটপাতের চাইতে ভালো জায়গায় আছো!

কষ্টটা হচ্ছে, আমি বেঁচে থাকতে তোমাকে কেউ নির্যাতন করছে আর আমি শুধু শুনছি আর দেখছি। কিছুই করতে পারছি না তোমার জন্য!!

আমাকে ক্ষমা করে দিও বাবা।’

রাজধানীর ইন্দিরা রোডের নিজ পত্রিকা কার্যালয় থেকে রবিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে প্রবীর সিকদারকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের বিরুদ্ধে রবিবার রাত ১১টার পর ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে মামলা করেন পূজা উদযাপন পরিষদ জেলা শাখার উপদেষ্টা ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাডভোকে স্বপন কুমার পাল। এরপর ওই রাতেই ডিবি কার্যালয় থেকে তাকে ফরিদপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সোমবার প্রবীর সিকদারকে বিকেলে ফরিদপুরের ১ নম্বর আমলি আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠান।

এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মঙ্গলবার প্রবীর সিকদারকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ার একদিন পর বুধবার জামিন দিয়েছে আদালত।

এএইচ