মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ মাঠে বিভাগীয় নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে জনসভার মঞ্চে উঠে দুই হাত নেড়ে সামনের সারিতে বসা দর্শকদের অভিবাদন জানান জামায়াতের আমির।
জামায়াতের আমির আরও বলেন, চোরেরা চুরি করে বাংলাদেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। আল্লাহ যেন তৌফিক দেন ওদের পেটের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে সেই টাকা নিয়ে আসতে পারি। এটা বাংলাদেশের বার্ষিক বাজেটের চারগুণ। দেশের টাকা বিদেশে নিয়ে রাজার আদলে বসবাস করবেন, আমরা তাদের ঘুম হারাম করে দেব। তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। দেশে মুরগি, গরু, চুরির জন্য মানুষকে পিটিয়ে মারা হয়, কিন্তু বড় বড় চোরদের কিছু হয় না। জামায়াত তা হতে দেবে না।
তিরি আরও বলেন, মানুষ বাংলাদেশের পরিবর্তন চায়। এবারের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন না। এবার দুটি ভোট, একটি হ্যাঁ। হ্যাঁ মানে আজাদী, না মানে গোলামী। হ্যাঁ ভোট মা-বোনদের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে। আপনারা প্রথম ভোটটা হ্যাঁতে দেবেন দ্বিতীয়টা ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীকে দিয়ে ইনসাফ কায়েম করবেন।
জামায়াতের আমির বলেন, ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এরকম একটা বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার পর দেশে কৃষি বিপ্লব হওয়ার কথা। গবেষণা করার জন্য যে পরিমাণ বাজেট দেওয়ার কথা তা দেওয়া হয়নি। তারপরেও এই বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে অনেক কিছু দিয়েছে। গবেষণার ক্ষেত্রে এই বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্য কোনো বড় বিশ্ববিদ্যালয় ধারে কাছেও ছিল না। যদি ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে এই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এশিয়া নয় বিশ্বের মধ্যে অন্যতম হবে। জাতি গঠন করতে হলে ভালো শিক্ষার প্রয়োজন। কিন্তু এই শিক্ষাকে পুঙ্গ বানিয়ে রাখা হয়েছে। সারাদেশে শিক্ষার বাজেট লোটপাট করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আগের ২৩ বছর, পরের ৫৪ বছর- এই ৭৭ বছর আমরা দেখেছি। আপনারা কি সেই পুরোনো রাজনীতি চান? চান না। তরুণ-তরুণী এমনকি শিশুরাও চায় না, মা-বোনরা চান না। এবার বাংলাদেশ পরিবর্তন চায়। এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহরকে স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়া তোলা হবে। নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে করা হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যুবসমাজ দেশের সম্পদ, তারা কোনো দয়া বা অনুদান চায় না। ২০২৪ সালের আন্দোলনে যুবকরা কি বেকার ভাতার জন্য প্রাণ দিয়েছিল? না, তারা বলেছিল আমরা কাজ করতে চাই, দেশ গড়তে চাই। আমরা যুবকদের হাতে অপমানজনক ‘বেকার ভাতা’ তুলে দেব না। বরং প্রতিটি বেকার যুবকের হাতকে শক্তিশালী ও কর্মক্ষম করে গড়ে তুলব, ইনশাআল্লাহ।
এস