নিহত দুই শিশু হলো—মুহাদ্দিস (৬) ও তুলনা আক্তার (৪)। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ও বুধবার সকালে সুনামগঞ্জ সদর ও শান্তিগঞ্জ থানা এলাকার দেখার হাওরের পৃথক স্থান থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে কামরুল হাসান গ্রামে গ্রামে ফেরি করে মসলা বিক্রি করেন। পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্ত্রী ও মায়ের সঙ্গে কয়েক দিন ধরে তার বিরোধ চলছিল।
এর মধ্যে গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান কামরুল। এরপর থেকে শিশু দুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
কয়েক দিন পর কামরুল একা বাড়িতে ফিরে এলে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। বুধবার সকালে স্থানীয় লোকজন ও চরনারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পরিতোষ দাস তার বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে কামরুল দুই সন্তানকে পানিতে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেখার হাওরের পৃথক স্থান থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিনুল ইসলাম জানান, দুই শিশুকে হত্যার অভিযোগে কামরুলকে স্থানীয়দের মাধ্যমে আটকের খবর পেয়ে পুলিশ তার গ্রামের বাড়ি থেকে হেফাজতে নেয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কামরুল দুই সন্তানকে দেখার হাওরের পানিতে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর কামরুল দুই সন্তানকে নিয়ে সিলেট শহরে যান। সেখানে কয়েক দিন অবস্থানের পর সোমবার বিকেলে সিলেটের কুমারগাঁও বাসস্টেশন থেকে দিরাইয়ের উদ্দেশে রওনা হন।
পথে ডাবর এলাকায় বাস থেকে নেমে প্রথমে মেয়ে তুলনাকে হাওরের পানিতে ফেলে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ছেলেকে নিয়ে পাগলা বাজারে গিয়ে একটি পানির বোতল ও ঘুমের ওষুধ কেনেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুটিকে ঘুমের ওষুধ মেশানো পানি পান করানোর পর দিরাইয়ের পথে বাস থেকে নেমে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে কোলে করে দেখার হাওরের পানিতে ফেলে দেন কামরুল।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি রতন শেখ জানান, দুই শিশুর মরদেহ আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
দিরাই থানার ওসি শেখ আমিনুল ইসলাম জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে কামরুলকে সুনামগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এস