সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা। তিনি জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দুপুরে সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের কুন্দেরপাড়া চর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার সজল সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের ফলিয়া গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে। অপর আসামি সুলাইমান একই এলাকার সাইদুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে আল ইমরান মাদরাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাইমুন ইসলাম সাইম (১১) মাদরাসার বাইরে বের হলে সুলাইমান তাকে কৌশলে পুলবন্দি বাজারে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা সজল ও রবিউলসহ কয়েকজন তাকে চেতনানাশক খাইয়ে অটোরিকশাযোগে লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ধোপাডাঙ্গা গ্রামের রবিউল ইসলামের এক আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই বাসায় সাইমকে আটকে রেখে সজল, রবিউলসহ অজ্ঞাতনামা ৫ থেকে ৭ জন তাকে নির্যাতন করেন। পরে তার মা সুমি বেগম ও দাদি আছমা বেগমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে শিশুটিকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার পর সাইমের মা বিষয়টি মাদরাসার পরিচালক শাহ জালাল হোসেন রোস্তমকে জানান। পরে তার সহায়তায় অন্যরা ধোপাডাঙ্গা গ্রামের রবিউল ইসলামের ভাড়া বাসার একটি অন্ধকার কক্ষ থেকে শিশুটিকে হাত-পা বাঁধা ও অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে তাকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় ১৬ সেপ্টেম্বর শিশুটির মা সুমি বেগম বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৭ জনকে আসামি করে সদর থানায় অপহরণ মামলা করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার এসআই পিযুস চন্দ্র সরকার তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে সজল ও সুলাইমানকে গ্রেপ্তার করেন।

শিশুটির মা সুমি বেগম বলেন, অভিযুক্তরা তাদের পরিচিত। পরিকল্পিতভাবে তার ছেলেকে অপহরণ করে নির্যাতন করা হয়েছে এবং মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। তিনি মামলার সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সদর থানার ওসি নাজমুল হুদা বলেন, শিশু অপহরণ, নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবির মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে তারা সাইমকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানান তিনি। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এস