রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) নির্বাচন আজ মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে। রসিক নির্বাচনে ২২৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮৬টি ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে কেন্দ্রগুলোতে যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানায় ইসি।
এদিন সকাল সাড়ে আটটা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এ ব্যাপারে ইসির যুগ্ম সচিব আসাদুজ্জামান বলেন, ভোটগ্রহণ ঘিরে কেন্দ্রে কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছে। প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্রে ১৫ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ৮৬টি কেন্দ্রে ১৬ জনের বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া আচরণবিধি নিশ্চিত করতে নিয়োগ করা হয়েছে ৩৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তারা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন। একইসঙ্গে নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধের বিচার করতে ১৬ জন ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে এক সম্মেলনে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে বক্তব্যে নির্বাচনী এলাকার ৮৬টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানান নির্বাচন কমিশনার বেগম রাশেদা সুলতানা।
বেগম রাশেদা সুলতানা জানান, সিসি ক্যামেরায় কোনো অনিয়ম দেখা গেলেই গাইবান্ধা-৫ আসনের মত ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন জানান, চিহ্নিত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, কোনো ধরনের সমস্যা যাতে সৃষ্টি না হয় সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি কেন্দ্র থাকবে সিসিটিভির আওতায়।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর থানাভিত্তিক অবস্থান জানা গেছে। এরমধ্যে কোতোয়ালী থানায় ৩৭টি, তাজহাট থানায় ৮টি, মাহিগঞ্জ থানায় ৯টি, হারাগাছ থানায় ৯টি, পরশুরাম থানায় ১৩টি এবং হাজিরহাট থানায় ১০টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে।
সূত্র জানায়, গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রেগুলোতে অন্যান্য কেন্দ্রের থেকে চারজন বেশি অস্ত্রসহ পুলিশ (একজন এসআই/এএসআই ও ৩ জন কনস্টেবল), দুইজন অস্ত্রসহ অঙ্গীভূত আনসার ও ১০ জন লাঠিসহ অঙ্গীভূত আনসার/ভিডিপি সদস্য (৪ জন মহিলা ও ৬ জন পুরুষ) মোতায়েন থাকবে।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো সম্পর্কে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার নুরে আলম মিনা বলেন, চিহ্নিত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে কয়েকদিন ধরে কাজ করা হচ্ছে, মনিটরিং করা হচ্ছে আলাদাভাবে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আমরা তৎপর রয়েছি।
এবারে রসিক নির্বাচনে মোট প্রার্থী রয়েছেন ২৬০ জন। মেয়র পদে নয়জন ও কাউন্সিল পদে রয়েছেন ১৮৩ জন। এছাড়া সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৬৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে আছেন, আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ-ইনু) শফিয়ার রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমিরুজ্জামান পিয়াল, খেলাফত মজলিশের তৌহিদুর রহমান মণ্ডল রাজু, জাকের পার্টির খোরশেদ আলম খোকন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের আবু রায়হান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসান বনি ও লতিফুর রহমান মিলন।
রংপুরে ৩৩টি ওয়ার্ডে মোট দুই লাখ ১২ হাজার ৩০২ জন পুরুষ এবং দুই লাখ ১৪ হাজার ১৬৭ জন নারী ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
এবিএস





