রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ তাদের হাজির করা হয়। এদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে মামলার অগ্রগতি তুলে ধরেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন।

শুনানিতে প্রসিকিউটর জানান, মামলায় পলাতক ৩০ আসামির মধ্যে ২০ জনকে তাদের ঠিকানায় গিয়ে পাওয়া যায়নি। তাদের নন-এক্সিকিউশন রিপোর্ট (এনইআর) প্রসিকিউশনের হাতে এসেছে। বাকি ১০ আসামির এনইআর এখনো পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া অন্য মামলায় গ্রেপ্তার থাকা হাসানুল হক ইনু ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাককে প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে এদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা সম্ভব হয়নি।

পরে ট্রাইব্যুনাল বাকি ১০ আসামির এনইআরসহ গ্রেপ্তার ১১ আসামিকে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর হাজির করার নির্দেশ দেন।

এর আগে গত ২৭ জুলাই এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। মামলায় মোট আসামি ৪১ জন। এর মধ্যে ১১ জন গ্রেপ্তার রয়েছেন।

এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের রাতের মধ্যেই শাপলা চত্বর থেকে সরিয়ে দিতে তৎকালীন সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই নির্দেশের পর পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে যৌথ বৈঠক হয়। সেখানে শাপলা চত্বর ও আশপাশের এলাকায় অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি পৃথকভাবে অভিযানের নাম দেয় ‘অপারেশন সিকিউরড শাপলা’, ‘অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট’ ও ‘অপারেশন ক্যাপচার শাপলা’। পরে অভিযানটি ‘অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট’ নামে পরিচিতি পায়।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, রাত আড়াইটার দিকে অভিযান শুরু হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড, স্মোক গ্রেনেড, টিয়ার গ্যাস ও রাবার-বল প্রজেক্টাইল ব্যবহার করে। একপর্যায়ে গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটে। এতে সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই রাতের অভিযান এবং পরদিনের হামলায় শাপলা চত্বর, মতিঝিল ও আশপাশের এলাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে পাঁচজন এবং কুমিল্লায় একজন নিহত হন।

মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া আরও ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সাবেক পুলিশ ও সামরিক কর্মকর্তা এবং কয়েকজন সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের ব্যক্তিও রয়েছেন।

গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন দীপু মনি, শামসুল হক টুকু, জিয়াউল আহসান, এ কে এম শহিদুল হক, শাহরিয়ার কবির, আব্দুল জলিল মণ্ডল, ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল হক বাবু। এছাড়া অন্য মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন হাসানুল হক ইনু এবং গ্রেপ্তার রয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক।

মামলার বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন।

এস